দুধে ভেজাল আছে কিনা মেপে দেবে মোবাইল অ্যাপ, আবিষ্কারক হায়দরাবাদ আইআইটি

গবেষকরা একটি প্রোটোটাইপ স্মার্ট ফোন-ভিত্তিক অ্যালগোরিদম তৈরি করেছেন, যার মধ্যে, দুধে ডুবানোর পরে সেন্সর রেখাচিত্রের রংগুলি ফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়বে এবং তথ্যটি পিএইচ (অ্যাসিডিটি) রেঞ্জে রূপান্তরিত হয়ে যাবে।

দুধে ভেজাল আছে কিনা মেপে দেবে মোবাইল অ্যাপ, আবিষ্কারক হায়দরাবাদ আইআইটি

আইআইটি হায়দরাবাদের অধ্যাপক শিব গোবিন্দ সিং ও তাঁর গবেষক দল

হায়দরাবাদ:

দুধে ভেজাল মেশানো হচ্ছে কিনা তা জানতে পারবেন এক আঙুলেই। না আঙুল দিয়ে দুধের ঘনত্ব মেপে নয় বরং মোবাইল অ্যাপের মধ্যে দিয়েই মাপতে পারবেন দুধের ভেজাল। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) হায়দ্রাবাদের গবেষকরা দুধে ভেজাল সনাক্তকরণের জন্য একটি স্মার্ট ফোন ভিত্তিক সেন্সরিং সিস্টেম তৈরি করছেন। প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে, আইআইটি হায়দ্রাবাদের গবেষক দল একটি সূচক কাগজের মাধ্যমে দুধের অম্লতা পরিমাপ করার জন্য একটি পদ্ধতি তৈরি করেছে। এই কাগক দুধের অম্লতা অনুযায়ী রঙ পরিবর্তন করে। তারা বেশ কিছু অ্যালগোরিদমও তৈরি করেছে যা সঠিকভাবে রঙ পরিবর্তন সনাক্ত করার জন্য একটি মোবাইল ফোনে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

খাদ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতির জার্নালের নভেম্বর ২০১৮-সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার মানোন্নয়ন থেকে শুরু করে পরিকাঠামো বৃদ্ধির জন্য মোটা অঙ্কের অনুদান পেল যাদবপুর

আইআইটি হায়দ্রাবাদে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শিব গোবিন্দ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি দল এই গবেষণা পরিচালনা করে। দলে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সৌম্য জানা এবং ডাঃ শিবরাম কৃষ্ণ ভঞ্জারী।

"ক্রোমাটোগ্রাফি এবং স্পেকট্রোস্কোপির মতো কৌশলগুলি ভেজাল সনাক্তকরণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, এই ধরনের কৌশলগুলির সাধারণত ব্যয়বহুল সেটআপের প্রয়োজন এবং কম খরচে সহজে ব্যবহারযোগ্য ডিভাইসগুলির মধ্যে ছোট করে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। অতএব, উন্নয়নশীল দেশে বিপুল সংখ্যক দুধ ব্যবহারকারীদের জন্য আয়ত্তে নেই এটি” বলেন অধ্যাপক শিব গোবিন্দ। তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ যাতে দুধের ভেজাল সনাক্ত করতে পারেন এমন সাধারণ যন্ত্রের বিকাশ করতে হবে। দুধের ভেজাল সনাক্তকরণ সম্পূর্ণ করার জন্য সম্ভাব্য ব্যয়বহুল সরঞ্জামগুলির প্রয়োজন ছাড়া একই সময়ে এই সমস্ত পরিমিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।"

জোট গঠনের পথে কাশ্মীরের মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাহ

ইনস্টিটিউটের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গবেষকরা তিনটি রংয়ের সমন্বয়ে নাইলনের ন্যানো সাইজের ফাইবারের তৈরি কাগজের মতো উপাদান তৈরির জন্য 'ইলেকট্রস্পিনিং' নামে একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছেন। কাগজটির নাম হ্যালোক্রোমিক অর্থাৎ এটি অম্লতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রঙ পরিবর্তন করে। গবেষকরা একটি প্রোটোটাইপ স্মার্ট ফোন-ভিত্তিক অ্যালগোরিদম তৈরি করেছেন, যার মধ্যে, দুধে ডুবানোর পরে সেন্সর রেখাচিত্রের রংগুলি ফোনের ক্যামেরায় ধরা পড়বে এবং তথ্যটি পিএইচ (অ্যাসিডিটি) রেঞ্জে রূপান্তরিত হয়ে যাবে।

শিক্ষার জন্য ম্যারাথন দৌড় কলকাতায়, অংশ নিচ্ছেন 8 হাজার মানুষ

গবেষকেরা তিনটি মেশিন-লার্নিং অ্যালগোরিদম ব্যবহার করেছেন এবং নির্দেশক রেখাচিত্রগুলির রঙ শ্রেণিবদ্ধ করতে তাদের সনাক্তকরণ কার্যকারিতাগুলির সঙ্গে তুলনা করেছেন। দুধের ভেজালের নানা উপাদানের সঙ্গে সংমিশ্রিত দুধের পরীক্ষা করার সময়,৯৯.৭১% নির্ভুলফলাফল পেয়েছেন তাঁরা।

পশু কল্যাণ বোর্ডের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গেছে যে দেশের ৬৮.৭% দুধ ও দুধের পণ্যগুলিতে ডিটারজেন্ট, গ্লুকোজ, ইউরিয়া, কস্টিক সোডা, সাদা রং এবং তেল মেশানো হয়। ফরমালিন, হাইড্রোজেন পারক্সাইড, বোরিক অ্যাসিড এবং অ্যান্টিবায়োটিকের মতো রাসায়নিক পদার্থও দুধে যোগ করা হয়।

 

শিক্ষার আরও খবর পড়ুন এখানে 

 

More News