This Article is From May 19, 2019

সূদূরতম অন্য বিশ্বের মহাজাগতিক বস্তুর ছবি, ঠিক যেন গভীর ধ্যানমগ্ন কোনও মানুষ!

এই বস্তুটিকে “2014 MU669” বলা হচ্ছে। এটি দেখতে খানিকটা ধ্যানমগ্ন মানুষের মতো। আল্টিমা থুল এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে দূরতম বিশ্বের অনুসন্ধান

সূদূরতম অন্য বিশ্বের মহাজাগতিক বস্তুর ছবি, ঠিক যেন গভীর ধ্যানমগ্ন কোনও মানুষ!

বস্তুটি দুটি স্পষ্টভাবে আলাদা আকারের লোব দিয়ে সংযুক্ত।

ওয়াশিংটন:

নাসার (NASA) নিউ হরাইজনস মিশন (New Horizons mission) দলটি সর্বকালের সবচেয়ে দূরের বিশ্বের প্রথম ছবিটি প্রকাশ করেছে। একটি প্ল্যানেটারি বিল্ডিং ব্লক এবং কুইপার বেল্ট (Kuiper Belt) অবজেক্টের ছবিটি ২০১৯ এর শুরুতেই আল্টিমা থুলে (Ultima Thule) তোলা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বস্তুটি দেখতে অনেকটা গভীর ধ্যানমগ্ন মানুষের মতো।

এই বস্তুটিকে “2014 MU669” বলা হচ্ছে। এটি দেখতে খানিকটা ধ্যানমগ্ন মানুষের মতো। আল্টিমা থুল এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে দূরতম বিশ্বের অনুসন্ধান – পৃথিবী থেকে প্রায় ৬.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে এটা অবস্থিত। বস্তুটি দুটি স্পষ্টভাবে আলাদা আকারের লোব দিয়ে সংযুক্ত। 

যত কাণ্ড কেদারনাথে! পিছনে বালিশ, পাশে হুক নিয়ে ধ্যান করছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রায় ৩৬ কিলোমিটার লম্বা আল্টিমা থুলে (Ultima Thule) একটি বড় অদ্ভুত সমতল বিশিষ্ট লোব (ডাক নাম আল্টিমা) রয়েছে, এটি একটি ছোট, কিছুটা গোলাকার লোবের (ডাকনাম নাম থুল) সাথে যুক্ত, যা ‘ঘাড়' নামেও পরিচিত। নাসা বলে, “কীভাবে এই দুইটি লোব অস্বাভাবিক আকৃতি পেল তা অসম্ভব এক রহস্য যা সম্ভবত কোটি কোটি বছর আগে গঠিত হয়েছিল।"

আল্টিমা এবং থুলের অক্ষগুলির সমন্বয় এই ইঙ্গিত দেয় যে, এক হয়ে যাওয়ার আগে দুইটি লোব তাত্ক্ষণিকভাবে জোড়া লেগে যায়, অর্থাৎ একই দিকেই একে অপরের মুখোমুখি ঘুরছিল তারা।

কলোরাডোর সাউথ ওয়েস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নিউ হরাইজন্স প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর অ্যালান স্টার্ন বলেন, “আমরা প্রাচীন সময়ের সুরক্ষিত অবশিষ্টাংশগুলির দিকে নজর রাখছি। কোনও সন্দেহই নেই যে আল্টিমা থুল সম্পর্কে যে গবেষণা চলছে তা সৌর জগত গঠনের তত্ত্বের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।” 

ভোটের মাঝে মোদির কেদারনাথ সফর ‘অনৈতিক ও অন্যায্য'; কমিশনকে চিঠি তৃণমূলের

নিউ হরাইজনস গবেষকরা আল্টিমা থুলের পৃষ্ঠের নানা বৈশিষ্ট্য, যেমন উজ্জ্বল দাগ এবং প্যাচ, পাহাড় এবং খাদ, এবং গর্ত সবই খতিয়ে দেখছেন। বৃহত্তম খাদ হিসেবে একটি ৮ কিমি প্রশস্ত বৈশিষ্ট্যকে এই দলটি নাম দিয়েছে মেরিল্যান্ড ক্র্যাটার।

আল্টিমা থুল খুব বড়- ২৪০০ কিলোমিটার প্রশস্ত প্লুটো। নিউ হরাইজন ২০১৫ সালে কুইপার বেল্টের ভেতরের দিকের প্রান্তে একে খুঁজে পায়। এর রঙ বড্ড বেশি লাল। এর লাল রঙটি তারই জৈব পদার্থের সংশোধনের ফলে সৃষ্ট বলেই মনে করা হয়।

নিউ হরাইজন বিজ্ঞানীরা আল্টিমা থুলের পৃষ্ঠে মিথানল, জল বরফ, এবং জৈব অণুগুলির প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। মহাকাশযান পূর্বে যা যা বরফের বস্তু খুঁজে পেয়েছে এটি বেশিরভাগের থেকেই খুব আলাদা।

নিউ হরাইজন মহাকাশযানটি এখন পৃথিবী থেকে ৬.৬ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে রয়েছে এবং কুইপার বেল্টে প্রায় ৫৩,০০০ কিলোমিটার গতিতে ঢুকে পড়ছে।

.