আমফান-দুর্গত ওড়িশা পরিদর্শন করে অগ্রিম ৫০০ কোটি টাকার ত্রাণ ঘোষণা করলেন মোদি

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, ওড়িশা সরকার আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে, তবে ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় কৃষিক্ষেত্রের পাশাপাশি আবাসন, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামোগত ক্ষতি করেছে।

আমফান-দুর্গত ওড়িশা পরিদর্শন করে অগ্রিম ৫০০ কোটি টাকার ত্রাণ ঘোষণা করলেন মোদি

ভারত সরকার ওড়িশার জন্য আগে থেকেই ৫০০ কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করছে, জানান মোদি

নয়াদিল্লি:

ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিধ্বস্ত অঞ্চল ঘুরে দেখার পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যপাল গণেশী লাল এবং মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে পর্যালোচনামূলক বৈঠক শেষে ওড়িশার জন্য ৫০০ কোটি টাকা অগ্রিম আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ওডিশার মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ জেলা জগতসিংপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভদ্রক, বালাসোর, জাজপুর এবং ময়ূরভঞ্জ পরিদর্শন করেন ৯০ মিনিট ধরে।

“তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনের জন্য, ভারত সরকার ওড়িশার জন্য আগে থেকেই ৫০০ কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করছে। পুরো সমীক্ষা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরির পরে কেন্দ্র ওড়িশা সরকারকে আরও সাহায্য করবে এবং এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাকি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে,” বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, ওড়িশা সরকার আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে, তবে ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় কৃষিক্ষেত্রের পাশাপাশি আবাসন, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামোগত ক্ষতি করেছে।

শুক্রবার দিনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসেন এবং আমফান-বিধ্বস্ত রাজ্যের জন্য এক হাজার কোটি টাকার ত্রাণের প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

এই সফরকালে, প্রধানমন্ত্রী করোনা সতর্কতা হিসেবে মুখ ঢেকেছিলেন চাদরে। দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেই অবশ্য মাস্ক পরে দেখা গিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘূর্ণিঝড়ে যারা মারা গিয়েছেন তাদের পরিবার পিছু দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০,০০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন।

পশ্চিমবঙ্গে প্রতি ঘণ্টায় ১৮৫ কিমি (১১৫ মাইল) বেগে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বৃষ্টিতে জল জমা থেকে শুরু করে বাড়ির ছাদ উড়ি যাওয়া, গাছ উপড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে গিয়ে তছনছ হয়ে গিয়েছে উপকূলীয় বঙ্গ। মারা গিয়েছেন ৮০ জন।

“ঘূর্ণিঝড় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। তবুও আমরা প্রায় ৮০ জনের জীবন বাঁচাতে পারিনি,” দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করার সময় বসিরহাটের একটি বিদ্যালয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী।