জোমাটো কর্মীদের ধর্মঘটের সঙ্গে খাদ্য ও ধর্মের সম্পর্ক নেই: কর্মীদের উদ্দেশে সংস্থার সিইও

হাওড়ায় জোমাটোর রেস্তোঁরার তালিকায় একটি বিফ বিরিয়ানির আউটলেটকে ঢোকানো হয়েছে, এই গুঞ্জন থেকেই প্রতিবাদ শুরু হয়।

জোমাটো কর্মীদের ধর্মঘটের সঙ্গে খাদ্য ও ধর্মের সম্পর্ক নেই: কর্মীদের উদ্দেশে সংস্থার সিইও

হাওড়ায় জোমাটো ডেলিভারি বয়দের দাবি, জোর করে ইচ্ছের বিরুদ্ধে শুয়োর ও গরুর মাংস ডেলিভারি করানো হচ্ছে তাদের দিয়ে।

কলকাতা:

হাওড়ায় (Howrah) জোমাটো (Zomato) কর্মীদের প্রতিবাদের উত্তর দিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়াল (Deepinder Goyal)। একটি ইমেলে তিনি জানালেন, ওই প্রতিবাদের সঙ্গে ‘‘খাদ্য, ধর্ম ও বিশ্বাসের কোনও সম্পর্ক নেই।'' কর্মীদের উদ্দেশে লেখা ওই ইমেলে তিনি সতর্ক করেন তাঁর কর্মীদের। আপত্তি করেন ‘‘অর্থপূর্ণ কাজ ও জীবিকার সুযোগের সঙ্গে ধর্ম ও খাদ্যরুচি সম্পর্কে মিথ্যে ক্ষোভকে মিশিয়ে ফেলা''-কে। তিনি ওই ইমেলে তাঁর কর্মীদের বলেন, ‘‘গণ্ডগোলকে উপেক্ষা করো এবং বিভ্রান্ত হয়ো না।'' তিনি লেখেন, ‘‘এই ‘প্রতিবাদ' অল্প কয়েকজন ডেলিভারি পার্টনারই করছে, এটা কলকাতার হাওড়া এলাকাতেই সীমাবদ্ধ। এবং কখনই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে নয়। কিছু বিশ্রী ক্ষতিকারক প্রতিবেদন থেকে এটা ছড়িয়েছে। এই ইস্যুটি প্রাথমিক ভাবে ওই এলাকায় সাম্প্রতিক রেট কার্ড সংশোধন, যেটা আমরা নিয়মিতই করে থাকি, সেটার কারণে শুরু হয়।''

হাওড়ায় জোমাটো ডেলিভারি বয়দের একটি সাত দিনের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে। জানিয়ে দিয়েছে, তারা শুয়োর ও গরুর মাংস ডেলিভারি করবে না। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এক কর্মী মৌসিন আখতার জানিয়েছেন, ‘‘কোম্পানি আমাদের দাবি শুনছে না এবং জোর করে ইচ্ছের বিরুদ্ধে শুয়োর ও গরুর মাংস ডেলিভারি করাচ্ছে। হিন্দুদের গরুর মাংস ডেলিভারি করতে আপত্তি রয়েছে, আবার মুসলিমরা শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করতে চাইছে না। আমরা বলপূর্বক ডেলিভারি করতে বাধ্য হচ্ছি।''

“আমি আহত! কিন্তু আমরা তো গরিব...” খাবারের ধর্ম প্রসঙ্গে জোমাটোর মুসলিম ডেলিভারি কর্মী

তাঁর ইমেলে গোয়াল ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের ডেলিভারি পার্টনাররা একই অঙ্কের অর্থ রোজগার করছেন যা রেট কার্ড সংশোধনের আগে তাঁরা করতেন। এবং আমাদের ইউনিট অর্থনীতি আরও ভাল হয়েছে। যার ফলে ব্যবসাও আরও মজবুত হয়েছে। এর ফলে আমরা কাজের সুযোগকে আরও বিস্তৃত করে নতুন কর্মসংস্থান করতে পারছি আরও ডেলিভারি পার্টনারদের জন্য।''

তিনি আরও লেখেন, ‘‘সাধারণত, অনেক ডেলিভারি রাইডাররা বুঝতে পারেন না রেট কার্ড সংশোধনের ব্যাপারটা  এবং সেই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। হাওড়ার কেসটির ক্ষেত্রে স্থানীয় জোমাটো এগজিকিউটিভদের সঙ্গে গঠনমূলক ভাবে যোগাযোগ না করে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কাছে গিয়েছেন এই রাইডাররা। তাঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবে ইস্যুটিকে ভুল দিকে নিয়ে যান।''

৪ বছরের বাচ্চা গাড়ি উপহার চাইল জোমাটোর কাছে.....তারপর?

ওই ইমেলে তিনি আরও জানান, ‘‘আমরা এটা জানি কেননা আমরা আমাদের অর্ডার ডেটাবেস দেখেছি। এবং সেখানে ওই এলাকা থেকে গত তিন মাসে কোনও আইটেম অর্ডারই করা হয়নি যাতে শুয়োরের মাংস মেশানো রয়েছে। একটি গরুর মাংসের অর্ডার করা হয়েছিল, কিন্তু সেটা পরে ক্যানসেল করে দেওয়া হয়। আমি আপনাদের যখন বলতে যাচ্ছি ওই এলাকায় কী কী অর্ডার দেওয়া হয়েছিল বা হয়নি, তখন সেটা এই পয়েন্টটির ভিত্তিতেই বলছি।''

কর্মীদের প্রতিবাদ সকলের নজরে আসে ফেসবুকের তথ্য অনুসারে বিজেপির উত্তর হাওড়া মণ্ডলের সচিব সঞ্জীবকুমার শুক্লর হস্তক্ষেপের পর। হাওড়ায় জোমাটোর রেস্তোঁরার তালিকায় একটি বিফ বিরিয়ানির আউটলেটকে ঢোকানো হয়েছে, এই গুঞ্জন থেকেই প্রতিবাদ শুরু হয়।