This Article is From Apr 24, 2020

করোনাকে রুখতে পরীক্ষামূলক ড্রাগ 'রেমডেসিভির' মানবদেহে কাজ করতে ব্যর্থ

COVID-19: পরীক্ষামূলকভাবে মানব শরীরের উপর এই ড্রাগটি প্রয়োগ করা হয়, কিন্তু দেখা যায় ওই ওষুধটি করোনা সংক্রমণ রুখতে কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেনি

করোনাকে রুখতে পরীক্ষামূলক ড্রাগ 'রেমডেসিভির' মানবদেহে কাজ করতে ব্যর্থ

Remdesivir: মানবদেহে করোনা সংক্রমণ রুখতে ব্যর্থ হল এই ওষুধটি (প্রতীকী চিত্র)

হাইলাইটস

  • মানব শরীরে পরীক্ষায় ব্যর্থ মার্কিন ওষুধ ‘রেমডেসিভির’
  • ওষুধটি রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারেনি, তাই এর কার্যকরী ভূমিকা নেই
  • রেমডিসিভির খাওয়ার ফলে কয়েকজনের রোগীর মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে
নিউ ইয়র্ক:

করোনা ভাইরাসে ( Coronavirus) আক্রান্তদের চিকিৎসায় সম্ভাব্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ (Experimental Coronavirus Drug) রেমডেসিভির প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় কার্যকর হবে এই ওষুধটি ( Remdesivir)। কিন্তু একটি চীনা পরীক্ষায় রেমডেসিভির রোগীদের (COVID-19) সারিয়ে তুলতে সফল হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি খসড়া প্রতিবেদনে এই তথ্যটি প্রকাশ হয়েছে। হু-য়ের রিপোর্টে দেখা গেছে, রেমডেসিভির ওষুধটি রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটাতে বা রক্তপ্রবাহে প্যাথোজেনের উপস্থিতি কমাতে পারেনি। তবে ওষুধটি উৎপাদনকারী মার্কিন কোম্পানি গিলিড সায়েন্সেস বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নথিতে গবেষণাটিকে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। 

করোনা ভাইরাসের যম সূর্যালোক, চাঞ্চল্যকর দাবি মার্কিন বিজ্ঞানীদের

রেমডেসিভির ওষুধের নির্মাতা সংস্থা গিলেড সায়েন্স জানিয়েছিল ৫৫০০ রোগীর উপরে এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে আনেনি সংস্থা। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি রিপোর্টে এই ওষুধের ব্যর্থতার কথা সামনে চলে আসে। সূত্রের খবর, মানুষের শরীরে এই ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছিলেন চীনের বিজ্ঞানীরা। সেখান থেকেই খবর আসে রেমডেসিভির করোনা আক্রান্তদের শরীরে তেমনভাবে কার্যকরী হয়নি। এই ওষুধ খাওয়ানোর পরেও রোগীদের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২৩৭ জন রোগীর উপরে ট্রায়াল করে দেখা হয়েছে এই ওষুধ। ১৫৮ জনকে রেমডেসিভির খাইয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, বাকি ৭৯ জনকে ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। দেখা গেছে, রেমডেসিভির যারা খেয়েছিলেন তাদের শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। আবার ১৮ জন রোগীর মধ্যে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।

"করোনা সঙ্কটের সময় সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল স্ব-নির্ভরতা", বললেন প্রধানমন্ত্রী

করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এখনও পর্যন্ত সেভাবে কোনও অনুমোদিত ওষুধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কার্যকরী ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউটস অব হেলথও বেশ কয়েকটি ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। এরই একটি হলো রেমডেসিভির ওষুধ। গিলেড সায়েন্সেস-এর তৈরি এ ওষুধটি ইবোলার বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হলেও এতে সফলতা এসেছিলো খুবই কম। তবে বিভিন্ন পশুর শরীরে চালানো বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে কোভিড-১৯, সার্স ও মার্সসহ করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এই ওষুধ কার্যকরী। ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, রেমডেসিভির ওষুধটির করোনায় কাজ করার সম্ভাবনা আছে। এরপরেও মানুষের শরীরে এই ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়, কিন্তু পুরোপুরি ব্যর্থ হয় সেটি।

কেননা এক মাস পরে দেখা যায়, রেমডেসিভির গ্রহণকারীদের মধ্যে ১৩.৯ শতাংশ মারা গেছেন, এবং গোষ্ঠী সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই মৃত্যুর হার ছিল ১২.৮ শতাংশ। হু ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে যে, পরীক্ষার ফল নিয়ে পর্যালোচনা করার সময়ই ভুলবশত সেটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়ে পড়ে। 

.