This Article is From May 26, 2020

আমফান বিধ্বস্ত বাংলার সাহায্যে আরও সেনা পাঠানো হোক, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি অধীর চৌধুরীর

ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে ১,০০০ কোটি টাকার সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে

আমফান বিধ্বস্ত বাংলার সাহায্যে আরও সেনা পাঠানো হোক, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি অধীর চৌধুরীর

পশ্চিমবঙ্গের প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ওই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে

কলকাতা:

ঘূর্ণিঝড় (Amphan) ক্ষতিগ্রস্থ কলকাতা (Kolkata) এবং পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) অন্যান্য অঞ্চলে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে আরও সেনা সহায়তা করা হোক রাজ্যকে, এই দরবার করেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে (PM Modi) চিঠি লিখলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। আমফানে রীতিমতো তছনছ হয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গ। বিধ্বংসী ওই ঘূর্ণিঝড়ে দুই ২৪ পরগনা সহ কলকাতার অবস্থা রীতিমতো শোচনীয়। আমফানের তাণ্ডবের পর প্রায় ৬দিন কাটতে চললেও এখনও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। কলকাতা সহ শহরতলীই হোক বা উত্তর কিংবা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে গেলেও এখনও সব জায়গা থেকে সেগুলোকে সরানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি উপড়ে গেছে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটিও। এই পরিস্থিতিতে আরও বেশি করে সেনার সাহায্যের প্রয়োজন বলেই মনে করছেন প্রবীণ ওই কংগ্রেস নেতা।

রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই দুর্যোগ মোকাবিলায় "পুরোপুরি ব্যর্থ" হয়েছে, এমনটাও দাবি করেন ওই কংগ্রেস সাংসদ। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার মতে, আমফানের সময় নাগাড়ে বৃষ্টি ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে যেসব জায়গায় বন্যা হয়েছে সেখানে খাদ্য এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করাতেও চরমভাবে ব্যর্থ রাজ্য সরকার।  অধীর চৌধুরী আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, ওই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সমুদ্র বা নদীর জলে অনেক প্রাণীরই মৃতদেহ ভাসার সম্ভাবনা। সেই দেহগুলোতে পচন ধরবে কয়েকদিনের মধ্যেই। আর যেহেতু রাজ্যের বহু অংশ এখনও জলে ডুবে আছে তাই এর ফলে দূষিত হয়ে যেতে পারে পানীয় জল সহ গোটা পরিবেশই।

আর এর থেকেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে সারা বাংলা। কলকাতা ও রাজ্যের বহু অঞ্চল এখনও বিদ্যুৎবিহীন। এর ফলে বহু জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা আরও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, ওষুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাঁদের। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও অবনতি দেখা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে এক মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁরা, এমন মনে করছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, এরাজ্যকে এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আরও বেশি করে সেনা সহায়তা প্রয়োজন, তাই আরও বেশি সেনা বাংলায় পাঠাক কেন্দ্রীয় সরকার। গত সপ্তাহেই রাজ্য সরকারের অনুরোধের পরে, কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে উদ্ধারকার্য সহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে সেনাকর্মীদের পাঠায় কেন্দ্র। 

২০ মে এরাজ্যে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ''আমফান''। এর রোষে পড়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থাও। এখনও কলকাতা এবং তার আশেপাশের জেলাগুলির বেশিরভাগ এলাকাই অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। ওদিকে আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কিছুদিন আগেই রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময়ই তিনি ঘোষণা করেন, কেন্দ্রের তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এক হাজার কোটি টাকা ত্রাণ সাহায্য দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা মতোই রাজ্যকে ওই অর্থসাহায্যও পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের জন্য খুব তাড়াতাড়ি একটি দল রাজ্যে পাঠাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। 

সোমবারই মন্ত্রিপরিষদ সচিব রাজীব গৌবার সভাপতিত্বে ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি বা জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটির বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের উদ্ধার ও ত্রাণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আকাশপথে সমীক্ষা শেষে ত্রাণের জন্যে যে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতি মতোই সেই টাকা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। ওদিকে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণের জন্য শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি দল রাজ্যে পাঠানো হবে।
 



(এনডিটিভি এই খবর সম্পাদনা করেনি, এটি সিন্ডিকেট ফিড থেকে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে।)