This Article is From Aug 24, 2020

সনিয়া গান্ধিই আপাতভাবে সভাপতি! সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির

সোমবার সাত ঘণ্টার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপর ভোটা ভুটির মাধ্যমে নতুন সভাপতি বাছাই করা হবে

লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পরেই রাহুল গান্ধি দলের শীর্ষ পদ ছাড়েন, তারপরেই ৭৩ বছর বয়সী সনিয়া সাময়িকভাবে দলের হাল ধরেন

হাইলাইটস

  • আগামি ছয় মাসের জন্য কংগ্রেসের সভাপতি সনিয়া গান্ধিই
  • সাত ঘণ্টার বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত ওয়ার্কিং কমিটির
  • স্থায়ী সভাপতির দাবিতে দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট
নয়াদিল্লি:

আগামি ছয় মাস কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির পদ সামলাবেন সনিয়া গান্ধি। সোমবার সাত ঘণ্টার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপর ভোটা ভুটির মাধ্যমে নতুন সভাপতি বাছাই করা হবে। এদিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আপাত ভাবে সনিয়া গান্ধিকে সভাপতি হিসেবে কার্যভার সামলাতে প্রস্তাব পেশ করেন। অন্তর্বর্তীকালীন কংগ্রেস সভানেত্রীর পদে তিনি আর থাকতে চান না, রবিবারই দলকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন সনিয়া গান্ধি (Sonia Gandhi)। এই নিয়েই সোমবার দলের কার্যকরী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, এর আগে কংগ্রেসের ২০ জনেরও বেশি প্রবীণ নেতা একটি চিঠি দিয়ে দলের (Congress) জন্য "পূর্ণ সময়ের সভাপতি" নিয়োগের দাবি জানান। তারপরেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে যে, সনিয়া গান্ধি  এখনি পদত্যাগ করবেন নাকি নতুন সভাপতি সন্ধানে  দলকে  সময়সীমা দেবেন। এরপর, তড়িঘড়ি আজই (সোমবার) এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে কংগ্রেসের  সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি।

এদিকে, শনিবারই মোট ২৩ জন শীর্ষ নেতা একজন যোগ্য মুখ চেয়ে চিঠি লেখেন সনিয়াকে। একটি সূত্র বলছে, এর পরে নাকি ঘনিষ্ঠমহলে পদত্যাগের  ইচ্ছাপ্রকাশ করেন ইউপীএ চেয়ারপার্সন। এদিকে, রাহুল গান্ধি বলেছেন যে তিনি কোনওভাবেই কংগ্রেস সভাপতি পদে  আরফিরে আসতে চান না, বরং দলের হয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন আরএসএসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করবেন। সূত্র জানিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি ভাদরাও পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন যে, তিনি একজন সাধারণ সম্পাদিকা হিসাবেই থাকবেন, দলের শীর্ষপদের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক নন।  তবে  সম্প্রতি  প্রিয়াঙ্কা  ইঙ্গিত  দিয়েছিলেন, গান্ধি  পরিবারের বাইরে  থেকে কংগ্রেস সভাপতি  নিয়োগে উদ্যোগ  নেওয়া যেতেই পারে। তবে,যে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে তাতে স্বাক্ষর রয়েছে কপিল সিব্বল, শশী থারুর, গুলাম নবী আজাদ, পৃথ্বীরাজ চৌহান, বিবেক তানখা এবং আনন্দ শর্মার মতো প্রবীণ নেতাদের। দাবি করা হয়েছে, রাহুল গান্ধি যদি দলের সভাপতি পদ গ্রহণে ইচ্ছুক না হন তবে দলের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে উপযুক্ত নেতা বেছে নেওয়া হোক ৷ সংগঠনের শীর্ষনেতৃত্ব থেকে তৃণমূলস্তর,সব জায়গাতেই আমূল সংস্কারেরও দাবি তুলেছেন কংগ্রেসের ওই পোড়খাওয়া প্রবীণ নেতারাই ৷

দলের নেতৃত্বে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দলের কর্মীরা দিশাহীন পড়ছেন বলে সেই চিঠিতে দাবি করা হয়। চিঠিতে দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনেরও আহ্বান জানানো হয়।

এই চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পরে, সনিয়া গান্ধির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায় যে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পরেই রাহুল গান্ধি দলের শীর্ষ পদ ছাড়েন, তারপরেই ৭৩ বছর বয়সী সনিয়া সাময়িকভাবে দলের হাল ধরেন। কিন্তু নিজের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার কারণে কিছুদিন ধরেই তিনি দায়িত্ব ছাড়ার কথা বলছিলেন।

তবে এই চিঠি ঘিরে কংগ্রেসের মধ্যে বিভেদ চওড়া হয়েছে। কিছু নেতা যেমন নতুন মুখের পক্ষে। তবে, দলের তরফে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীরা, যেমন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং, ভূপেশ বাঘেল এবং সিদ্দারামাইয়ার মতো নেতারা রাহুল গান্ধির হয়েই কথা বলেছেন। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং রবিবার সন্ধ্যায় বলেন, "সনিয়া গান্ধির উচিত যতক্ষণ সম্ভব এই কাজ চালিয়ে যাওয়া; তারপর রাহুল গান্ধিকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।" 
ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল টুইট করেছেন: "সম্মানীয় সনিয়া জি এবং শ্রদ্ধেয় রাহুল জি যতক্ষণ আছেন ততক্ষণ প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমরা আশার আলো দেখি, আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি"।

সোমবারের নির্ধারিত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের আগে কেন এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে গান্ধি পরিবারের অনুগতরা প্রশ্ন তুলেছেন। অমরিন্দর সিং বলেছেন, "বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর বিরুদ্ধে দেশটির সাংবিধানিক নীতি ও গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস রুখতে এখন প্রবল বিরোধিতার প্রয়োজন, এই সময় এ জাতীয় ইস্যু তোলার সময় নয়।"

ইদানীং কপিল সিব্বল ও শশী থারুর-সহ বিভিন্ন প্রবীণ নেতারা দলের সংস্কারের জন্য চাপ দেওয়া শুরু করেন। রবিবার থারুর জওহরলাল নেহেরুর একটি উক্তি টুইট করেন, যাতে লেখা ছিল, "আবেগ এবং তাগিদ না থাকলে আশা এবং প্রাণশক্তি ক্রমশ কমে যেতে থাকে, অস্তিত্বের অবনতি ঘটে, অস্তিত্বহীনতার আশঙ্কা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। আমরা অতীতের কাছে বন্দি হয়ে আছি এবং এই অচলতা আমাদের ঘিরে ধরছে"।

একে তো রাহুল গান্ধি নতুন করে দায়িত্ব নিতে চান না, তার উপর সনিয়াও জানিয়ে দিয়েছেন বর্তমান স্বাস্থ্যের প্রেক্ষিতে তাঁর পক্ষেও আর কাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঘোরতর নেতৃত্বে পড়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের তরুণ নেতারা মনে করছেন দলের সিদ্ধান্তহীনতার ফলেই জনসমর্থন কমছে। এই অবস্থা থেকে যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসা যাবে ততই কংগ্রেসের জন্য মঙ্গলদায়ক, মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে, দলীয় সূত্রে খবর সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলার জন্য অনেক নেতা রাহুল গান্ধির ভর্ৎসনার মুখে পড়েছেন। এভাবে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে বেরনোয় লাভ হচ্ছে বিজেপির। এভাষাতেই সেই নেতাদের সমঝে দিতে চেয়েছেন রাহুল। এই ভর্ৎসনার পরেই দলীয় ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন গুলামনবি আজাদ। টুইট করে ঘুরিয়ে রাহুলের অবস্থানের সমালোচনা করেন কপিল সিবাল। যদিও পরে বিতর্কে জড়িয়ে সেই টুইট মুছতে বাধ্য হন সিব্বল। কেন সেই টুইট তিনি মুছলেন, সেটাও স্পষ্ট করে পাল্টা টুইট করেন সিব্বল।

পাশাপাশি কংগ্রেস সূত্রে খবর, যেহেতু সেই চিঠিতে গুলামনবি ও সিব্বলের সাক্ষর আছে, তাই প্রথম প্রতিক্রিয়া তাঁদের থেকেই এসেছে। কিন্তু সবটাই অস্বীকার করেছেন রাহুল ও তাঁর দল। এদিকে, সিব্বলের টুইট প্রসঙ্গে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সূরজেওয়ালা টুইটে বলেন, "এ ধরনের কোনও মন্তব্য রাহুল করেননি। তাই সংবাদমাধ্যমের প্ররোচনায় পা দিয়ে দয়া করে দলের ক্ষতি করবেন না। আমাদের সকলকে এক হয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। " এভাবে দলীয় মুখপাত্র সরব হতেই অবস্থান পাল্টান গুলামনবি আজাদ। তিনি পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেননি। এমনটাই সংবাদমাধ্যমকে জানান আজাদ। 

অন্যদিকে, কংগ্রেসের প্রাক্তন সোশাল মিডিয়া প্রধান দিব্যা স্পন্দনা চিঠিতে স্বাক্ষরকারী নেতাদের কাঠগড়ায় তুলেছেন। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের বিষয় বাইরে বেরোচ্ছে। এমনটাই অভিযোগ তাঁর। 
এই দোলাচলে আক্রমণের সুর চড়িয়ে বিজেপি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতী বলেন, "কংগ্রেসে গান্ধি নেহরু পরিবারের কর্তৃত্ব শেষ। এখন কে পদে বললো, কে বললো না। এসব ভিত্তিহীন। দলটাই শেষ।"
 

.