This Article is From May 20, 2019

মার্কিন নৌবাহিনীর নাবিকদের তৈরি মহিলা সহকর্মীদের ‘ধর্ষণ তালিকা’ ফাঁস

প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, মহিলাদের শারীরিক গঠন, চরিত্রের বর্ণনা ছাড়াও আরও একটি ব্যাপার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর নাবিকদের তৈরি মহিলা সহকর্মীদের ‘ধর্ষণ তালিকা’ ফাঁস

সেই সময় ওই সাবমেরিনে ১৭৩ জন ক্রু সদস্যদের মধ্যে মহিলা ছিলেন ৩২ জন

মার্কিন নৌবাহিনীর সাবমেরিনে (US Navy submarine) থাকা নাবিকদের তৈরি এক তালিকার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেই তালিকায় মহিলা ক্রু সদস্যদের শারীরিক গঠন অনুযায়ী রীতিমতো ক্রমপর্যায় তৈরি করা হয়েছে! গত শুক্রবার মিলিটারি.কম (Military.com) ওয়েবসাইটে ওই তালিকা প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তথ্য জানার অধিকার আইনের দাবিতে ওই বিষয়টি সকলের সামনে আনা হল। 

সূদূরতম অন্য বিশ্বের মহাজাগতিক বস্তুর ছবি, ঠিক যেন গভীর ধ্যানমগ্ন কোনও মানুষ!

 মিলিটারি.কম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৪ পাতার তদন্ত প্রতিবেদনে দু'টি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তার একটিতে রয়েছে জাহাজে থাকা মহিলাদের ক্রমপর্যায়। অন্যটিতে প্রতিটি মহিলার নামের পাশে কুৎসিত ও যৌন অবমাননামূলক মন্তব্য করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউএসএস ফ্লোরিডা নামের ক্ষেপনাস্ত্র-নিক্ষেপকারী সাবমেরিনটিতে মহিলা সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এই ধরনের সাবমেরিনে মহিলাদের নিয়োগ করা হয়। চার মাস পরেই অসদাচরণের বিষয়টি সামনে আসে। ফ্লোরিডার দুই নাবিক ওই তালিকাদু'টি এক উচ্চ আধিকারিকের কাছে জমা দেন। মিলিটারি.কম জানাচ্ছে, ওই দুই নাবিক জানান, অন্তর্বর্তী কম্পিউটার নেটওয়ার্কে রাখা ছিল তালিকা দু'টি। তাদের নিয়মিত আপডেটও করা হত।

সেই সময় ওই সাবমেরিনে ১৭৩ জন ক্রু সদস্যদের মধ্যে মহিলা ছিলেন ৩২ জন।

মিলিটারি.কম ওই দু'টি তালিকাকে ‘ধর্ষণের তালিকা' আখ্যা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, মহিলাদের শারীরিক গঠন, চরিত্রের বর্ণনা ছাড়াও আরও একটি ব্যাপার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোন মহিলার সঙ্গে কেমন ভাবে যৌনতা করতে ইচ্ছুক তারা সেকথাও লিখে রেখেছে তালিকা প্রস্তুতকারীরা। এর মধ্যে কারও কারও সঙ্গে বলপূর্বক যৌন সক্রিয়তার ইচ্ছার কথাও লেখা রয়েছে। তবে সাবমেরিনের নেটওয়ার্ক খুঁজেও কোনও তালিকাতে ‘অসম্মতিসূচক যৌনতা'র খোঁজ পাননি কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন গ্রেগরি কার্চার। পাশাপাশি নৌবাহিনীর অপরাধ-তদন্তকারী সংস্থার ফরেনসিক পরীক্ষাতেও তেমন কিছু মেলেনি। 

চীনের ‘বউ বাজারে' ক্রমেই বাড়ছে পাকিস্তানি মেয়েদের কেনাবেচা, গন্তব্য পতিতালয়

জুনের প্রথম দিকে ওই তালিকা হাতে আসার পরে সংশ্লিষ্ট অফিসাররা সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানান। কার্চারও তখনই ওই অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন। তদন্তকারীদের দাবি, কার্চারের উপরমহল‌ের এক উপদেষ্টা, যিনি যৌন-অবমাননা প্রতিরোধের বিষয়টি দেখতেন ও নারী-পুরুষের সমানাধিকার সংক্রান্ত পদাধিকারী, তিনিই বিষয়টি জানান।

মিলিটারি.কম-এর দাবি, কার্চার ওই বিষয়ে কোনও তদন্তের নির্দেশ দেননি কিংবা তাঁর কমান্ডের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনাও করেননি। পরিবর্তে অভিযুক্ত ক্রু সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে দেন, যারা ওই তালিকাটি তৈরি করেছিল। প্রসঙ্গত, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর কাছে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি কার্চার।

সাবমেরিনটি ভারত মহাসাগরে থাকাকালীন কার্চার ছাড়াও নৌবাহিনীর অন্য অফিসাররা ওই তালিকার কথা জানতে পারেন এবং একটি তদন্ত শুরু করেন। তবে সেই তদন্ত কবে শুরু হয়েছিল, সেটা এখনও অস্পষ্ট নয়।

মিলিটারি.কম জানাচ্ছে, সেই তদন্তে কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গুজব শোনা যাচ্ছে, জাহাজের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। একজন মহিলা মিলিটারি.কম-কে জানিয়েছেন, তিনি জাহাজের সব পুরুষ সদস্যদেরই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন। আর একজন জানিয়েছেন, তিনি ওই তালিকার ছবি নিজের পরিবারকে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা করছেন নেতৃত্বের সদস্যরা হয়তো বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে দেবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল জেফ জ্যাবলন, যিনি ওই সাবমেরিনের দশম গ্রুপের কমান্ডার ছিলেন, তিনি মিলিটারি.কম-কে চিঠি লিখে জানান, উচ্চ আধিকারিকেরা কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তেমন কিছু কারও জানা নেই।

‘বহু মহিলাই নিজেদের সুরক্ষার ব্যাপারে সচেতন হয়ে গিয়েছেন।' তিনি লেখেন, ‘এবং পুরুষ সদস্যরাও ওই তালিকার কথা জেনে অস্বস্তিতে পড়েছেন।'

তদন্তের শেষে কার্চারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাঁচ মাস ওই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জ্যাবলন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কার্চার ওই ধরনের বিরাট পদের উপযুক্ত ছিলেন না।

মিলিটারি.কম-কে মার্কিন নৌবাহিনীর মুখপাত্র সারাহ সেলফ-কাইলার জানিয়েছেন, দু'জন নাবিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। যাঁরা বিষয়টিকে ঠিকভাবে গুরুত্ব দেননি তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, সমানাধিকার সংক্রান্ত বিষয়টিও ঠিকভাবে কার্যকর করা হয়নি।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক কমান্ডার অ্যাডমিরাল চাস রিচার্ড মিলিটারি.কম-কে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, ‘‘আমি এটা কখনও বলতে পারি না, যে এমনটা আবারও ঘটবে না। কিন্তু এটা আমি বলতেই পারি, আমাদের বাহিনীর চরিত্র ও স্বভাবের উচ্চ মান বজায় থাকবে।'' কেউ তা বজায় রাখতে অক্ষম হলে তার বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

.