This Article is From Aug 07, 2018

এনডিটিভির ভিডিওর জের, হাপুর গণপিটুনি মামলার দায়িত্ব নিল শীর্ষ আদালত

এনডিটিভির ‘স্টিং অপারেশন’ ছড়িয়ে পড়ার পরেই মৃত ও আহত ব্যক্তিদের উকিলরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মামলাটির জরুরি শুনানির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন

হাপুর গণপিটুনি মামলাঃ গর্বভরে দোষ কবুল অভিযুক্তের।

নিউ দিল্লি:

গরুচোর সন্দেহে উত্তরপ্রদেশের হাপুর জেলার এক ব্যক্তিকে মারা যেতে হয়েছিল। গুরুতর আহত হয়েছিলেন আরও একজন। সেই ঘটনায় অভিযুক্তদের নজনের মধ্যে চারজনকেই ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ। এনডিটিভির তদন্তে সেই চারজনের একজনের মুখ থেকে শোনা গেল বিস্ফোরক বিবৃতি। এনডিটিভির গোপন ক্যামেরায় সেই বিবৃতি ধরা পড়ার পর সারা দেশেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট আজ হাপুরের গণপিটুনির ঘটনার মামলাটি গ্রহণে তাদের সম্মতি জানাল।

গতকাল এনডিটিভির ‘স্টিং অপারেশন’ ছড়িয়ে পড়ার পরেই মৃত ও আহত ব্যক্তিদের উকিলরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মামলাটির জরুরি শুনানির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। সোমবার দিন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র মামলাটি শুনতে রাজি হয়ে যান।  

আরএসএস এবং অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে নিয়ে গবেষণা করছেন তাঁরা, এমন একটি ছদ্মবেশ নিয়ে দুটি রাজ্যের দুটি গণপিটুনির ঘটনার স্থান পরিদর্শন করে এনডিটিভির ওই দলটি।

প্রথম স্থানটি ছিল উত্তরপ্রদেশের হাপুর জেলার বাজেধা খুর্দ গ্রাম। দিল্লি থেকে ঘন্টা দুয়েকের দূরত্বে অবস্থিত।

গত 18 জুন উত্তরপ্রদেশের হাপুর জেলায় এক মাংস ব্যবসায়ী পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী কাসিম কুরেশিকে গণপ্রহারে হত্যা করা হয়। ওই আক্রমণেই ভয়ঙ্করভাবে জখম হন 65 বছর বয়সী কৃষক সামিয়ুদ্দিন।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছিল মাংস ব্যবসায়ী কাশিম কুরেশিকে ভয়ঙ্করভাবে মারধর করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় ন’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে চারজন ছাড়া পেয়ে যায় জামিনে। ওই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত রাকেশ শিশোদিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যায় এনডিটিভির ওই দলটি। বাজেধা খুর্দ গ্রামে।

আদালতে লিখিতভাবে শিশোদিয়া জানিয়েছিল তার এই ঘটনায় কোনও ভূমিকা নেই। সে কোনওভাবেই এর সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু গোপন ক্যামেরায় নিজের অপরাধ বুক ফুলিয়ে স্বীকার করে নিল সে। সে এটিও বলে, জেল কর্তৃপক্ষের কাছেও নিজের অপরাধ সে স্বীকার করেছিল। পাঁচ সপ্তাহ জেলে থাকার পর এখন ওই অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত।

“আমি তো জেলারের সামনেই বলে দিয়েছিলাম যে, ওরা গরু কাটছিল, তাই আমি ওদের কেটে ফেলেছি”, শিশোদিয়াকে এই কথা বলতে শোনা যায় এনডিটিভির গোপন ক্যামেরায়।

“প্রথমবার জেলে গেলাম আমি। আমার তো ভয়ে কুঁকড়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু, আমি সেইসব রেয়াত করিনি। আমাকে জেলার নিজেও জিজ্ঞাসা করেন যে, কোন মামলায় জেলে এলে তুমি”, বলে যায় সে।

“আমি সঙ্গেসঙ্গে বলে দিলাম 302 আর 307 ধারায়। পুরো খুন আর অর্ধেক খুনের জন্য। ওরা গরু কাটছিল, আমি ওদের কেটে দিয়েছি। ব্যাস! আর কী”!

শিশোদিয়া ক্যামেরার সামনে স্বীকার করে, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কেমনভাবে ‘নায়ক’-এর তকমা উপভোগ করছে সে!

সে বলে চলে, “আমাকে জেল থেকে আনতে তিন-চারটে গাড়ি গিয়েছিল। আমার নামে জিন্দাবাদ ধ্বনিও দেওয়া হয়। খুব গর্ব হচ্ছে আমার”।

এনডিটিভির দলটিকে বিস্মিত করে সে হাসতে হাসতে বলে, “কাশিম তো জল খেতে চাইছিল। আমি বলি ওকে যে, তুই মরণাপন্ন গরুকে জল দিসনি। তোকে কোনও জল দেওয়া হবে না। আমার লোকরা তোকে ছাড়বে না। তোকে প্রত্যেক মুহূর্তে পিষে পিষে মারা হবে”।

 

lqf2tp6g