This Article is From Jan 29, 2020

"স্বতঃস্ফূর্ত নয়": কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন রাজ্যপাল

মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে, রাজ্যপাল, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, তিনি নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে একটি ঘরে আটকে থাকেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপাল বলেন, এই ঘটনাটি ‘১৬৩ বছরের ঐতিহ্যের’ পরিপন্থী

কলকাতা:

নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Nobel laureate Abhijit Banerjee) সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের জন্য মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (West Bengal Governor Jagdeep Dhankar)। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে সেই কাজ আর করে ওঠা হয়নি তার। পড়ুয়াদের বিক্ষোভে আধঘণ্টা একটি ঘরে আটকে থাকেন রাজ্যপাল এবং মঞ্চের কাছে অব্দি যেতে দেয়নি তাকে পড়ুয়ারা। এই সমগ্র বিষয়ের পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যপাল। জানিয়েছেন, গতকালের ঘটনা “স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটেনি”।

রাজ্যের কয়েকটি প্রকল্পকে ‘‘কৌতূহলোদ্দীপক'' বললেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

“এই সুন্দর মুহূর্তটিকে কুৎসিত বাহিনী, অবাঞ্চিত শক্তি প্রয়োগ করে নষ্ট করার সুযোগ করে দেওয়ার পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। আমি আজ সকলকে জানাতে চাই এসব করে এই শহরের কী পরিণতি হচ্ছে.... অশুভ এক শক্তি মান নামিয়ে দিচ্ছে শহরের,” বলেন রাজ্যপাল ধনখড়।

তিনি বলেন, এই ঘটনাটি ‘১৬৩ বছরের ঐতিহ্যের' পরিপন্থী। ডিগ্রি না দিতে দিয়েই কিছু উত্তেজিত জনতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল থেকে খোদ নিমন্ত্রিত আচার্যকে সরিয়ে দেওয়া হল।

মুসলিমরা ভারত দখল করবে, এমন ভয় ভিত্তিহীন: অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

গতকাল, মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে, রাজ্যপাল, যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, তিনি নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করবেন বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে একটি ঘরে আটকে থাকেন রাজ্যপাল। উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দোপাধ্যায় (Vice Chancellor Sonali Chakravarty Bandhopadhyay) বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অনুরোধও করেন যাতে তারা আচার্যকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেন। পড়ুয়ারা অবশ্য অবস্থান পাল্টাতে রাজি হয়নি মোটেই। তাই রাজ্যপাল চলে যাওয়ার পরে উপাচার্যই শেষ পর্যন্ত সকলের হাতে ডিগ্রি তুলে দেন।

এই প্রথমবার যে রাজ্যপাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন এমন নয়। ২৪ ডিসেম্বর, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা তাঁর গাড়ি আটকে রাজ্যপাল তথা আচার্যকে সমাবর্তন স্থলে পৌঁছতে বাধা দেন।

রাজ্যপাল আজ সাংবাদিকদের বলেন, “২৮ জানুয়ারি যা ঘটল তা কি আমরা ভুলে যেতে পারি? এটি রাজনৈতিক প্রশ্ন নয় বরং একটি অস্তিত্বমূলক প্রশ্ন।” রাজ্যপাল আরও বলেন, “এই জাতীয় দূষিত উপাদানগুলিকে কি গতকালের মতো এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে হাইজ্যাক করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে?”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee) এবং জগদীপ ধনখড় কয়েক মাস ধরেই টুইট এবং নানা মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ্যে একে অপরের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে কট্টর বিজেপি বলেও অভিযুক্ত করেছেন।