"ওরা কি নথিভুক্ত শ্রমিক?": পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে বাছবিচার কর্নাটকের

Karnataka Lockdown: কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের মধ্যেই ১ মে থেকে শ্রমিকদের ফেরাতে বিশেষ ট্রেন চালাচ্ছে রেল, কিন্তু শ্রমিকদের ফেরাতে অরাজি কর্নাটক সরকার

Shramik train: পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে বিশেষ ট্রেন চালু করে কেন্দ্র (ফাইল চিত্র)

হাইলাইটস

  • অন্য রাজ্যে আটকে পড়া সব শ্রমিকদের ফেরাবে না, জানাল কর্নাটক সরকার
  • কিছু শ্রমিককে ফেরানোর পর বিশেষ ট্রেন পরিষেবা বাতিল করল ইয়েদুরাপ্পা সরকার
  • সরকার বলেছে, রাজ্যের শ্রমিক তালিকায় নথিভুক্ত না থাকলে ফেরানো হবে না
বেঙ্গালুরু:

রাজ্যের সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে ফেরাতে রাজি নয় কর্নাটক সরকার। করোনা ভাইরাসকে (Coronavirus) এড়াতে লকডাউনের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া (Lockdown) শ্রমিকদের ফেরাতে বিশেষ ১১৯ টি ট্রেন চালাচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই শ্রমিক ট্রেনে (Shramik Train) করে নিজেদের রাজ্যের সব শ্রমিকদের কর্নাটকে ফেরানোর পরিকল্পনা বাতিল করে দিল বিএস ইয়েদুরাপ্পা সরকার (BS Yeddyurappa)। কর্নাটক সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্য জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কর্নাটকের বিরোধী দল কংগ্রেস বলেছে যে এতদিন পর্যন্ত সরকার শ্রমিকদের বিভিন্ন জায়গায় "আটকে" রেখে এখন বলছে যে ওই শ্রমিকরা "নথিভুক্ত শ্রমিক" নয়, তাই তাঁদের রাজ্যে ফেরাতেও দায়বদ্ধ নয় রাজ্য সরকার। অথচ এই সপ্তাহেই বেঙ্গালুরু থেকে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের ফেরাতে দশটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার, কর্নাটক সরকার সেই ট্রেনগুলোর পরিষেবা আর প্রয়োজন নেই তাই তা বাতিল করা হোক, এই বলে ভারতীয় রেলকে অনুরোধ করে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের দুরবস্থার জন্যে দায়ী কেন্দ্রের অদূরদর্শিতাই, বলল তৃণমূল

অথচ বহু শ্রমিক এখনও ভিনরাজ্যে আটকে রয়েছেন। বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে ট্রেন ছাড়া সুদূর বিহার, পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরপ্রদেশের আটকে পড়া শ্রমিকদের ফিরে আসার অন্য কোনও উপায় নেই। যখন লকডাউনের ঘোষণা করা হয়, তখনই বহু শ্রমিক পায়ে হেঁটে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ফেরার চেষ্টা করেন, কিন্তু পরে তাঁদের আটকে দেয় সরকার। 

তবে কর্নাটক সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলে মনে করছে কংগ্রেস। ওই দলের নেতা সিদ্দারামাইয়া টুইট করেছেন: সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে পরিযায়ী শ্রমিকদের এই রাজ্যেই আটকে রাখতে বাধ্য করার এক কৌশল। দেখে নিন কংগ্রেস নেতার টুইটটি:

কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ডি কে শিবকুমার এই প্রসঙ্গে NDTV-কে বলে, "আমরা তাঁদের (পরিযায়ী শ্রমিক) এভাবে আটকে রাখতে পারি না। তাঁদেরকে ভরসা দিতে হবে। সরকার ও নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে"।

"আমরা ৩,৫০০ টি বাস ও ট্রেনের মাধ্যমে প্রায় এক লক্ষ শ্রমিকদের তাদের নিজেদের শহরে ফিরিয়ে এনেছি। এখনই রাজ্যে নির্মাণ কাজ ফের শুরু হচ্ছে। তাই আমি এই পরিযায়ী শ্রমিকদের এরাজ্যেই থাকার জন্য আবেদন করেছি", বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা।

নয়া নির্দেশিকা সহ খুব তাড়াতাড়ি চালু হতে পারে গণপরিবহণ, বললেন নীতিন গডকড়ি

পাশাপাশি কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী লকডাউনের ফলে সেরাজ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের জন্য ১, ৬,০০ কোটি টাকারও বেশি ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ওই প্যাকেজের ফলে উপকৃত হবেন কর্নাটকের কৃষক,  ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা, তাঁতী, ফুল চাষি, ধোপা, নাপিত, অটো, ট্যাক্সি ড্রাইভার এবং নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা। তবে এই ত্রাণ সাহায্য পাবেন শুধুমাত্র রাজ্যের শ্রমিক তালিকায় নথিভুক্ত যাঁরা, তাঁরাই, একথাও জানায় সরকার।

এরপরেই বিরোধী নেতা সিদ্দারামাইয়া ফের টুইট করেন:

২৫ মার্চ থেকে দেশে কার্যকর হওয়া লকডাউনের কারণে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের বাড়িঘর থেকে দূরে আটকা পড়েছেন। তাঁদের পোহাতে হচ্ছে অসীম ভোগান্তিও। এই শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে সহায়তা করুক কেন্দ্র, বিভিন্ন রাজ্যের তরফে এই অনুরোধের পরে, ১ মে থেকে তাঁদের ফেরানোর জন্যে ১১৫ টি বিশেষ ট্রেন চালাচ্ছে ভারতীয় রেল। কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে যে, ওই শ্রমিকদের ফেরাতে তাঁদের টিকিটের ভাড়া বাবদ ৮৫ শতাংশ অর্থ ভারতীয় রেল বহন করছে এবং বাকি ১৫ শতাংশ বহন করছে সেই রাজ্য সরকার যাদের অনুরোধে ট্রেন চালানো হচ্ছে।