ইন্দো-চিন সীমান্ত সমস্যা প্রশমনে তৃতীয় বৈঠক নিষ্ফলা: প্রতিরক্ষা সূত্র

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত রাখতে সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরানো প্রাথমিক প্রাধান্য। এই বিষয়ে সহমত ইন্দো-চিন।

ইন্দো-চিন সীমান্ত সমস্যা প্রশমনে তৃতীয় বৈঠক নিষ্ফলা: প্রতিরক্ষা সূত্র

গত মাসের সংঘাতে ২০ জন সেনা শহিদ হয়েছেন।

নয়াদিল্লি:

ইন্দো-চিন সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বুধবারের বৈঠক নিষ্ফলা । গত দুই মাসে এই নিয়ে তিন নম্বর বৈঠক। কিন্তু মেলেনি সমাধানসূত্র। আরও কয়েকটি পর্বের ওপর নির্ভর করছে বৈঠকের ভবিষ্যৎ। এদিন এমন ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র। সামরিক পর্যায়ের এই বৈঠক গত ৩০ জুন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর ভারতে, চুশূলে হয়েছে। সেই সূত্র দাবি করেছে, আরও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে এই বৈঠকগুলো হবে। পারস্পরিক  (Indo-China relationship)সমঝোতার ভিত্তিতে এই উত্তেজনা প্রশমনে সিদ্ধান্ত হবে। পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরান হবে।" প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত রাখতে সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরানো প্রাথমিক প্রাধান্য। এই বিষয়ে সহমত ইন্দো-চিন।

এদিকে, ভারতে ৫৯ টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন চিন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে তারা, সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর। ভারতের তথ্য় প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছেন যে, অ্য়ান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্য়াটফর্মে থাকা মোবাইল অ্য়াপকে অপব্য়বহার করে গ্রাহকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই কারণেই সবদিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ভারতের এই কড়া পদক্ষেপ জানার পরেই নড়েচড়ে বসে চিন। সেদেশের বিদেশমন্ত্রকের ঝাও লিজিয়ান বলেন, "ঘটনা জানার পর চিন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং পরিস্থিতি যাচাই করে দেখছে"।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ২০ জন ভারতীয় সেনা মারা যান ও ৭০ এরও বেশি সেনা আহত হন। মনে করা হচ্ছে, তার জেরেই চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধকরণের এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার।

সোমবার তথ্য় প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে এ ব্য়াপারে জানানো হয়েছে, ওই অ্য়াপগুলি দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, দেশের সুরক্ষার জন্য় ক্ষতিকারক। সেকারণেই ওই অ্য়াপগুলিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তথ্য় প্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় অ্য়াপগুলি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে যে চাইনিজ অ্যাপগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় টিকটক অ্যাপের তরফ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা সবসময়ই "ভারতীয় আইনের অধীনে তথ্যের গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই মেনে চলেছে"। পাশাপাশি সংস্থাটির দাবি, ভারতের টিকটক ব্যবহারকারীদের কোনও তথ্যই "চিনের সরকার সহ বিদেশি কোনও সরকারের" কাছে প্রকাশ করেনি তারা। 'টিকটক ইন্ডিয়া'-র প্রধান নিখিল গান্ধি পরিষ্কারভাবে বলেন, "আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলার জন্যে ডেকে পাঠানো হয়েছে, আমরা তাতে সাড়া দেবো এবং আমাদের তরফে স্পষ্ট করেই সব ব্যাখ্যা দেবো।"