রাজ্যের প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তার জন্যে এগিয়ে এলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী

Coronavirus: করোনা লকডাউনের কারণে বিভিন্ন রাজ্যেই বহু প্রবাসী শ্রমিক আটকে পড়েছেন, ঘরে ফেরার জন্যে আকুল হয়েছেন তাঁরা

রাজ্যের প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তার জন্যে এগিয়ে এলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী

COVID- 19: সারা দেশের কংগ্রেস নেতাদের এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে শ্রমিকদের সহায়তার জন্যে দরবার করেছেন অধীর চৌধুরী

হাইলাইটস

  • করোনা সংক্রমণ এড়াতে দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন
  • এই লকডাউনের ফলে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়ছেন প্রবাসী শ্রমিকরা
  • তাঁদের সাহায্যের জন্যে এগিয়ে এলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী
নয়া দিল্লি:

করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) সংক্রমণ রুখতে দেশ জুড়ে টানা লকডাউন চলছে। এই পরিস্থিতিতে (COVID- 19) বিভিন্ন রাজ্যে কাজের খোঁজে গিয়ে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সহ বহু রাজ্যের প্রবাসী শ্রমিক। এই অসহায় মানুষদের পাশে এবার দাঁড়ালেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য রাজ্যের থেকে যে শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে গিয়ে আটকে পড়েছেন সেই প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তা করার জন্যে নিজের দিল্লির কার্যালয়কে রীতিমতো একটি মিনি কন্ট্রোল রুমে পরিণত করেছেন ওই কংগ্রেস নেতা (Adhir Ranjan Chowdhury)। সেখান থেকই তিনি তাঁর স্ত্রী অতসী এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশ জুড়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। কোন রাজ্যে ঠিক কতজন প্রবাসী শ্রমিক আটকে পড়েছেন তার একটা তথ্য তালিকাও তৈরি করেছেন তাঁরা। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন যে প্রতিদিন তিনি অসংখ্য শ্রমিকদের ফোন পাচ্ছেন। বিশেষত মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে আটকে পড়া প্রায় ৫০০-রও বেশি শ্রমিকের ফোন পেয়েছেন তিনি।

ভারতীয় নৌ সেনার ২১ জন নাবিক করোনা পজিটিভ, তবে সংক্রমিত নয় যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন

"আমি পশ্চিমবঙ্গ এবং বিশেষ করে আমার নির্বাচনী এলাকা বহরমপুর থেকে আসা লোকেদের কাছ থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টি ফোন কল পাচ্ছি। মাঝে মধ্যে লোকজন তো খাবার ও আশ্রয় না পেয়ে ফোনে রীতিমতো চিৎকার করতে শুরু করে দেয়। আমার এলাকার মানুষজন খুব একটা অবস্থাপন্ন নয়। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই শ্রমিক, তাই এই সঙ্কটের মুহুর্তে তাঁদের সহায়তা দরকার। সুতরাং আমরা কত মানুষ কোথায় আটকে রয়েছেন তা নিয়ে একটি তথ্যতালিকা প্রস্তুত করছি এবং এরপরে আমরা তাঁদের সমস্যা সমাধানেরও চেষ্টা করবো", বলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। ইতিমধ্যেই সারা দেশের কংগ্রেস নেতাদের এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে শ্রমিকদের সহায়তার জন্যে দরবার করেছেন তিনি।

করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এই আশঙ্কায় 'সিল' করা হল কলকাতার বহু এলাকা

পোড়খাওয়া ওই কংগ্রেস নেতা বলেন, "আমি সারা দেশে আমার দলের নেতাকর্মীদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছি, আবেদন জানাচ্ছি বিভিন্ন সাংসদদের কাছেও। সঙ্কটের এই সময়ে আমি বিজেপি সাংসদ ও মন্ত্রীদের কাছে যেতেও দ্বিধা করছি না কারণ তারাও চাইলে আমায় এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন। আমার বন্ধুরা যতটা সম্ভব ওই শ্রমিকদের সাহায্য করছে। আমি বিভিন্ন জেলা শাসকের সঙ্গেও কথা বলেছি যাতে তাঁদের এলাকায় আটকে পড়া শ্রমিকদেরও সহায়তা দেওয়া হয়"।

পাশাপাশি তিনি ''অন্যান্য রাজ্যে কাজে গিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের'' সম্পর্কে সেভাবে খোঁজখবর না নেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও সমালোচনা করেন। 

"এটা একটা বিরাট সমস্যা যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে রাজ্যের বাইরে আটকা পড়া এই শ্রমিকদের সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই, তাই তাঁরা কিছুই করছে না। তবে আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই প্রবাসী শ্রমিকদের সহায়তা করার জন্যে একটি চিঠি লিখেছি। লকডাউনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে ওই শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা যায় সে ব্যপারে পদক্ষেপ করার জন্যে তাঁকে অনুরোধ করেছি", বলেন অধীর।

দেশ জুড়ে এখন ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন চলবে। যদিও ২০ এপ্রিল থেকে শিল্প সহ কিছু কিছু প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোতে ছাড় মিলবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।