বঙ্গে মানুষ এবং হাতির মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই দূর করতে সক্রিয় সরকার

উত্তর এবং দক্ষিণ বঙ্গের হাতি করিডোর নিয়ে সুব্যবস্থা গড়তে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের, সাহায্যের জন্যে তৈরি বিশেষ অ্যাপ ও মেডিকেল ইউনিট, জানালেন বনমন্ত্রী

বঙ্গে মানুষ এবং হাতির মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই দূর করতে সক্রিয় সরকার

রাজ্যের বনমন্ত্রী বলেন, হাতির উপর আক্রমণ এড়াতে সচেতনতা প্রচার চালানো হবে (প্রতীকী ছবি)

হাইলাইটস

  • এলিফ্যান্ট করিডোর নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা করতে চায় রাজ্য সরকার
  • মানুষের মধ্যে বন্যপ্রাণ বাঁচানোর বিষয়ে প্রচার চালানো হবে, জানান বনমন্ত্রী
  • রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেরলে যেভাবে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে তা অমানবিক
কলকাতা:

কেরলের মতো অমানবিক ঘটনা যাতে বাংলায় না ঘটে তার জন্যে সক্রিয় হয়েছে রাজ্য সরকার। উত্তর এবং দক্ষিণ বঙ্গের এলিফ্যান্ট (Elephant) করিডোর বা হাতি চলাচলের পথ নিয়ে সুব্যবস্থা গড়তে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে সরকার (West Bengal), সাহায্যের জন্যে তৈরি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ অ্যাপ ও মেডিকেল ইউনিটও, জানালেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বরাবরই দেখা গেছে মানুষ এবং হাতি, বেঁচে থাকার লড়াইয়ে দু'পক্ষেরই কিছু না কিছু ক্ষতি হয়। জঙ্গল ছেড়ে খাবারের সন্ধানে গ্রামের ক্ষেতে ঢুকে ফসল নষ্ট করে একদিকে যেমন কৃষিজীবী মানুষের বেঁচে থাকা মুশকিল করছে দাঁতালের দল, ঠিক তেমনভাবেই আবার হাতিদের হামলা রুখতে ক্রমেই নৃশংস হয়ে উঠছে মানুষ। রাজ্য সরকারের মাস্টার প্ল্যান সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে বনমন্ত্রী বলেন, একটি সেল ফোন অ্যাপ থাকবে যা বনকর্মী এবং স্থানীয় জনগণকে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা হাতির দলের চলাচল সম্পর্কে সচেতন করবে। পাশাপাশি লোকালয়ে এসে যদি কোনও হাতি অসুস্থ বা আহত হয় তবে একটি মোবাইল মেডিকেল ইউনিটও তৈরি রাখা হচ্ছে যাঁরা ওই হাতির চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

কেরলে গর্ভবতী হাতির মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ গ্রেফতার ১

এছাড়াও হাতির উপর আক্রমণ রোধে গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে বলেও জানান বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।  

"আমরা আগেই ঠিক করেছিলাম যে জুলাইয়ের মধ্যেই আমাদের এই মাস্টার প্ল্যান চালু করে দেবো, কিন্তু লকডাউনের কারণে সবকিছুই পিছিয়ে গেছে। এখন লকডাউন উঠে গেলে ধীরে ধীরে সব ব্যবস্থা করা যেতে পারে", বলেন তিনি।

গর্ভবতী হাতির মৃত্যুয় প্রথম গ্রেফতারির পরে নয়া তথ্য, আনারস খেয়ে আহত হয়নি হাতি!

হাতিদের চলাচলের পথে যাতে মানুষজন কম আসে, এবং জঙ্গলের কাছাকাছি এলাকায় বাস করা লোকজন যাতে হাতি সম্বন্ধে আরও সতর্ক থাকেন তার জন্যেও প্রচার চালানো হবে বলে জানান বনমন্ত্রী।  

উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চল ছাড়াও, রাজ্যের এলিফ্যান্ট করিডোর রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার কিছু অংশেও।

কেরলের সাইলেন্ট ভ্যালি ফরেস্টে যেভাবে গর্ভবতী হাতিটির বিস্ফোরক ভর্তি আনারস খেয়ে মৃত্যু হয়েছে সেবিষয়ে বনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এটি অত্যন্ত অমানবিক কাজ হয়েছে। আমাদের সবার উচিত বন্যপ্রাণ রক্ষার লক্ষ্যে কাজ করা এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনওভাবেই এমন ঘটনা আর না ঘটে সেবিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে"।