কর ফাঁকির অভিযোগে ইন্দিরা গান্ধির জন্মস্থানকে ৪.৩৫ কোটি টাকার নোটিশ পাঠাল পৌরনিগম

পিএমসির প্রাক্তন মেয়র চৌধুরী জিতেন্দ্র নাথ সিং জানিয়েছেন যে, আনন্দ ভবনের উপর কিছুতেই কর আরোপ করা যাবে না। কারণ জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে সব ধরণের কর থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

কর ফাঁকির অভিযোগে ইন্দিরা গান্ধির জন্মস্থানকে ৪.৩৫ কোটি টাকার নোটিশ পাঠাল পৌরনিগম

করটি অনাবাসিক বিভাগের আওতায় আরোপ করা হয়েছে

প্রয়াগরাজ:

দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী যেখানে জন্মেছিলেন, সেই বাড়ির নাকি কর দেওয়া হয়নি গত ১৬ বছর ধরে! আর তাই চার কোটিরও বেশি অঙ্কের কর ধার্য করা হল উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের আনন্দভবনের (Anand Bhawan) উপর। এই ভবনেই জন্ম হয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির (former Prime Minister Indira Gandhi)। পৌর নিগমের (Prayagraj Municipal Corporation) তরফে ৪.৩৫ কোটি টাকা বাড়ির করের নোটিশ পাঠানো হয়েছে আনন্দভবনে। এক আধিকারিকের মতে করটি অনাবাসিক বিভাগের (non-residential category) আওতায় আরোপ করা হয়েছে এবং ২০১৩ সাল থেকে নাকি কর প্রদান করা হয়নি। আনন্দভবন গান্ধি পরিবারের আবাসস্থল এবং কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধির (Congress president Sonia Gandhi) নেতৃত্বে জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট (Jawaharlal Nehru Memorial Trust) এই ভবনটির পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুনঃ Indira Gandhi Birth Anniversary: প্রিয়দর্শিনীর কোন ৩ সিদ্ধান্ত বদলেছিল ভারতকে?

প্রয়াগরাজ পৌর কর্পোরেশনের প্রধান কর নির্ধারণ কর্মকর্তা পি কে মিশ্র সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন যে পৌর কর্পোরেশনের আইন ও সম্পত্তি কর বিধির আওতায় ওই নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।

“আমরা করের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি সমীক্ষা চালিয়েছি। আমরা এই মূল্যায়নের বিষয়ে আপত্তিও আহ্বান করেছিলাম কিন্তু কিছুই পাইনি। তারপরে আমরা আমাদের মূল্যায়ন চূড়ান্ত করে নোটিশ পাঠিয়েছি,” বলেন পি কে মিশ্র।

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে পিএমসির প্রাক্তন মেয়র চৌধুরী জিতেন্দ্র নাথ সিং জানিয়েছেন যে, আনন্দ ভবনের উপর কিছুতেই কর আরোপ করা যাবে না। কারণ জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে সব ধরণের কর থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ যে ঘরে জন্মেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, সেখানেই নির্বাচনী সফরে রাত কাটালেন প্রিয়াঙ্কা

“আনন্দ ভবনের উপর শুল্ক আরোপ করা ভুল। জওহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অধীনে এই ভবনটি ট্যাক্স থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিসৌধ এবং রাজনৈতিক স্মৃতির একটি সংগ্রহশালাও। এটি শিক্ষার একটি কেন্দ্র,” বলেন জিতেন্দ্র নাথ।

এই শহরের বাসিন্দা অভ্যা আওয়াস্থি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসাবেই এই কর আরোপ করেছে। তাঁর কথায়, “আনন্দভবন স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি মন্দির। কংগ্রেস-মুক্ত ভারত এবং নেহেরু মুক্ত বিশ্বের জন্য বিজেপি'র যে এজেন্ডা তার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই কর আরোপ করা হয়েছে। এটি সরকারের নির্দেশে করা হয়েছে,” বলেন তিনি।

More News