নিজে করে দেখান, করোনা সঙ্কটের সমাধান নিয়ে অমিত শাহকে মুখ্যমন্ত্রী, জবাবে কী বললেন অমিত শাহ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যদি আপনি মনে করে থাকেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাজটা করতে পারছে না তাহলে আপনি নিজেই কেন আপনার কাঁধে দায়িত্বটা তুলে নিচ্ছেন না?’’

নিজে করে দেখান, করোনা সঙ্কটের সমাধান নিয়ে অমিত শাহকে মুখ্যমন্ত্রী, জবাবে কী বললেন অমিত শাহ

বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী এবিষয়ে তাঁর বক্তব্য রাখেন।

কলকাতা:

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা প্রসঙ্গে হওয়া তাঁর কথোপকথনের বিষয়ে। মমতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন যদি তিনি মনে করে থাকেন রাজ্য সরকার রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ, তাহলে তিনি নিজেই বিষয়টির দায়িত্ব নিয়ে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। পাশাপাশি পরিযায়ীদের ট্রেন নিয়ে রেলমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ২৮টি ট্রেন রাজ্যে ঢুকছে যেগুলি মহারাষ্ট্র থেকে আসবে। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি অমিত শাহকে বলেছি, আপনারা ক্রমাগত কেন্দ্রীয় দল পাঠাচ্ছেন বাংলায়। সে করুন। কিন্তু যদি আপনি মনে করে থাকেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাজটা করতে পারছে না তাহলে আপনি নিজেই কেন আপনার কাঁধে দায়িত্বটা তুলে নিচ্ছেন না? আমার কোনও সমস্যা নেই।''

‘‘উত্তরে তিনি যা বলেছেন আমি সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।'' মমতা আরও বলেন, ‘‘উনি বলেছেন... না, না, আমরা কী করে একটা নির্বাচিত সরকারকে স্থানচ্যুত করতে পারি। উনি এই কথাই বলেছেন।''

অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে করোনা সঙ্কট নিয়ে পারস্পরিক অভিযোগ জানানোর বিষয়টি বারবার নজরে এসেছে। এবিষয়ে কেবল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও রাজ্যের মুখ্য সচিবের মধ্যে চিঠি চালাচালির পাশাপাশি অমিত শাহ নিজে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানান, করোনা মোকাবিলায় কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে রাজ্যের।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি সাধারণত এসব কথা আলোচনা করি না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি অমিত শাহকে বলতে চাই, টেক কেয়ার। আপনারা লকডাউন করেছেন। কিন্তু ট্রেন ও প্লেন চলছে। তাহলে মানুষের কী হবে?''

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে চাই, দয়া করে দেখুন করোনা যেন না ছড়ায়। আমাদের এরই মধ্যে ১ লক্ষ কেস রয়েছে। কেউ কেউ এটা নিয়েও রাজনীতি করছেন। বিহার আক্রান্ত। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ সর্বত্রই এটা ছড়িয়ে পড়ছে। আমি কী করব? এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমি চাই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুন।''

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হঠাৎ এভাবে পরিযায়ী ট্রেন পাঠিয়ে বাংলার সঙ্গে রাজনৈতিক খেলা শুরু করা হচ্ছে তাঁকে সমস্যায় ফেলতে। তাঁর মতে, ‘‘ওরা আমায় সমস্যায় ফেলতে চেয়ে পশ্চিমবঙ্গকেই সমস্যায় ফেলছে। আমাকে রাজনৈতিক ভাবে সমস্যায় ফেলুন, কিন্তু পরিযায়ী ট্রেন সম্পর্কে কিছু পরিকল্পনা করুন।''
তিনি বলেন, ‘‘এসব কী ধরনের নির্বুদ্ধিতা? আমরা একদিকে করোনা সামলাচ্ছি। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়। এই সময় এসব ট্রেন পাঠানো হচ্ছে। রেল মন্ত্রকের কি কোনও দায়িত্বজ্ঞান নেই? পাঠানোর আগে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে তাদের আলোচনা করা উচিত ছিল।''