This Article is From Nov 06, 2018

সাত দশক ধরে মানবতার আন্তরিক বার্তাটি দিয়ে আসছে বড়িশা শান্তি সংঘের পুজো

বড়িশা শীলপাড়ার শান্তি সংঘের সদস্যরা এখনও সেই একইরকম ইচ্ছে ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে পুজোটা চালিয়ে যান। এই বছর তা পড়ল ৬৯-তম বর্ষে।

সাত দশক ধরে মানবতার আন্তরিক বার্তাটি দিয়ে আসছে বড়িশা শান্তি সংঘের পুজো

১৯৫০ সাল। দেশ স্বাধীন হয়েছে মাত্র তিন বছর। বড়িশার শীলপাড়াতে ওই বছরেই শুরু হল একটি নতুন পুজো। শুরু করলেন সেই সময়ের কয়েকজন স্থানীয় যুবক। শুরু করলেন একটি কালীপুজো। তখন সঙ্গতি কম। বাজেট বলেও তেমন কিছু ছিল না। যা ছিল, তা কেবল একটা দারুণ ইচ্ছে এবং নতুনভাবে নতুন কিছু করার আত্মবিশ্বাস। বড়িশা শীলপাড়ার শান্তি সংঘের সদস্যরা এখনও সেই একইরকম ইচ্ছে ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে পুজোটা চালিয়ে যান। এই বছর তা পড়ল ৬৯-তম বর্ষে।

"আমরা আসলে সারা বছরই এই পুজোটা নিয়ে ভাবি। কতটা নতুন কী করা যায়। কতটা নতুনভাবে করা যায়। তবে, যতই নতুন হোক না কেন, যা কিছু চিরকালীন এবং সময়ের বেড়াজালটি ছাপিয়ে যায় নির্দ্বিধায়, তাকেও দূরে সরিয়ে রাখার কথা ভাবিনি কখনও আমরা। ঠিক সেই কারণেই, আমাদের পুজোর প্যান্ডেল গত বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন থিম অনুসারে হলেও, প্রতিমাটি সেই চিরন্তন কাঠামোর মধ্যেই থাকে। এক্ষেত্রে, আরও একটি ব্যাপার হল, আমাদের যে প্রতিমা হয়, তাঁর রঙ ঠিক সচরাচর আরও পাঁচটি শ্যামাপুজোতে প্রতিমার যে রঙ দেখা যায়, তার সঙ্গে মেলে না। আমাদের প্রতিমার রঙ আরও একটু গাঢ় হয়। সেটা দেখলেই বুঝতে পারা যাবে", বলছিলেন বড়িশা শান্তি সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ দাস।

এই বছর শান্তি সংঘের থিম- জল ধরো, জল ভরো। এই বছর এখনও পর্যন্ত এই পুজো কমিটি তাদের কালীপুজোর জন্য পুরস্কার জিতে নিয়েছে দশটি। এছাড়া, এই বছরও প্রায় একশোজন দুঃস্থ মানুষকে দান করা হয়েছে কম্বল। "আমরা আক্ষরিকভাবেই মনে করি, পুজোটা সকলের। সমাজের সব ধর্মের এবং সব স্তরের মানুষের জন্যই পুজো। আনন্দ। উৎসব। তাই আমাদের ক্লাবের পুজো কখনওই কোনওভাবে কাউকে এই আনন্দটা থেকে বঞ্চিত করতে চায় না", বলছিলেন রাজেশ বাবু। তাঁর পাশে তখন মানুষের ঢল নেমেছে। কলকাতার উপকণ্ঠের একটি কালীপুজোয় যতটা ভিড় সচরাচর চোখে পড়ে না। 

 

কোনও চিরনতুনকে দেখার আশায় যে ভিড়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে কত অজস্র শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ এবং যুবক-যুবতীরা।