This Article is From May 07, 2020

কেমিক্যাল প্ল্যান্ট থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে মৃত কমপক্ষে ১১ জন, অসুস্থ বহু

LG Polymers gas leak: গ্রেটার বিশাখাপত্তনম পুর কর্পোরেশন টুইট করেছে,"গোপালপট্টমে এলজি পলিমারে ছিদ্র দেখা গেছে, সেখান থেকেই বিষাক্ত গ্যাস বাইরে এসেছে"

LG Polymers India: অন্ধ্রপ্রদেশে আরও বহু মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন

হাইলাইটস

  • অন্ধ্রপ্রদেশের কেমিক্যাল প্ল্যান্ট থেকে বের হল বিষাক্ত গ্যাস
  • বিশাখাপত্তনমের ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক শিশু সহ মৃত ৯
  • আরও বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা, করা হচ্ছে এমন আশঙ্কা
নয়া দিল্লি:

অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) বিশাখাপত্তনমের একটি কেমিক্যাল প্ল্যান্ট থেকে বিষাক্ত গ্যাস (LG Polymers gas leak) নির্গত হয়ে মৃত্যু হল কমপক্ষে ১১ জনের। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে দমকল, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ। উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে তারা। ওই কেমিক্যাল প্ল্যান্টের (Visakhapatnam Gas Leak) আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ওই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে একধরণের উদ্ভিদ থেকে নির্গত রাসায়নিক থেকেই ওই বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়েছে আর সেটিই কোনওভাবে বাইরের বাতাসে মিশে (Gas Leak) যাওয়াতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি হয়েছে। মৃত ১১ জনের মধ্যে একটি শিশুও আছে বলে খবর। এলাকার বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রায় ১,০০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেটার বিশাখাপত্তনম পুর কর্পোরেশন টুইট করেছে,"গোপালপট্টমে এলজি পলিমারে ছিদ্র দেখা গেছে, সেখান থেকেই বিষাক্ত গ্যাস বাইরে এসেছে"।

রাসায়নিক প্ল্যান্টটির আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন, এলজি পলিমার ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ওই প্লান্ট থেকে যে গ্যাস লিক হচ্ছে তা প্রথম টের পান এলাকার কাছাকাছি থাকা স্থানীয় বাসিন্দারাই। আরআর ভেঙ্কটাপুরাম গ্রামের বাসিন্দারাই জানান যে, তাঁদের চোখ হঠাৎ করে খুব জ্বালা করতে শুরু হয়েছে ও নিশ্বাস-প্রশ্বাসে ভয়ঙ্কর কষ্ট হচ্ছে। এরপরেই অসুস্থ হয়ে পড়া ওই ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গ্যাস লিক হওয়ার খবর টের পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গ্রেটার বিশাখাপত্তনম পুর কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে টুইট করে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার স্বার্থে তাঁদের ঘর থেকে বাইরে না আসার অনুরোধ করা হয়।

উদ্ধারকারীদের তোলা মোবাইল ভিডিওতে দেখা গেছে ওই এলাকায় কমপক্ষে ১০ জন ব্যক্তি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছেন। এর ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমের ওই প্ল্যান্টের মালিক এলজি চেম বলেন, “গ্যাস লিকের ফলে যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যারা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তাঁদের জন্যে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে"। আমরা কীভাবে ওই গ্যাস লিক হল এবং এর জেরে কতজনের মৃত্যু হয়েছে বা কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি।"

এদিকে গ্য়াস লিক হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি জানার পরেই শোকপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বিশাখাপত্তনমের বাসিন্দা সকলের সুরক্ষার জন্যেও প্রার্থনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইটে লেখেন, "বিশাখাপত্তনমের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, ওরা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন। আমি বিশাখাপত্তনমের প্রত্যেকের সুরক্ষা ও মঙ্গল কামনা করি।"

গ্যাস লিক হয়ে মানুষজনের মৃত্যুর খবরে শোকপ্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধিও। তিনিও টুইট করে তাঁর শোকবার্তা জানান।

১৯৬১ সালে হিন্দুস্তান পলিমার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটিকে ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এলজি কেম অধিগ্রহণ করে। তারপরেই এই সংস্থাটির নতুন নাম হয় এলজি পলিমারস ইন্ডিয়া। এই প্লান্টটি মূলত পলিসট্রিন তৈরি করে, যা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের প্লাস্টিকের খেলনা এবং অন্যান্য প্লাস্টিকের জিনিস তৈরি করা হয়।