This Article is From Dec 26, 2019

বিজেপি-পন্থী না বিরোধী, সমতা বজায় রেখে চলতে চাইছেন কেসিআর আর জগন রেড্ডি

Citizenship Amendment Act: ই রাজ্যের শাসক দল কোনওভাবেই চায় না, রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির শক্তি বাড়ুক, দাবি বিশেষজ্ঞদের।

বিজেপি-পন্থী না বিরোধী, সমতা বজায় রেখে চলতে চাইছেন কেসিআর আর জগন রেড্ডি

কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রেখে চলেছেন জগনমোহন রেড্ডি

হায়দরাবাদ:

বিজেপি-পন্থী না বিজেপি-বিরোধী? এই প্রশ্নে সমতা বজায় রেখে চলতে চাইছেন কে চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর)  আর জগন্মোহন রেড্ডি। তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ; পড়শি এই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাঁদের রাজ্যে এনআরসি আর সিএএ লাগু করার ব্যাপারে জল মেপে এগোতে চাইছেন। কেন্দ্র এবং মুসলিম সম্প্রদায়; এই দুটো ফ্যাক্টরের ওপর থাকা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার হিসেবে কষেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাঁরা, জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  একদিকে জগন্মোহনের ওয়াইএসআর কংগ্রেস নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষে ভোট দিয়ে সংসদে বিজেপি সরকারের সুবিধা করে দিয়েছে। পাশাপাশি সে রাজ্যে এনআরসি লাগু হবে না বলে সরকারি সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি। অন্যদিকে কেসিআর তথা তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এনআরসি নিয়ে মুখ না খুললেও সংসদে সিএএ-র বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল তাঁর দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস)।

বুধবার হায়দ্রাবাদের সাংসদ তথা এআইএমআইএম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়েসি, ৩৪টি মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই বৈঠকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন, অবিলম্বে তেলেঙ্গানায় চলা এনপিআর সংক্রান্ত সব কাজ বন্ধ রাখা হোক। ওই প্রতিনিধি দলের থেকে দুদিন সময় চেয়ে নিয়েছিলেন কেসিআর। পাশাপাশি ওয়েসিকে,  শুক্রবার ২৭ ডিসেম্বর, নিজামাবাদের জনসভায় এনপিআর, এনআরসি আর সিএএ-বিরোধী সব দলকে এক মঞ্চে নিয়ে আসতে পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। 


এদিকে কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গ এনপিআর সংক্রান্ত সব কাজ স্থগিত রেখেছে। সমোলোচকরা বলছেন, এই এনপিআর, এনআরসি'র প্রথম ধাপ। কেন্দ্রের সরকার এই দাবি নস্যাৎ করেছে।  তবে পড়শি এই দুই রাজ্যের শাসক দল, সংসদে বিজেপি'র নেতৃত্বাধীন সরকার পক্ষকে ধারা-৩৭০ বিলোপ এবং তিন তালাক রদের মতো একাধিক বিল পাস করতে সাহায্য করেছে। যদিও ওয়াইএসআর কংগ্রেস আর টিআরএস, যৌথভাবে দাবি করে, তারা কেন্দ্রের সরকারকে ইস্যুভিত্তিক সমর্থন জুগিয়ে আসছে। এবং তারা চায় এই আর্থিক সংকটের কালে কেন্দ্র তাদের আর্থিক সাহায্য করুক।

বিজেপি ইতিমধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার রাজনৈতিক ময়দানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। তেলেঙ্গানা থেকে বিজেপি ৪টি সাংসদ পেলেও অন্ধ্রপ্রদেশে তারা এখনও খাতা খুলতে পারেনি। তাই দুই রাজ্যের শাসক দল কোনওভাবেই চায় না, রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির শক্তি বাড়ুক, দাবি বিশেষজ্ঞদের। দুই রাজ্যে অন্তত ১২ শতাংশ মুসলিম ভোটার। সেই ভোট ব্যাংকের দিকে তাকিয়ে টিআরএস এবং  ওয়াইএসআর কংগ্রেস। কেসিআরের দাবি, "এআইএমআইএম-এর সঙ্গে তাদের  কোনও জোট নেই। ওরা বন্ধু দল।" কিন্তু এই বন্ধু দল আগামী বছর হায়দরাবাদ পুর ভোটে টিআরএস-কে সুবিধা পাইয়ে দেবে বলে, দাবি দলীয় একটা সূত্রের। এলাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলিম নাগরিক।   


এদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশে সিএএ'র সমর্থনে এগিয়ে এসেছে সে রাজ্যের বিরোধী দল টিডিপিও। চন্দ্রবাবু নাইডুর দলের বিজেপির প্রতি এই মনোভাব আদতে 'ঘরে ফেরার' অর্থাৎ এনডিএ'তে ফেরার ডাক বলে মনে করছেন দক্ষিণী রাজনীতির কারবারীরা।