কষ্টের মধ্যেও "প্রথম বিমানে চড়ার আনন্দ", কিছুক্ষণের জন্যে আত্মহারা পরিযায়ী শ্রমিকরা

Migrant Workers: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জারি লকডাউনে শ্রমিকরা যে সঙ্কটে পড়েছে তা কাটাতে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার, জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট

Air Asia: এয়ার এশিয়ার বিশেষ বিমানে মুম্বই থেকে রাঁচিতে নিয়ে আসা হয় ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের

হাইলাইটস

  • ১৭৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক নিজের রাজ্যে ফিরলেন বিমানে চড়ে
  • এয়ার এশিয়ার বিশেষ বিমানে মুম্বই থেকে রাঁচিতে ফেরানো হল তাঁদের
  • কয়েকজন আইন স্কুলের প্রাক্তনী এবং এনজিও-র সহায়তায় ওই সুযোগ পেলেন তাঁরা
মুম্বই/রাঁচি:

লকডাউনে দিনের পর দিন ভিনরাজ্যে আটকে থেকে বহু পরিযায়ী শ্রমিকই (Migrant Workers) পায়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরবেন বলে পথে বেরিয়ে পড়েছিলেন। রাস্তা কী কম দূর? সেই মুম্বই থেকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি। কিন্তু পথেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। এমনকী মালবাহী ট্রাকে করে লুকিয়ে ফিরতে গিয়েও ধরা পড়ে গেছিলেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে মুম্বইয়ে আটকে পড়া ওই শ্রমিকরা যখন ক্রমেই বাড়ি ফেরার আশা ত্যাগ করছিলেন সেই সময়েই এল সুখবর। জানা গেল, তাঁদের ফেরানোর জন্যে ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশেষ ট্রেন নয়, একেবারে প্লেনের। এয়ার এশিয়ার (Air Asia) সেই বিশেষ বিমানে করে ১৭৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক বৃহস্পতিবার ভোরে ফিরলেন রাঁচির বিরসা মুণ্ডা বিমানবন্দরে। জীবনে প্রথমবার বিমানে চড়লেন ওই শ্রমিকরা। ফলে স্বপ্নেও আকাশে ওড়ার যে স্বপ্ন তাঁরা দেখেননি, লকডাউনের সংকটের সময় সেই ঘটনাই সত্যি হল তাঁদের ক্ষেত্রে। ফলে আনন্দে আত্মহারা শ্রমিকরা কিছুক্ষণের জন্যে হলেও ভুলে গেলেন তাঁদের এতদিনের জীবনযুদ্ধ।

পরিযায়ী সংকটে কিছু লোকের নেতিবাচক মানসিকতাকেও দায়ী করল কেন্দ্র

এয়ার এশিয়ার যে বিমানে করে তাঁদের বৃহস্পতিবার মুম্বই থেকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে নিয়ে আসা হয় সেই বিমানটির ব্যবস্থা আসলে করেছিলেন কিছু সহৃদয় মানুষ।  বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল এর প্রাক্তন এক শিক্ষার্থী মুম্বইয়ে আটকে থাকা ওই পরিযায়ীদের ফেরাতে কিছু অর্থ সংগ্রহ করছিলেন। তখনই একটি এনজিওর তরফ থেকে ওই বিমানের ব্যবস্থা করা হয়। যদিও জানা গেছে, ওই এনজিওর পাশাপাশি বিমানটির উড়ানের ব্যয়ে ভর্তুকি দেয় খোদ এয়ার এশিয়া বিমান সংস্থাটিও।

পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে ভাড়া নেওয়া যাবে না, রেল ও রাজ্যকে দিতে হবে খাবার: সুপ্রিম কোর্ট

ওই বিমান সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, "আমরা জাতীয় আইন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রয়েছি, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে তাঁরা মুম্বই থেকে রাঁচিতে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর চেষ্টা করছেন। আমরাও তাই স্বেচ্ছায় তাঁদের সেই প্রচেষ্টায় কিছুটা সাহায্য করেছি"।

সেই মার্চ মাসে লকডাউনের কারণে সমস্ত গণপরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রীতিমতো আতান্তরে পড়েছিলেন পেশায় অটো চালক কমলেশ্বর (২২)। বিমানে করে ফিরে এসে তিনি এখন এই ভেবে স্বস্তি পাচ্ছেন যে, অবশেষে কয়েক সপ্তাহ কষ্টের পরে তিনি বাবা-মা, ভাই এবং বোনকে দেখতে পাবেন। তিনি জানান, আইন স্কুলের প্রাক্তনী প্রিয়াঙ্কা রাইয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়, তিনিই তাঁকে বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করে দেন। 

"এটা আমার প্রথম বিমান যাত্রা", একথা বলার সময় আনন্দে চোখ চকচক করে ওঠে কমলেশ্বরের।

07h6ndd8বৃহস্পতিবার ভোরে রাঁচির বিরসা মুণ্ডা বিমানবন্দর থেকে নারী ও শিশু সহ পরিযায়ী শ্রমিকদের এই দলটি ফেরে

দর্জি আসলাম আনসারি তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে মুম্বইয়ে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েন। সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করতে গিয়ে তিনি বলেন, "যখন লকডাউন শুরু হয়েছিল, তখন মুম্বইয়ে আর আমার কোথাও ঘোরা বাকি ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার পরিবারকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাইছিলাম। পরে আমি এই এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করি"।

মহেন্দ্র নামের আরেক পরিযায়ী শ্রমিক নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সম্প্রতি মুম্বইয়ে তাঁর চাকরিটি হারিয়ে ঘরে ফেরার পুঁজিটুকুও পাচ্ছিলেন না। প্রতিদিনের খাবারের জন্যেও লড়াই করে যাচ্ছিলেন তিনি। "তারপরে হঠাৎ, একদিন, আমি একটি ফোনে জানতে পারি যে আমি বাড়ি ফেরার জন্যে একটি বিমানের টিকিট পাবো। এভাবে বিনা খরচে বিমানে চড়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ", এই কথা বলার সময়েও মহেন্দ্রর চোখমুখ থেকে বিস্ময়ের ঘোর কাটেনি। 

এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জারি লকডাউনে শ্রমিকরা যে সঙ্কটে পড়েছে তা কাটাতে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার, তা জানতে চেয়ে হলফনামা তলব করে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।