চলছে করোনার দাপাদাপি, দেশে একদিনে ওই রোগে আক্রান্ত ৯৮৫১ জন, মৃত ২৭৩

Coronavirus: সারা ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত মোট ২,২৬,৭৭০ জন

চলছে করোনার দাপাদাপি, দেশে একদিনে ওই রোগে আক্রান্ত ৯৮৫১ জন, মৃত ২৭৩

Coronavirus: দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও তার পাশাপাশি বাড়ছে পুনরুদ্ধারের হারও

হাইলাইটস

  • দেশে লাগাতার বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা
  • তবে করোনা সংক্রমণকে রুখতে এবার প্রতিটি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
  • ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত মোট ২,২৬,৭৭০ জন, মৃত ৬,৩৪৮
নয়া দিল্লি: ভারতে করোনা (Coronavirus) সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রতিদিনই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশে (India Coronavirus Cases) গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৮৫১ জন, আর মারা গেছেন ২৭৩ জন। সব মিলিয়ে সারা দেশে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত (India Coronavirus Total) মোট ২,২৬,৭৭০ জন। করোনা ভাইরাস এদেশে প্রাণ কেড়েছে মোট ৬,৩৪৮ জনের। তবে দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও তার পাশাপাশি বাড়ছে পুনরুদ্ধারের হারও। ১,০৯,৪৬২ জন মানুষ কোভিডের (COVID- 19) কবলে পড়েও চিকিৎসা সহায়তায় ওই রোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন। দেশে করোনা পুনরুদ্ধারের হার তাই ৪৮.২৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। কোভিড মহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলির তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, রাশিয়া, ব্রিটেন, স্পেন এবং ইতালির পরে ভারত সপ্তম স্থানে রয়েছে। অবশ্য মৃত্যুর হারের বিচারে ভারত বর্তমানে দ্বাদশ স্থানে রয়েছে এবং রোগ থেকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এটি অষ্টম স্থানে রয়েছে। তবে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর হিসাবে ভারত বিশ্বের সব দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে এখন।

দেখে নিন এই সংক্রান্ত ১০ তথ্য:

  1. কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বৃহস্পতিবারই বলেছেন যে, দেশের রাজধানী দিল্লির কিছু অংশে যেভাবে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তা খুবই উদ্বেগের। সেখানে একের পর এক মানুষ করোনা পজিটিভ হিসাবে ধরা পড়লেও তুলনামূলকভাবে সেখানে করোনা টেস্টের হার অনেকটাই কম। এই ঘটনাকে খুবই উদ্বেগজনক বলে ব্যাখ্যা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

  2. করোনাকে রুখতে তাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বেশি করে নজরদারি, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সহ কোভিড-১৯ টেস্টের পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর আরও জোর দেওয়ার কথা বলেন।

  3. বৃহস্পতিবারই করোনা সতর্কতায় এক নয়া নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র। আগামী ৮ জুন থেকে দেশের প্রায় সমস্ত শপিংমল, রেস্তোঁরা, হোটেল এবং ধর্মীয় স্থানগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে সরকার, তবে সব জায়গায় মেনে চলতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা ওই কড়া নির্দেশাবলী।

  4. সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া ওই নির্দেশিকাতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে ধর্মীয় স্থান ও মলগুলোতে সীমিত সংখ্যক মানুষকে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানগুলিতে কোনওভাবেই প্রতিমা বা দেবালয়কে স্পর্শ করা যাবে না। অফিসগুলিও খুলে যাচ্ছে ৮ জুন থেকে। সেখানেও করোনা সতর্কতায় মেনে চলতে হবে ওই কেন্দ্রীয় নির্দেশাবলী। তবে আপাতত কনটেইনমেন্ট জোনের কোনও বাসিন্দা কাজে যোগ দিতে পারবেন না। 

  5. ৬৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মচারী এবং গর্ভবতী মহিলাদের এই পরিস্থিতিতে বাড়িতে থেকে কাজ করারই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের করোনা ভাইরাসের বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলেও মনে করছে সরকার। হোটেল এবং রেস্তোঁরা মালিকদের ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করে অর্ডার নেওয়া এবং টাকাপয়সা লেনদেনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  6. বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে একদিনে এখনও পর্যন্ত সবথেকে বেশি মানুষ করোনার কবলে পড়েছেন। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ২,৯৩৩ জন। এর ফলে ওই রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্ত এখন ৭৭,৭৯৩। নতুন করে সেখানে আরও ১২৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় সেখানকার মোট করোনা রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ২,৭১০ এ। তবে সেরাজ্যে করোনায়  আক্রান্ত হয়েও এখন সুস্থ হয়ে গেছেন এমন রোগীর সংখ্যা ৩৩,৬৮১ জন।

  7. পশ্চিমবঙ্গে, কোভিড -১৯ এর ছোবলে আরও ১০ জনের প্রাণহানি হওয়া এরাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৩ তে, অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৬৮ জন, সব মিলিয়ে বাংলায় মোট করোনা আক্রান্ত ৬,৮৭৬ জন। ওদিকে তামিলনাড়ুতেও গত একদিনে ১,৩৮৪ জন নতুন করে ওই মারণ রোগের কবলে পড়েছেন। দক্ষিণের ওই রাজ্যে এখন করোনা আকান্ত মোট ২৭,২৫৬ জন, মারা গেছেন ২২০ জন।

  8. এদিকে অসমে করোনা রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন যে কোনও কোয়ারান্টাইন সেন্টারে কোনও রোগীর প্রতি খারাপ আচরণ করা হলে তা "হত্যার চেষ্টা" হিসাবে গণ্য হবে এবং জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে।

  9. এদিকে কেন্দ্র জানিয়েছে যে, যদি কোনও অফিস চত্বরে একটি বা দুটি করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে তখন প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তবে তার জন্যে গোটা অফিস বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। অফিসটিকে স্যানিটাইজ করে ভাইরাস মুক্ত করার পর ফের কাজ শুরু করা যেতে পারে।

  10. এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধকারী ওষুধ নিয়ে ক্লিনিকাল পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রেখেছে, তবে খুব তাড়াতাড়ি বিভিন্ন দেশের হাসপাতালগুলিতে ব্যবহৃত ওষুধগুলো নিয়ে গবেষণায় বসবেন বিজ্ঞানীরা।