This Article is From Oct 10, 2019

মাথায় খসড়া চিত্রনাট্য নিয়েই চিরঘুমে ঋতুপর্ণ: পরিকল্পিত সিনেমা নিয়ে আক্ষেপ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর

ঋতুপর্ণ ঘোষের দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঋতুপর্ণা। ‘দহন’ (১৯৯৭) এবং ‘উত্সব’ (২০০০)। দহন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ইন্দ্রাণী হালদার সহ সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরষ্কার পান ঋতুপর্ণা।

মাথায় খসড়া চিত্রনাট্য নিয়েই চিরঘুমে ঋতুপর্ণ: পরিকল্পিত সিনেমা নিয়ে আক্ষেপ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর

সিনেমার একটি দৃশ্যে ঋতুপর্ণা

কলকাতা:

বছর ৬ আগে হঠাৎই চলচ্চিত্রের অন্যধারাকে কিঞ্চিৎ অন্ধ করেই চলে যান পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ। ঘুমঘোরে তাঁর এই মৃত্যু শুধু ঋতুপর্ণকে তো নিয়ে যায়নি, নিয়ে গিয়েছে তাঁর মাথার ভিতরে থাকা অজস্র অনন্ত চলচ্চিত্র ভাবনাকে, হাজারো চিত্রনাট্যকে। তেমনই এক চলচ্চিত্র যাতে অভিনয় করার কথা ছিল টলিউডের অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তরও। সম্প্রতি ঋতুপর্ণা জানিয়েছেন, পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ তাঁকে মূল চরিত্রে রেখে একটি চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে, পরিচালকের অকালপ্রয়াণে জন্য আর কোনও দিন তৈরিই হবে না সেই চলচ্চিত্রটি। ঋতুপর্ণার কথায়, এ তাঁর আজীবন আক্ষেপ হয়েই রয়ে যাবে।

ঋতুপর্ণ ঘোষের দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঋতুপর্ণা। ‘দহন' (১৯৯৭) এবং ‘উত্সব' (২০০০)। দহন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ইন্দ্রাণী হালদার সহ সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরষ্কার পান ঋতুপর্ণা। 

‘লাইমলাইট'-এ দুই ঋতু! সামনে এল ফার্স্ট লুক, ট্রেলার, গান

“ঋতুদা আমার সঙ্গে আরও একটি সিনেমার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলাম আমি। তিনি গল্পটিও আমাকে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর অকাল মৃত্যুতে, ওই চলচ্চিত্রটি আর কখনই তৈরি হবে না। এ আমার আজীবন আক্ষেপ রয়ে যাবে,” পিটিআইকে বলেন ঋতুপর্ণা।

২০১৩ সালে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ, তখন তাঁর বয়স মাত্র ৪৯! ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত জানান, নানা ধরণে চরিত্রে অভিনয়ের খিদে রয়েছে তাঁর। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার মনে হয়, আমি যে যে ভাবে যে যে ভূমিকায় অভিনয় করতে চেয়েছি তার অর্ধেক মাত্র পেরেছি। আমার স্বপ্নের অর্ধেক ভূমিকা এখনও অধরাই রয়ে গেছে।” ‘শ্বেত পাথরের থালা' চলচ্চিত্র দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা, সেটা সাল ১৯৯২।

মুখোপাধ্যায় বাড়ির দেবীবরণ, সিঁদুর খেলায় মাতলেন কাজল-রানি-করণ

ঋতুপর্ণা আরও জানান, তাঁর তিনটি সিনেমা, ‘লাইমলাইট', ‘পার্সেল' এবং ‘বিদ্রোহিনী' মুক্তির জন্য প্রস্তুত। তাঁর আরও অন্য দুটি চলচ্চিত্র, ‘বেলাশুরু' এবং ‘দত্তা'র কাজ এখনও শেষ হয়নি। রেশমি মিত্র পরিচালিত ‘লাইমলাইট' চলচ্চিত্র নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতেই মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এই চলচ্চিত্রে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রের মূল নায়িকা তো অবশ্যই ঋতুপর্ণা, পাশাপাশি একজন জুনিয়র আর্টিস্টের ভূমিকাতেও রয়েছেন তিনিই।

“আমার দু'টো চরিত্রেরই চিত্রায়ন এমন ব্যক্তিদের দ্বারা অনুপ্রাণিত যাঁদের আমি জানি, চিনি কিন্তু সিনেমাটি অবশ্যই কাল্পনিক, বাস্তব জীবনের কোনও অভিনেত্রীর সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই,” বলেন ঋতুপর্ণা। ঋতুপর্ণা ‘দত্তা' সিনেমাটি নিয়েও খুবই উত্সাহী। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করেই এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত।

ঋতুপর্ণা বলেন, “এই নিখ্যাত উপন্যাসটি আংশিকভাবে চিত্রগ্রহণ করা হয়েছে। এটি একটি মহিলা কেন্দ্রিক চলচ্চিত্র এবং মূল বিষয়টি বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক।”

.