মধ্যপ্রদেশ বিধানসভাতেও করোনা প্রভাব? তেমনই ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল বৈঠকে

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী, সে রাজ্যের রাজ্যপাল লালজি ট্যান্ডনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে করোনা সংক্রমণের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলেও আগে সরকার বাঁচাতে ফ্লোর টেস্টের পক্ষে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস পরিচালিত সরকার।

শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপাল লালজি ট্যান্ডনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ।

হাইলাইটস

  • জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন ২২ জন কংগ্রেস বিধায়ক
  • সেই ২২ জনের মধ্যে ১৩ জনকে বিধানসভায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে
  • রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জ্যোতিরাদিত্য
ভোপাল:

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই আস্থাভোট (Floor Test) করে ফেলতে চাইছে মধ্যপ্রদেশের কমল নাথ সরকার (Kamal Nath government)। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী সে রাজ্যের রাজ্যপাল লালজি ট্যান্ডনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন (Chief Minister-Governor meet)। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে করোনা সংক্রমণের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলেও আগে সরকার বাঁচাতে ফ্লোর টেস্টের পক্ষে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস পরিচালিত সরকার। এদিন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কমল নাথ বলেন, "ভাইরাস সংক্রমণ পরে দেখব, এখানে আগে রাজনীতিতে সংক্রামিত করোনা দূর করতে হবে।" জানা গিয়েছে, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ২২ জন কংগ্রেস বিধায়ক ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করার পরেই সে রাজ্যে সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে ((Madhya Pradesh Crisis) কংগ্রেস সরকার। ফলে এখন সরকার টিকিয়ে রাখতে ভরসা আস্থা ভোট। আর সেটা যত দ্রুত সম্ভব সেরে ফেলতে চাইছে মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস।

জানা গিয়েছে, ওই ২২ জন কংগ্রেস বিধায়কের ইস্তফা গৃহীত হলে বিধানসভার সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ২০৫। সেক্ষেত্রে অনায়াসেই ১০৭ জন বিধায়ক নিয়ে আস্থাভোটে কেল্লাফতে করতে পারবে বিজেপি। সে রাজ্যের বিধানসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ২৩০ জন হলেও, এক বিধায়ক সাসপেন্ড ও দুই বিধায়কের আসন শূন্য। ফলে ২২৭ জন বিধায়ক সম্বলিত মধ্যপ্রদেশে ম্যাজিক ফিগার ১১৪-র চেয়ে বেশি, ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন আছে কমল নাথ সরকারের। কিন্তু বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস বিধায়কদের পদত্যাগ গৃহীত হলেই টলমল হয়ে পড়বে কংগ্রেস সরকার। 

৬ মাসের বেশি সময় ধরে আটক ফারুক আবদুল্লাকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা

আর সেই পরিস্থিতি এড়াতে চাইছেন কমল নাথ, দিগ্বিজয় সিংরা। এদিকে কমল নাথ ঘনিষ্ঠ এক কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, "বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের কর্নাটকে আটক করে রাখা হয়েছে। ফলে কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।" তাই কমল নাথ রাজ্যপাল লালজি ট্যান্ডনকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন, ওই বিধায়কদের অবিলম্বে রাজ্যে ফেরার ব্যবস্থা করুক রাজ ভবন। একই কথা সাংবাদিকদের সামনেও বলেছেন কমল নাথ। তিনি বলেন, "বিধায়করা বন্দি, এই অবস্থায় কী করে আস্থা ভোট সম্ভব। ওদের আগে মুক্ত করুক, মধ্যপ্রদেশে নিয়ে আসুক। কেন ওদের সংবাদমাধ্যমের সামনে আসতে দেওয়া হচ্ছে না?" অপরদিকে খবর, মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার অধ্যক্ষ এনপি প্রজাপতি আগামী ১৬ মার্চ আস্থা ভোট আয়োজনের নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত করেছেন। সেই দিনেই ভোট চাইছে কংগ্রেসও। রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে তেমনটাই উল্লেখ। 

দিল্লিতে আরও এক করোনা আক্রান্তের সন্ধান, সহকর্মীদের দিকেও কড়া নজর

এদিকে আবার, মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার অধ্যক্ষ এনপি প্রজাপতি এনডিটিভি-কে বলেছেন, ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করা বিধায়কদের ১৪ মার্চের মধ্যে বিধানসভায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। সশরীরে হাজির হলেই তাঁদের ইস্তফা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, ঘর গুছোতে তৎপর দুই পক্ষই। কমল নাথ সরকারের সঙ্গে থাকা ৯৪ জন বিধায়ককে জয়পুরের নিরাপদ আস্তানায় পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি বিজেপি, তাদের ১০৭ জন বিধায়ককে গুরগাঁওয়ের হোটেলে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছে।