নেপালি তরুণের মাথা মুড়িয়ে জোর করে বলানো হল জয় শ্রী রাম! ভিডিও দেখে গ্রেপ্তার চার

বারাণসীর পুলিশ প্রধান অমিত পাঠক বলেছেন, "এই ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঌ বাকিদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। আমরা কড়া ব্যবস্থা নেবো।" 

চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা চিহ্নিত, জানিয়েছে পুলিশ।

বারাণসী:

ভূখণ্ড বিতর্কে বেড়েছে ইন্দো-নেপাল কূটনৈতিক উত্তেজনা। এই পরিবেশে বারাণসীর সাম্প্রতিক ঘটনা আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিদেশ মন্ত্রকের। শুক্রবার একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক নেপালি যুবকের মাথা মুড়িয়ে তাঁকে জোর করে জয় শ্রী রাম বলানোর চেষ্টা চলছে (Varanasi Viral Video)। এমনকী নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতেও বাধ্য করা হয়েছে। এদিকে আবার সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, ভগবান রামের নেপালে জন্ম। আসল অযোধ্যা, কাঠমাণ্ডুর কাছে অবস্থিত।

অপরদিকে, এই ভিডিও ভাইরাল হতেই আসরে নামে পুলিশ। বারাণসীর পুলিশ প্রধান অমিত পাঠক বলেছেন, "এই ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঌ বাকিদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। আমরা কড়া ব্যবস্থা নেবো। অরুণ পাঠক নামে এক অভিযুক্ত ভিডিও শেয়ার করেছেন। বাকি যাঁদের দেখা গিয়েছে, ওরা অরুণের সহযোগী।" 

পুলিশি এই ব্যবস্থার পাশাপাশি ভারতে নিযুক্ত নেপালের এনভয় নীলাম্বর আচার্য উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ওই নেপাল কূটনীতিককে দিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। 

এদিকে, লক্ষ লক্ষ হিন্দুরা ভগবান রামের জন্মস্থান বলে যে প্রাচীন শহর অযোধ্যাকে বিশ্বাস করেন তা আসলে কাঠমাণ্ডুর কাছে অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রাম! সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। শুধু তাই নয়, পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন যে ভগবান রাম আসলে নেপালি ছিলেন। নিজের বাসভবনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় কেপি শর্মা অলি ভারতকে সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ও আগ্রাসনের জন্য অভিযুক্ত করেন এবং বলেন যে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নেপালের অবদানের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

“আমরা এখনও বিশ্বাস করি যে আমরা সীতাকে রাজকুমার রামকে দিয়েছিলাম তবে আমরা রাজপুত্রকেও দিয়েছি, অযোধ্যা থেকে। এই অযোধ্যা ভারতের অযোধ্যা নয়! এই অযোধ্যা বীরগঞ্জের একটি গ্রাম (নেপালের একটি জেলা যা রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত), বলেন প্রধানমন্ত্রী অলি।

নেপালের ডিজিটাল সংবাদপত্র, নেপালি নিউজ ওয়েবসাইট সেতোপাতি ডটকম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে, “সংস্কৃতিগতভাবে আমরা কিছুটা নিপীড়িত হয়েছি। সত্যঘটনাগুলিকে দখল করে নেওয়া হয়েছে।" প্রধানমন্ত্রী অলি আরও বলেছেন: “সত্যিকারের অযোধ্যা নেপালে, ভারতে নয়। ভগবান রামও নেপালি, ভারতীয় নন।