This Article is From Dec 25, 2018

অ-কংগ্রেসি, অ-বিজেপি ফ্রন্ট গঠন নিয়ে 'অস্বাভাবিক' নীরব রইলেন মমতা

বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে এই ফ্রন্ট নিয়ে যতটা সরব ছিলেন কে চন্দ্রশেখর রাও, ঠিক ততটাই নীরব থাকলেন মমতা।

জাতীয় স্তরের ক্ষমতায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলির জোট গড়ে আসার সমর্থক মমতা দীর্ঘদিন

নিউ দিল্লি:

তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে গতকাল নবান্নে বৈঠক হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দুই মুখ্যমন্ত্রী মুখোমুখি বসে অ-কংগ্রেসি এবং অ-বিজেপি ফেডারেল ফ্রন্ট গঠন করার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেন। যদিও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ-কংগ্রেসি এবং অ-বিজেপি জোট গড়ার লক্ষ্যের প্রতি বহু প্রশ্ন উঠে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। প্রশ্ন উঠেছে এই ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে। বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে এই ফ্রন্ট নিয়ে যতটা সরব ছিলেন কে চন্দ্রশেখর রাও, ঠিক ততটাই নীরব থাকলেন মমতা। গত কয়েকমাস ধরেই আঞ্চলিক দলগুলির একজোট হয়ে সরকার গড়ার ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত দিয়ে আসছেন মমতা। শেষ কয়েকমাসের মধ্যেই এই লক্ষ্য নিয়ে বহু বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে শরদ পাওয়ার, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে থেকে শুরু করে সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীও রয়েছেন। যাঁদের সঙ্গে চলতি বছরের অগস্ট মাসেই দেখা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

যদিও, গতকাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সময় তাঁর নীরবতা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। রাজনৈতিকমহলের মতে, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যে তিনি সম্পূর্ণ সহমত হতে পারছেন না ঠিক এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, তাঁর নীরবতার মাধ্যমে সেটাই বুঝিয়ে দিতে চাইলেন মমতা।

নবান্নে গতকাল দুই মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কে চন্দ্রশেখর রাও বলেন, "আমরা খুব তাড়াতাড়ি ফেডারেল ফ্রন্ট নিয়ে একটি সংগঠিত পরিকল্পনা করে আপনাদের সামনে হাজির হবো"। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য অ-কংগ্রেসি এবং অ-বিজেপি জোট গঠন। এই লক্ষ্য সুনিশ্চিত করতে যতদূর সম্ভব যাওয়া প্রয়োজন, আমরা যাব৷ ভুবনেশ্বরে গিয়ে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজু জনতা দলের সভাপতি নবীন পটনায়কের সঙ্গে ফেডারেল ফ্রন্ট নিয়ে বৈঠকের পর সোমবার তৃণমূল নেত্রীর মুখোমুখি হন কে চন্দ্রশেখর রাও। 

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে অ-কংগ্রেসি এবং অ-বিজেপি জোট গঠনের লক্ষ্যে উঠেপড়ে লেগেছেন সদ্য তেলেঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচন জিতে দ্বিতীয়বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া চন্দ্রশেখর রাও৷

এর আগে মার্চ মাসেও দু'জনের দেখা হয়েছিল। সেবারও কলকাতায় এসেছিলেন চন্দ্রশেখর রাও।

দলের সাংসদ ডেরেক'ও ব্রায়েন বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাত বারের সাংসদ, এখনও পর্যন্ত দুবারের মুখ্যমন্ত্রী, তিন বারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। তাই তাঁর কথা সবাই শুনতে চাইছেন। লোকসভা  নির্বাচনের আগে এটাই স্বাভাবিক বিষয়। তাঁর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই তিনি বলেছিলেন ভোট মিটলে জাতীয় রাজনীতিতে মন দেবেন। সেই মতো তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার  শপথ নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অংশে গিয়ে অ-কংগ্রেসি এবং অ-বিজেপি জোট গঠনের চেষ্টা শুরু করলেন কে চন্দ্রশেখর রাও। ওড়িশা হয়ে গতকালই কলকাতায় আসেন চন্দ্রশেখর।

 

 

 

.