প্রধানমন্ত্রীর "ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত": লাদাখ কাণ্ড নিয়ে বললেন মনমোহন সিং

Ladakh Face-Off: যেসব জওয়ানরা চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁরা যাতে ন্যায়বিচার পান তা নিশ্চিত করতে হবে, দাবি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর

Manmohan Singh: প্রধানমন্ত্রী মোদির অনেক ভেবেচিন্তে কথা বলা উচিত, এমনটাই মনে করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং

হাইলাইটস

  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করলেন মনমোহন সিং
  • লাদাখ সংঘর্ষ নিয়ে মুখ খুললেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী
  • সেনা জওয়ানের বলিদান যাতে বৃথা না যায়, সেবিষয়েও বললেন মনমোহন
নয়া দিল্লি:

লাদাখ সংঘর্ষে (Ladakh Stand off) ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সোমবার মুখ খুললেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এক বিবৃতিতে তিনি (Manmohan Singh) বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে "সবসময়ই তিনি কী বলছেন সেই সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে"। শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) একটি মন্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই প্রসঙ্গেই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কর্নেল বি সন্তোষ বাবু এবং আমাদের যেসব জওয়ানরা দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁরা যাতে ন্যায়বিচার পান তা প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। গালওয়ান উপত্যকায় গত ১৫ জুন যে ভয়াবহ সংঘর্ষের মুখোমুখি হয় ভারতীয় সেনা তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মনমোহন সিং বলেন, এবার জবাব না দেওয়া হলে জনগণের বিশ্বাসের প্রতি ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

"আমাদের সেনাবাহিনী দেশকে রক্ষা করতে চেষ্টার কসুর করবে না": প্রধানমন্ত্রী

"এই মুহুর্তে, আমরা ঐতিহাসিক মোড়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে যে ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের সম্বন্ধে কী উপলব্ধি করবে। যাঁরা আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদেরই  একান্তভাবে এই দায়িত্বের ভার বহন করতে হবে এবং আমাদের গণতন্ত্রে এই দায়িত্বটি থাকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উপর। তাই প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই তিনি কী বলছেন এবং আমাদের জাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে যে ঘোষণাগুলি করছেন তার প্রভাব সম্পর্কে সবসময় সচেতন থাকতে হবে", বলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

লাদাঘ সংঘর্ষ থেকে শিক্ষা! সীমান্তের অস্ত্র আইনে পরিবর্তন করল সেনা

শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন: "ভারতীয় সীমান্তের ভিতরে কেউ ঢুকতে পারেনি, কোনও পোস্টও দখল করতে পারেনি তারা"।

কংগ্রেসের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতিটিরই কাটাছেঁড়া করা হয়। কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধি টুইটে প্রশ্ন করেন, "প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় ভূখণ্ডকে চিনা আগ্রাসনের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন। সেই ভূখণ্ড কি তবে চিনের ছিল? কেন আমাদের বাহিনীর জওয়ানরা শহিদ হলেন? কোন এলাকায় তবে শহিদ হলেন?"

এই টুইটের পরেই আরও তেড়েফুঁড়ে বিবৃতি জারি করে কেন্দ্র। উল্লেখ করেছে, "প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ আমাদের ভূখণ্ডে কোনও চিনা সেনার অনুপ্রবেশ নেই। এটা আমাদের সাহসী জওয়ানদের উদ্যোগী পদক্ষেপ"। ১৬ বিহার রেজিমেন্টের সেই জওয়ানরা নিজেদের প্রাণ দিয়ে চিন সেনার ভারতীয় নির্মাণ ধ্বংস এবং অনুপ্রবেশ রোধে সদর্থক ভূমিকা নিয়েছে, এমনটাও উল্লেখ আছে সেই বিবৃতিতে।

মনমোহন সিং বলেছেন, চিন নির্লজ্জ এবং অবৈধভাবে এপ্রিল থেকে একাধিক আক্রমণ চালিয়ে গালওয়ান উপত্যকা এবং পানগং তসো হ্রদের মতো ভারতীয় ভূখণ্ডের কিছু এলাকা নিজেদের দখলে নিতে চাইছে। "আমরা তাদের এই হুমকি ও ভয় দেখানো থেকে বিচলিত হতে পারি না এবং আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে কোনও আপোষের অনুমতি দিতে পারি না। প্রধানমন্ত্রীকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে সরকারের সমস্ত দফতর একসঙ্গে কাজ করবে। এই সঙ্কটের এখনই মোকাবিলা করুন এবং আরও যাতে বাড়তে না পারে তার জন্যে সচেষ্ট হোন", বলেন তিনি।