অজিত পাওয়ার-দেবেন্দ্র ফড়নবিশ আলোচনা জানতাম, এতদূর তা জানতাম না: শরদ পাওয়ার

মহারাষ্ট্রে এনসিপি-শিবসেনা-কংগ্রেস সরকার তৈরির কাগিরগর শরদ পাওয়ার প্রকাশ করলেন আদর্শগত বিরোধী দলগুলির জোটের রহস্য

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি পদ বা কন্যা সুপ্রিয়া সুলেকে মন্ত্রীপদ দেওয়ার প্রস্তাব দেননি: শরদ পাওয়ার

নয়াদিল্লি:

অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) সঙ্গে দেবেন্দ্র ফড়নবিশের আলোচনার কথা তিনি জানতেন বলে জানালেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার (Sharad Pawar), তবে তাঁরা যে এতদূর যেতে পারে, তা বুঝতে পারেননি বলেই দাবি করলেন তিনি। NDTV তে কথা বলতে গিয়ে শরদ পাওয়ার বলেন, ২৩ নভেম্বর সকাল ৬.৩০টায় দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে ভাইপো অজিত পাওয়ারকে শপথ নিতে দেখে চমকে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এটা একবারের ভুল হবে যে, একবারেই আমার জানার বাইরে ছিল”। এনসিপি প্রধান আরও জানান, জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতা এবং সমর্থনের ব্যাপারে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদ বা কন্যা সুপ্রিয়া সুলেকে মন্ত্রীপদ দেওয়ার প্রস্তাব দেননি। 

কন্যা সুপ্রিয়া সুলেকে মন্ত্রী পদ দিতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী: শরদ পাওয়ার

সুপ্রিয়া সুলেকে মন্ত্রীপদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে একটি আঞ্চলিক চ্যানেল, তা নিয়ে এদিন শরদ পাওয়ার বলেন, “গত পাঁচ বছরের জন্য, বিজেপি নেতারা ভিতরে-বাইরে তা বলেছেন”। প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিয়া সুলেকে মন্ত্রীপদ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এনসিপি সুপ্রিমো বলেন, “তিনি শুধু বলেছেন, তিনি (সুপ্রিয়া সুলে) ভাল কাজ করছেন”।

মহারাষ্ট্রে এনসিপি-শিবসেনা-কংগ্রেস সরকার তৈরির কাগিরগর শরদ পাওয়ার প্রকাশ করলেন আদর্শগত বিরোধী দলগুলির জোটের রহস্য। শরদ পাওয়ার বলেন, “আমরা কখনও সরকার গড়ার কথা ভাবিনি। আমরা সর্বসম্মতভাবে বিরোধী আসনে বসার সিদ্ধান্ত নিই। আমরা দেখলাম, পূরণ না হওয়া প্রতিশ্রুতিতে খুশি নয় শিবসেনা। আমরা শিবসেনার সঞ্জয় রাউতের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল”। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, সঞ্জয় রাউতের সঙ্গে আলোচনার পথ ধরেই উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে আলোচনা হয়।

দুটি শর্ত মেনে নিলেই এনসিপি-র সমর্থন পেত বিজেপি, রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী, কেন?

শরদ পাওয়ার বলেন, “কংগ্রেস নেতার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে অখুশি ছিলেন অজিত।তিনি আমার সহকর্মীকে বলেন, আমি বুঝতে পারছি না, কীভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হবে। তিনি মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে চলে যান”। পাশাপাশি জানান, তিনি কখনই বুঝতে পারেননি, দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে শপথ নেবেন অজিত পাওয়ার।

এনসিপি সুপ্রিমো আরও বলেন, “বিজেপি নেতাদের তরফে প্রস্তাব ছিল, কিছু কথা হয়েছে। অজিত পাওয়ার ও দেবেন্দ্র ফড়নবিশের আলোচনা হয়। তবে আমরা জানতাম না, তিনি এতদূর যেতে পারেন”। তবে তাঁর দল যে, বিজেপির সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলছি, তাও অস্বীকার করলেন না।

৭২ ঘন্টার গোলমেলে পরিস্থিতি সত্ত্বেও, তিনি উদ্ধব ঠাকরের মন্ত্রিসভায় অজিত পাওয়ারের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া খারিজ করে দেননি। শরদ পাওয়ারের কথায়, “আমি বলতে পারব না (তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন কিনা)। এটা সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তবে দলের একটা বড় অংশে নেতাকর্মীর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে, এমনকী, তিনি বিজেপিতে চলে যাওয়ায়, তাঁরা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন”।

আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর দেখতে ক্লিক করুন: 

অজিত পাওয়ারের ফিরে আসা বিশ্বাসযোগ্য নয়, এই প্রশ্নের উত্তরে এনসিপি সুপ্রিমো বলেন, তাঁর বেরিয়ে যাওয়ার “প্রশ্নই ওঠে না”।

More News