This Article is From Feb 26, 2019

দেশের প্রথম জাতি-ধর্ম বিহীন মহিলা, স্নেহা সম্পর্কে দু-চার কথা...

স্নেহা জানান তাঁর তিন মেয়েও আজীবন জাতি ধর্ম বিহীন নাস্তিক হয়েই কাটাবে।

দেশের প্রথম জাতি-ধর্ম বিহীন মহিলা, স্নেহা সম্পর্কে দু-চার কথা...

তামিলনাড়ু সরকার স্নেহাকে জাতি ধর্ম হীন নাগরিক হিসাবে ঘোষণা করেছে।

চেন্নাই:

এমএ স্নেহার জন্ম হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে। আর তখন থেকেই তাঁর না ছিল কোনও জাতি, না ছিল ধর্ম। জন্মের হোক কিংবা স্কুলের শংসাপত্র, জাতি আর ধর্মের কলাম দুটো ফাঁকা থাকতো আজীবন। সম্প্রতি তামিল নাড়ু সরকার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতি-ধর্ম বিহীন মহিলা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্ভবত তিনিই আমাদের দেশের প্রথম জাতি-ধর্ম বিহীন মহিলা।

সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে স্নেহা জানিয়েছেন, "সরকার যখন জাতি-ধর্মের শংসাপত্র দিতে পারে তাহলে জাতি-ধর্ম বিহীন- এই শংসাপত্র কেন দেবে না? এই ভাবনা থেকেই আমি সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। প্রথমে চিঠি দিয়ে আবেদন করেছিলাম। পরবর্তীকালে আমি সরকারিভাবে আবেদন জানিয়েছিলাম।"

আরও পড়ুনঃ বলিউড গানে মজেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! দেখুন নাচের ভাইরাল ভিডিও

এই মাসের শুরুতে তিনি ওই শংসাপত্র হাতে পেয়েছেন। "আমার পরিবারে বাবা, মা, আমি, আমার বোন সকলেই নাস্তিক। আমাদের কারোরই কোনও জাতি ধর্ম নেই। শংসাপত্রটা কেবলমাত্র সরকারি অনুমোদন দিয়েছে", জানান স্নেহা।

আমরা এমন একটা দেশে বসবাস করি যেখানে একজন মানুষের জাতি-ধর্ম বোঝা যায় তার নাম থেকে। সেখানে স্নেহা এবং তাঁর স্বামী কে পার্থিবরাজা তাঁদের তিন মেয়ের নাম রেখেছেন বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং মুসলিম শব্দের সংমিশ্রণে- অধিরাই নাসরিন, অধিলা ইরেনে এবং আরিফা জেসি।

237ru3e8

শংসাপত্র হাতে স্নেহা।

স্নেহার দুই দিদিরও মুসলিম এবং খ্রিষ্টান নাম- মুমতাজ সুরিয়া এবং জেনিফার। স্নেহার মা বাবা দুজনেই আইনজীবী। তাঁদের দুজনের জাত ছিল আলাদা। বাবার নাম পিভি আনন্দকৃষ্ণণ এবং মায়ের নাম মানিমঝি। সেখান থেকেই স্নেহার নামের শুরুতে এমএ-এর উৎপত্তি, যা তাঁর মা বাবার নামের আদ্যক্ষর।

পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা থেকে বিয়ে- কোনও ক্ষেত্রেই মেয়েদের জীবনের সঙ্গে আপোষ করতে চাননি স্নেহার মা-বাবা। তাঁদের মতামত ছিল, "যাঁর সঙ্গে মেয়ের মানসিকতা মিলে যাবে তাঁর সঙ্গেই মেয়ের বিয়ে দেবেন", জানান স্নেহার স্বামী পার্থিবরাজা। তিরুপাথুর স্যাকরেড হার্ট কলেজের তামিলের অধ্যাপক পার্থিবরাজা জানান,  "আমার পরিবারের মানুষ আস্তিক হলেও পেরিয়ারের দর্শন এবং আম্বেদকর আমায় নাস্তিক হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।"

স্নেহার তিন মেয়ে এবং দুই দিদিও খুব শীঘ্রই জাতি ধর্ম বিহীন শংসাপত্র হাতে পাওয়ার জন্য আবেদন করবে। পার্থিবরাজা জানান, "ছোটবেলায় আমার একটা জাতি-ধর্মের শংসাপত্র ছিল। এবার জাতি ধর্ম বিহীন হওয়ার শংসাপত্র পাওয়ার জন্য আমাকে আবেদন করতে হবে।"