মাটিতে পা না ঠেকিয়ে কুম্ভে কঠোর সাধনায় ‘মাচান ওয়ালে বাবা’, দেখুন ছবি

মাচান ওয়ালে বাবা’র আসল নাম শ্রী মহান্ত রাম কৃষ্ণ দাস ত্যাগীজি মহারাজ। 'মাচান ওয়ালে বাবা' নাকি ১৯৭৫ সাল থেকে সাধনা (ধ্যান) অনুশীলন করছেন, এ এক এমন সাধনা যাতে তিনি মাটিতে পা ফেলবেন না।

মাটিতে পা না ঠেকিয়ে কুম্ভে কঠোর সাধনায় ‘মাচান ওয়ালে বাবা’, দেখুন ছবি

শ্রী মহান্ত রাম কৃষ্ণ দাস ত্যাগীজি মহারাজ তাঁর মাচান থেকেই সবাইকে আশীর্বাদ দেন

প্রয়াগরাজ:

“মাটিতে যাঁদের ঠেকে না চরণ, মাটির মালিক তাঁহারাই হন”। কিন্তু মালিক না হতে চেয়ে যদি সন্ন্যাসী হতে চান তাহলেও কি মাটিতে পা ঠেকানো মানা! মোহ মায়া ত্যাগ করে মোক্ষ লাভ করবেন বলে মাটিতেই পা না ঠেকিয়ে ৪৩ বছর ধরে সাধনা করছেন এই সাধু। কুম্ভমেলা মানে কেবলই তো ভক্ত সমাগম নয়, বিচিত্র সাধু সমাগমও। সাধনা করার এক একজনের এক এক রকমের পথ, কেউ এক পায়ে খাড়া হয়ে খাড়েশ্বর বাবা, কেউ মৌন ব্রত পালন করে মৌনী বাবা। উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে ২০১৯ সালের অর্ধকুম্ভ মেলাতে এমনই এক মনোযোগ আকর্ষণকারী ‘সাধু' হলেন মাচান ওয়ালে বাবা!

মাচান ওয়ালে বাবা'র আসল নাম শ্রী মহান্ত রাম কৃষ্ণ দাস ত্যাগীজি মহারাজ। 'মাচান ওয়ালে বাবা' নাকি ১৯৭৫ সাল থেকে সাধনা (ধ্যান) অনুশীলন করছেন, এ এক এমন সাধনা যাতে তিনি মাটিতে পা ফেলবেন না। মাটির সঙ্গে ন্যূনতম যোগাযোগ রেখেই তাঁর এই কঠিন সাধন অভ্যাস। মাটির সংস্পর্শে যাতে না থাকতে হয় তাই তিনি একটি ‘মাচান' বানিয়ে সেখানেই ঠাঁই নিয়েছেন। তিনি বলেন, “তিনি শুধুমাত্র তাঁর মাচান (মাটি থেকে উঁচু করে বানানো একটি মাচা) থেকেই সবাইকে আশীর্বাদ দেন, সকলের সঙ্গে কথা বলেন।”

গড়িয়াহাটে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই কাপড়ের দোকান-আবাসনের একাংশ

কুম্ভ মেলায় তাঁর বিশাল এই মাচা বা তাঁবু দৈনিক প্রায় ৫,০০০ জন দর্শনার্থীদের ২৪ ঘন্টা বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে। আরেকটি উদ্যোগ তিনি শুরু করেছেন এই মেলায়, তা হল তীর্থযাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান।

sr132hmoকুম্ভ মেলা ২০১৯: মাচান ওয়ালে বাবার ডেরায় দৈনিক প্রায় ৫,০০০ জন দর্শক আসেন। ২৪ ঘন্টা তাঁদের বিনামূল্যে সেবা প্রদান করা হয়।
 

কুম্ভমেলাতেই একমাত্র নাগা সন্ন্যাসীদের বিপুল সমাবেশ দেখতে পাওয়া যায়। মোহ ও মায়া মুক্তির মাধ্যমে মোক্ষলাভের উদ্দেশ্যে তাঁদের কঠোর সাধনার নিদর্শন পাওয়া যায় তাঁদের যাপন জুড়েই। কুম্ভ মেলা শুধুমাত্র ভারতীয় ভক্ত সমাগমের জন্যই নয়, বিদেশি পর্যটকদের জন্যও একটি আকর্ষণের কেন্দ্র। বিপুল এই সমাগমের সাক্ষ্মী থাকতে অনেকেই বিশ্বের সুদূর নানা প্রান্ত থেকে প্রয়াগরাজে জড়ো হন।

 

মঙ্গলবার শুরু হওয়া ৫৫ দিনব্যাপী কুম্ভ মেলা ৪ মার্চ শেষ হবে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ভক্ত সমাগম। ১৩ কোটি তীর্থযাত্রী এই উত্সবে অংশগ্রহণ করেন। গঙ্গা নদীর পবিত্র জলের একটি ডুবেই তাঁদের জীবনের সব পাপক্ষয় ঘটবে বলে বিশ্বাস করেই প্রতি কুম্ভে কোটি কোটি মানুষের সমাগমের সাক্ষ্মী হয়ে থাকে প্রয়াগরাজ।