This Article is From Nov 11, 2019

কেন শিবসেনাকে অপেক্ষায় রাখলেন সনিয়া গান্ধি

সনিয়া গান্ধি এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপির দিকে এখন নজর, কীভাবে শিবসেনাকে সমর্থন করা হবে যখন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস

আদর্শগত বিরোধী শিবসেনাকে সমর্থন নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি কংগ্রেসের

নয়াদিল্লি:

মতে অমিল উপেক্ষা করেও, মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) শিবসেনাকে( Shiv Sena) সমর্থন জানানোর জল্পনা ঘোরাফেরা করছে, তারমধ্যেই এক পা পিছিয়ে গেল কংগ্রেস, বলা হয়েছে, এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সনিয়া গান্ধির (Sonia Gandhi) ওপরেই ছেড়ে দিয়েছে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। সনিয়া গান্ধি এবং শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) এনসিপির দিকে এখন নজর, কীভাবে শিবসেনাকে সমর্থন করা হবে যখন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। শরদ পাওয়ার বলেন, “যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তা কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে”, পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, বল রয়েছে কংগ্রেসের কোর্টে। এনসিপির( NCP) কোর কমিটির বৈঠকের পর, একই বিবৃতি দেন দলের এক নেতা।  

শিবসেনাকে সমর্থন কংগ্রেসের, মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে আমন্ত্রণ পেল এনসিপি

বিজেপির পর, বিকল্প নিয়ে আলোচনা করবে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। শিবসেনাকে সমর্থন করা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা অনিচ্ছুক সনিয়া গান্ধি, সেই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের আদর্শগত পরিবর্তন। কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “মহারাষ্ট্রের নেতারা যা চান, আমরা তা নিয়েই আলোচনা করব”। বিধায়কদের সঙ্গে মুম্বইয়ে আলোচনা করেন তিনি। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন সনিয়া গান্ধি।

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি ও শিবসেনা, তারপরেই তৈরি হওয়া জট কাটাতে ব্যর্থ হয় দুই দল, তারপরেই উঠে আসে এনসিপি ও কংগ্রেসের নাম।

শিবসেনার মতো হিন্দুত্ত্ববাদী এবং “কংগ্রেস বিরোধী” একটি দলকে সমর্থন, কংগ্রেসের পক্ষে খুব একটা মঙ্গলজনক নয়, তবে শিবসেনাকে সমর্থন দিয়ে একটি কমন কর্মসূচী তৈরি করতে চায় কংগ্রেস।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা শিবসেনা নেতার; মহারাষ্ট্র নিয়ে বৈঠকে এনসিপি-কংগ্রেস: ১০ টি তথ্য

বিধায়কদের যাতে কেনাবেচা না হয়, তারজন্য কংগ্রেস বিধায়কদের জয়পুরের একটি রিসোর্টে রাখা হয়েছে। মহারাষ্ট্রে অবিজেপি সরকারকে সমর্থন দিতে রাজি তাঁদের অনেকেই।সংবাদসংস্থা এএনআইকে কংগ্রেস নেতা অশোক চৌহ্বাণ বলেন, “আমাদের মধ্যে সমস্ত বিকল্প নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। তবে আমরা এখনও কিছু ঠিক করিনি”। তিনি বলেন, তাঁর দল, “মহারাষ্ট্রে একটি স্থায়ী সরকার চায়, রাষ্ট্রপতি শাসন নয়”।

কংগ্রেসের যে সমস্ত নেতারা শিবসেনাকে সমর্থনের পক্ষে, যুক্তি দিয়েছেন, গোয়া ও মণিপুরে বৃহত্তম দল না হওয়া সত্ত্বেও সরকার গড়েছে বিজেপি, এবং রাজ্যপালও এই ধরণের বিজেপি জোটকে আহ্বান জানিয়েছেন।

শিবসেনার জন্যও, কংগ্রেসের সমর্থন নেওয়া তাদের পক্ষে নিজেদের ক্ষতি।

মহারাষ্ট্রে সরকার গড়তে বিজেপির অস্বীকারের পর শিবসেনাকে সরকার গড়ার ডাক রাজ্যপালের

মহারাষ্ট্রের বিধায়কদের তরফে দিল্লির কংগ্রেস নেতাদের ওপর চাপ বাড়ছে, সেরাজ্যের নেতা সঞ্জয় নিরুপম সতর্ক করে দেন, এই সিদ্ধান্ত দলের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি ট্যুইটে লেখেন, “মহারাষ্ট্রের বর্তমান পাটিগণিতের হিসেবে, কংগ্রেস-এনসিপির পক্ষে সরকার গঠন করা অসম্ভব। তারজন্য আমাদের শিবসেনাকে প্রয়োজন। কোনও পরিস্থিতিতেই আমাদের শিবসেনার সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির চিন্তা করা চলবে না। সেটা দলের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে”।

এদিন সকালে, সঞ্জয় নিরুপম বলেন, “কে এবং কীভাবে, সরকার গঠন করল সেটা কোনও ব্যাপার নয়, এখন মাহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অকাল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। ২০২০ তে তা হতে পারে। আমরা কি শিবসেনার সঙ্গে জোটে ভোটে লড়তে পারি”?

আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলি দেখতে ক্লিক করুন:

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ১০৫টি আসনে পদ্মফুল ফুটেছে। শিবসেনার ঝুলিতে গিয়েছে ৫৬টি আসন, সংখ্যা গরিষ্ঠতা রয়েছে এনডিএ-এর। তবে ৫০-৫০ চুক্তি মা মানলে, এবং নির্দিষ্ট সময়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ না দিলে, সরকার গঠন করতে চায়নি শিবসেনা। সরকার গঠনের দৌড় থেকে বিজেপি সরে গেলে, এনসিপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে সরকার গঠনে অগ্রসর হয় শিবসেনা।