‘‘১৫ দিন কেন এক মাস নিক’’: মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে বিজেপিকে খোঁচা শিবসেনার

দেবেন্দ্র ফড়নবিশকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে ক্রমশই জটিল হচ্ছে অঙ্ক।

সঞ্জয় রাউত নতুন করে চ্যাসেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিজেপির দিকে।

নয়াদিল্লি/মুম্বই:

মহারাষ্ট্র (Maharashtra) বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগেও সরকার গঠন নিয়ে ঐকমত্যে আসতে পারল না বিজেপি (BJP) ও শিবসেনা (Shiv Sena)। এই পরিস্থিতিতে এক শিবসেনা নেতা নতুন করে চ্যাসেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। সাংসদ সঞ্জয় রাউত জানালেন, বিজেপি সরকার গঠন করতেই পারে একক বৃহত্তম দল হিসেবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনে ১৫ দিন নয়, এক মাস নিক সময় তারা। শুক্রবার মধ্যরাত্রি সময় রয়েছে সরকার গঠনের জন্য। ২৪ অক্টোবর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ১৫ দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও মতানৈক্য মেটার কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয়নি সেনা-বিজেপি জোটের মধ্যে। বিজেপির সঙ্গে ক্ষমতা সমবণ্টনের দাবি শিবসেনার দাবি। এর মধ্যে রয়েছে মেয়াদের অর্ধেক সময় বিজেপি, অর্ধেক সময় শিবসেনার মুখ্যমন্ত্রীর দাবিও।

বিজেপি তাদের বিধায়কদের হস্তগত করার চেষ্টা করতে পারে, এই আশঙ্কায় মুম্বইয়ের এক হোটেলে সব বিধায়কদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শিবসেনার তরফে।

অযোধ্যা মামলার রায়দানের আগে উত্তরপ্রদেশের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধান বিচারপতি!

NDTV-কে সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, ‘‘একক বৃহত্তম দলেরই সরকার গঠনের সুযোগ প্রথম পাওয়া উচিত। সেই দল বিজেপি। ওদের ১৫ দিন, এক মাস সময় দেওয়া হোক, নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য।''

তিনি আরও জানাচ্ছেন, ‘‘যদি রাজ্যপাল একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপিকে সরকার গঠন করার প্রস্তাব দেন এবং তাদের দলের থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেন, তাহলে বিধানসভায় বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। তারা ব্যর্থ হলে অন্যরাও সুযোগ পাবে সরকার গঠনের। শিবসেনাও পাবে। কিন্তু এটাই সঠিক যে, বৃহত্তম দলই প্রথম সুযোগ পাবে।''

"আপনার পরিশ্রমই বিজেপিকে সংগঠিত করেছে": আদবানির জন্মদিনে মোদির শুভেচ্ছা

পাশাপাশি সঞ্জয় রাউত পরিষ্কার জানাচ্ছেন, ‘‘২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরেই আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম আমরা। কিন্তু কেন প্রশ্ন উঠল নতুন প্রস্তাবের, যেখানে লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই আমাদের মধ্যে চুক্তি হয়ে যায় ৫০:৫০ ক্ষমতা বণ্টনের? আচমকাই বিজেপি এই ফর্মুলাকে প্রত্যাখ্যান করল এবং জানিয়ে দিল এমন কোনও আলোচনাই নাকি হয়নি! যদি একজন বিজেপি নেতা, তাও এমন একজন যিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে রয়েছেন, এমন ভাষা প্রয়োগ করেন তা আমরা মেনে নিই কেমন করে?''

মহারাষ্ট্রে নতুন সরকার গড়া নিয়ে টালমাটাল পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রতিনিধি দল দেখা করেছিল রাজ্যপালের সঙ্গে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি চন্দ্রকান্ত পাতিল জানিয়েছেন, ‘‘মহাজুটি (বিজেপি-শিবসেনা জুটি) পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এবং তার উপরেই ভিত্তি করেই নতুন সরকার গঠিত হবে। আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে কী আইনি পদক্ষেপ করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি।''

দেবেন্দ্র ফড়নবিশকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে ক্রমশই জটিল হচ্ছে অঙ্ক।

সদ্যসমাপ্ত মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সর্বাধিক ১০৫টি আসন পেয়েছে। শিবসেনা পেয়েছে ৫৬টি আসন।

More News