"জেএনইউতে কোনও টুকরে টুকরে গ্যাং দেখিনি", বললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

JNU Violence: এস জয়শঙ্করই প্রথম দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনার নিন্দা করেন, সেখানে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায় ৫০ জন মুখোশধারী

JNU: যেভাবে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে তার তীব্র নিন্দা করেন এস জয়শঙ্কর

হাইলাইটস

  • দিল্লির জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিন্দা করলেন এস জয়শঙ্কর
  • একসময় ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশুনো করেছেন তিনি
  • রবিবার জেএনইউতে হামলা চালায় প্রায় ৫০ জন মুখোশধারী
নয়া দিল্লি:

একসময় দিল্লির ঐতিহ্যমণ্ডিত জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাই নিজের প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) হওয়া সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় মুখ বন্ধ করে থাকতে পারেননি, ওই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। যেভাবে ওই মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ৫০ জন মুখোশধারী হামলা (JNU Violence) চালিয়েছে তাতে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী (S Jaishankar )। "আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে আমি যখন জেএনইউতে পড়াশুনো করেছি, তখন সেখানে আমরা কোনও 'টুকরে টুকরে' গ্যাং দেখিনি", সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে বলেন তিনি। জেএনইউয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে তাঁকে সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই কথা বলেন জয়শঙ্কর। মূলত বাম-সমর্থিত গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকদের আক্রমণ করার জন্য ডানপন্থী দলগুলি প্রায়সময়ই "টুকরে-টুকরে" শব্দটি ব্যবহার করে থাকে।

‘‘পুলিশকে জানিয়েছিলাম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ঢুকে পড়েছে, কিন্তু...'': ঐশী ঘোষ

এর আগে যখন আফজল গুরুকে ফাঁসি দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন দানা বাঁধে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে, তখনই সেই আন্দোলনকে দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়া হয় এবং সেই সময় থেকেই 'টুকরে টুকরে' গ্যাং কথাটির প্রচলন শুরু হয়। সংসদে হামলা চালানোর অভিযোগে আফজল গুরুর ফাঁসি হয়েছিল। এই শাস্তির বিরুদ্ধে প্রাক্তন ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমার, যিনি সেই সময় জেএনইউ ছাত্র ইউনিয়নের প্রধান ছিলেন এবং আরও বেশ কয়েকজন ছাত্রকে দেশদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

“প্রথমবার জেএনইউ যেতে ভয় পাচ্ছি”, বললেন আক্রান্ত অধ্যাপিকা

রবিবার জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায় ৫০ জন মুখোশধারী, হামলা চালানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসেও। অভিযোগ ওই মুখোশধারীরা সেখানে প্রবেশ করে পড়ুয়াদের মারধর করে। ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। 

এই ঘটনারই তীব্র নিন্দা করে টুইট করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র তথা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি লেখেন, "জেএনইউতে যা ঘটেছে তার ছবি দেখেছি। এই হিংসার ঘটনার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানাই। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির পরিপন্থী"।

রবিবার সন্ধ্যায় জেএনইউ চত্বর দুষ্কৃতী হামলার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ঘটনার স্ক্রিনশট ও সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ওই সিসিটিভি ফুটেজ ও স্ক্রিনশট থেকে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই হামলায় বেশ কিছু মানুষ আহত হওয়ার বিষয়ে বহু অভিযোগ জমা পড়লেও মাত্র একটিই এফআইআর দায়ের করা হয়। দিল্লি পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, মামলাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চকে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।