বাংলাদেশে ফণীর ছোঁবল, কলকাতায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই, ১০ টি তথ্য

Cyclone Fani in West Bengal: গতকাল সকালে ওড়িশায় আছড়ে পড়ার পরে, মাঝরাতে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে এই ঘূর্ণিঝড়, রাজ্যে তেমন প্রভাব অবশ্য ফেলেনি এই ঝড়।

 Share
EMAIL
PRINT
COMMENTS
বাংলাদেশে ফণীর ছোঁবল, কলকাতায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই, ১০ টি তথ্য

মাঝরাতে ওড়িশা থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে ফণী

কলকাতা:  বিগত ২০ বছরে এই উপমহাদেশকে বিপর্যস্ত করে দেওয়ার মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী (Cyclone Fani) ওড়িশায় আট জনের প্রাণ কেড়েছে। গতকাল সকালে ওড়িশায় আছড়ে পড়ার পরে, মাঝরাতে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে এই ঘূর্ণিঝড়, রাজ্যে তেমন প্রভাব অবশ্য ফেলেনি এই ঝড়। তবে বাংলাদেশে ফের শক্তিশালী হয়েছে এই ঝড়। ইতিমধ্যেই ফণীর কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এই দেশের ১২ জন মানুষ। শুক্রবার বিকেল থেকে কলকাতায় এবং উপকূলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজ দুপুরের আগেই এই ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র কলকাতায় আঘাত হানবে বলে জানা যাচ্ছে। এরপর ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দিকে চলে যাবে, বাতাসের গতিও কমে হবে ৯০ কিমি/ঘণ্টা। শুক্রবার ওড়িশা জুড়ে ফণীর গতিবেগ প্রায় ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছেছিল। রাজ্যের বিপজ্জনক এলাকা থেকে প্রায় ১১ লাখ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাজস্থানের একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আমি ক্ষতিগ্রস্থ জনগণকে আশ্বাস দিচ্ছি যে দেশ ও কেন্দ্র তাদের সাথে রয়েছে।" তিনি আরও জানান, ফণী প্রভাবিত রাজ্যের জন্য আগাম ১০০০ কোটি টাকার তহবিল রাখা রয়েছে। "আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করেছেন, “ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী কেশরী নাথ ত্রিপাথীর সঙ্গে কথা বললাম। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদানের জন্য কেন্দ্র একেবারে প্রস্তুত। ঘূর্ণিঝড় ফণীর মোকাবিলার জন্য বাংলার জনগণের সঙ্গে রয়েছি আমরা।”
এখানে রইল ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়ে ১০ টি তথ্য:
  1. ঘূর্ণিঝড় ফণীকে এখন “অতি মারাত্মক” সাইক্লোনিক ঝড় বিভাগ থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ার পরে “খুব মারাত্মক” হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    2. শুক্রবার রাতে উপকূলীয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার আশ্রয়স্থলগুলিতে কমপক্ষে ১৫,০০০ জন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২০,০০০ হাজার মানুষ আশ্রয়স্থলে রাত কাটিয়েছেন। কলকাতা বিমানবন্দর নির্ধারিত সময়ে আজ সকাল ৮ টায় খুলেছে। রেললাইনে গাছ পড়ে যাওয়ায় এবং বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন থাকায় কিছু ট্রেন চালানো যায়নি।

    3. আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের উপমহাপরিচালক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তীব্র ঘূর্ণিঝড় ঝড়টি ফণী ওড়িশার বালাসোরের মধ্য দিয়ে রাত্রি সাড়ে ১২ টা নাগাদ বাংলায় প্রবেশ করে। খড়গপুরে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়েছে।”

    4. উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকের এই ঘূর্ণিঝড় আরও এগোতে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে এবং পূর্ব বর্ধমান-হুগলি সীমান্তে পৌঁছাবে। শনিবার বিকেলে নদিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে।”

    5. পশ্চিমবঙ্গের দিঘার সমুদ্র উপকূলের কিছু এলাকায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে; ফ্রেজারগঞ্জে বায়ুর গতিবেগ ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার। খড়গপুরে এখনও পর্যন্ত ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা আরও কয়েক ঘন্টা ধরে চলবে।

    6. শনিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে, এবং সন্ধ্যার দিকে আবহাওয়ার উন্নতি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আইএএনএস জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে কিছু জেলায় প্রশাসন তীব্র সতর্কতা অবলম্বন করে বিদ্যুৎ সংযোগ আগেই বন্ধ করে দেয়।

    7. ভারতীয় আবহাওয়া দফতর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ অতিক্রম করার পরেই এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারে ফণী। ত্রিপুরার আগরতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত বিমান পরিষেবা প্রভাবিত হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানান।

    8. ওড়িশায় পৃথক পৃথক ঘটনায় কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন বলেই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। পুরীতে গায়ে গাছ উপড়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরের। একটি কংক্রিটের কাঠামোর উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষ মাথায় ভেঙে নয়াগড় জেলায় একজন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রপাড়ায়, ৬৫ বছর বয়সী এক মহিলা নিরাপদ আশ্রয়স্থলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

    9. ১৯৯৯ সালের সুপার সাইক্লোন এ যাবত ছিল ওড়িশার সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোনিক ঝড়, যা প্রায় ১০,০০০ এর কাছাকাছি প্রাণহানি ঘটিয়েছিল এবং টানা ৩০ ঘন্টা ধরে ওড়িশা উপকূলে আঘাত করেছিল। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গত ৪৩ বছরের মধ্যে ভারতের মহাসাগরীয় অঞ্চলে এপ্রিল মাসে এ ধরনের তীব্রতার প্রথম ঘূর্ণিঝড় হল ফণী।

    10. ‘ফানি' নামটি ফণী হিসাবে উচ্চারিত হয়, এই নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত। ফণী শব্দের অর্থ সাপের মাথার ফণা।





পশ্চিমবঙ্গের খবর, কলকাতার খবর , আর রাজনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি, বলিউড আর ক্রিকেটের সকল বাংলা শিরোনাম পড়তে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

NDTV Beeps - your daily newsletter

................................ Advertisement ................................

................................ Advertisement ................................

................................ Advertisement ................................