ম্যারাথন মিটিং শেষে কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি নির্বাচিত সনিয়া গান্ধী

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক: রাজ্য নেতৃত্ব এদিনের বৈঠকে যোগ দিয়েছে

 Share
EMAIL
PRINT
COMMENTS

কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি সকাল থেকেই সভাপতি বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে

নয়াদিল্লি:  দীর্ঘক্ষণ ধরে বৈঠক হল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সভাপতি হিসাবে নতুন কাউকে বেছে নিতে পারলো না কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা। আপাতত সনিয়া গান্ধীকেই কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়েছিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (Working Committee) বৈঠক। সন্ধ্যায় ফের বৈঠকে যোগ দেন সনিয়া গান্ধী। রাহুলকেই আরও একবার দলের হাল ধরার জন্য আবেদন করতে থাকেন নেতারা। কিন্তু, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন তিনি। তাই সনিয়া গান্ধীর দ্বারস্থ হন কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা। জানা গিয়েছে, রাহুলের পরিবর্ত না পাওয়া পর্যন্ত সনিয়াই কংগ্রেসকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
এখানে দেওয়া হল বিশেষ কিছু তথ্য:
  1. রাহুল গান্ধীকেই করা হোক সভাপতি। আবেদন দলের অন্যন্য নেতাদের। যদি আবেদন মানতে রাহুল রাজি না হন, তবে আনুষ্ঠানিক প্রধান হোন তিনি। দাবি অন্যান্য নেতাদের।
  2. জল্পনায় সবচেয়ে বেশি করে উঠে আসছে দুটি নাম- মল্লিকার্জুন খাড়গে ও মুকুল ওয়াসনিক। গান্ধী পরিবারের খুব কাছের ওয়াসনিক। খাড়গে প্রথম মোদী মন্ত্রিসভায় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।
  3.   দলের সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে দুপুরে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান সনিয়া গান্ধী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রাহুল এবং আমি উভয়ই পর পর দু'বার কংগ্রেসের সভাপতি ছিলাম। তাই আমাদের এই বৈঠকের অংশ হওয়া উচিত নয়। ওঁরা আমাকে ভুল করে জোনাল কমিটিতে রেখেছিল।'
  4. নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দলের পূর্ব জোনাল কমিটিতে সনিয়া গান্ধীকে স্থান দেওয়া হয়েছিল। পশ্চিম ভারতের জোনাল কমিটির অংশ হিসাবে রাহুল গান্ধীর নাম ঘোষণা করা হয়। মহারাষ্ট্র বৃহত্তম রাজ্য যেখানে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
  5. কংগ্রেসের সব রাজ্য নেতৃত্ব ও পরিষদীয় দল শনিবারের ওযার্কিং কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়েছে। কমিটিগুলি উত্তর, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্ব করছে। সভাপতি বাছতে নির্বাচন, নাকি মনোনয়ন হবে তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
  6. কোনও প্রার্থীকে সভাপতি হিসাবে বাছার আগে দলের সংবিধান অনুযায়ী সব দিক দেখা উচিত ভালো করে। সূত্রের খবর, শুক্রবার শুক্রবার কংগ্রেস নেতাদের এক বৈঠকে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, ‘রাজ্য নেতা ও আইনসভার সদস্যদের আরও পরামর্শ নিয়ে নতুন কংগ্রেস সভাপতির নির্বাচন করা উচিত।'
  7. এই বছরের শেষের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। নেতৃত্বের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ঢিলেমি বা ভুল হলে দলের অক্ষমতা প্রকট হবে। যা ওই নির্বাচনগুলি থেকে দৃষ্টিএই বিষয়টিকেই বেশি করে সামনে আনবে। যা দলের নেতা কর্মীদেরও বিচতলিত করছে। তাই সভাপতি নির্বাচন দ্রুত শেষ করার পক্ষে মত দেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা শশী থারুর।
  8. লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের বিপর্যয় হযেছে। সারা ভারতে কেবল ৫২টি আসন জিতেছে শতবর্ষব্যাপী এই দল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ৪৪টি আসন জিতেছিল। তার তুলনায় এই বৃদ্ধি নগন্য। রাহুল গান্ধী বিজেপির স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যান আমেঠিতে। যা গান্ধী পরিবার ও কংগ্রেসের নিজস্ব আসন বলেই বিবেচিত হত।
  9. ১৯শের লোকসভায় দলের পরাজযের দায় রাহুল গান্ধী ২৫ শে মে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ও তাঁর মা সনিয়া গান্ধী, বোন প্রিয়াঙ্কা শীর্ষ পদ গ্রহণের বিষয়টিও নাকচ করে দেন। জানিয়ে দেন, কংগ্রেসের দায়িত্ব এবার নেওয়া উচিত কোনও অ-গান্ধী নেতার।

  10. কংগ্রেসের ১৩৪ বছরের ইতিহাসে বেশিরভাগ সমযই গান্ধী পরিবারের কেউ নেতৃত্বে ছিলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যার পরে নব্বইয়ের দশকে বেশ কয়েক বছর বাদে অবশ্য অ-কংগ্রেসী নেতারা দলের দায়িত্বে ছিলেন। সীতারাম কেশরির নেতৃত্বে দল সাফল্য পায়নি। এরপর দলের বর্ষিয়ান নেতৃত্ব সনিয়া গান্ধীকে সংগঠনের দায়িত্ব নিতে রাজি করান।





পশ্চিমবঙ্গের খবর, কলকাতার খবর , আর রাজনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি, বলিউড আর ক্রিকেটের সকল বাংলা শিরোনাম পড়তে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

NDTV Beeps - your daily newsletter

................................ Advertisement ................................

................................ Advertisement ................................

................................ Advertisement ................................