"কোনও পরিযায়ী শ্রমিক পায়ে হেঁটে যেন না ফেরেন": নির্দেশ যোগী আদিত্যনাথের

পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে রাজ্যের আধিকারিকদের নির্দেশ দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, যদিও যুবক থেকে প্রবীণ বহু শ্রমিকই পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন

লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে,উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রায় পাঁচ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারকে রাজ্যের তরফ থেকে বাসের ব্যবস্থা করে ফিরিয়ে এনেছে

লখনৌ, উত্তরপ্রদেশ:

উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) থেকে ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে গিয়ে লকডাউনের (Coronavirus Lockdown) কারণে আটকে পড়া শ্রমিকদের (Migrant Labour) কাউকেই যাতে পায়ে হেঁটে ফিরতে না হয় তার জন্যে রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কোনও পরিযায়ী শ্রমিককেই যাতে দিল্লি বা অন্যান্য শহর থেকে পায়ে হেঁটে উত্তরপ্রদেশে ফিরে আসতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে আধিকারিকদের বললেন যোগী (Yogi Adityanath)। বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাস জনিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় বার্তা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ের তরফে এক বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, রাজ্য সরকার "তাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে"। যদিও জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সাহায্যের প্রত্যাশা না করেই যুবক থেকে প্রবীণ বহু শ্রমিকই পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এমনকী তাঁদের মধ্যে বহু শিশুও আছে বলে খবর মিলেছে। শত শত কিলোমিটার পায়ে হেঁটেই ফেরার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন তাঁরা।

যোগী আদিত্যনাথের কার্যালয় থেকে এই বিবৃতি জারি করা হয়েছে, "রাজ্যের কোনও পরিযায়ী শ্রমিককেই যাতে রাজ্যে হেঁটে ফিরে আসতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি আধিকারিকদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয়"।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের এই নির্দেশের পরে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, দিল্লি ও নয়ডা থেকে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করা প্রায় ১৭২ জন পরিযায়ী শ্রমিককে রাজধানী লখনউ থেকে ৫১৪ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের জাতীয় সড়কের উপর আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

মোবাইল ক্যামেরায় তোলা ভিডিওতে দেখা গেছে পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের ঘিরে রেখেছেন পুলিশ কর্মীরা। ফলে ওই শ্রমিকদের রাস্তার উপরেই বসে থাকতে দেখা গেছে; যদিও পরে তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তারপর তাঁদের মাথা গোঁজার জন্যে আপাতত একটি কলেজের শ্রেণিকক্ষ খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন শুক্রবার ওই শ্রমিকদের জানিয়েছে যে তাঁদের বাড়ি ফেরার জন্যে বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করছে সরকার।

পাশের রাজ্য দিল্লি, হরিয়ানা এবং রাজস্থান থেকে উত্তরপ্রদেশে নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসার জন্যে হাঁটা শুরু করেছিলেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক। পুলিশ তাঁদের বৃহস্পতিবার মাঝপথেই থামিয়ে দেয়। যদিও ইতিমধ্যেই কয়েকশো কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পেরিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। আপাতত তাঁদের জন্যেও অস্থায়ী খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিছু শ্রমিক জানান, গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার মতো পকেটে তেমন টাকা পয়সা নেই তাঁদের, তাই পায়ে হাঁটারই সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাঁদের। কয়েকজন আবার জানান, কোনওরকমে ট্রাকে করে বাড়ি ফেরার বন্দোবস্ত করার পরেও মাঝপথে ট্রাক থামিয়ে তাঁদের নামিয়ে নেয় পুলিশ। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া পরিযায়ী শ্রমিক নীতিন গোস্বামী বলেন, “আমরা রাজস্থানের আলওয়ার থেকে আসছি। আমরা মাঝপথে একটি ট্রাক পেয়েছিলাম। সেই ট্রাকের চালক ১০ কিলোমিটার পেরোনোর জন্য ১০০ টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ মাঝপথেই ওই ট্রাক থামিয়ে দিয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হবে নিশ্চয়ই। কিন্তু দেখা গেল সামান্য কিছু ভাত আর পোলাও আমাদের খেতে দেওয়া হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম”। তাঁর সঙ্গে  স্ত্রী এবং ২ বছরের একটি শিশুও ছিল।

জানা গেছে, লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে,উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রায় পাঁচ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারকে রাজ্যের তরফ থেকে বাসের ব্যবস্থা করে ফিরিয়ে এনেছে।