Lok Sabha: বিজেপি সাংসদদের "বিদ্বেষমূলক বক্তব্য", অভিযোগে ওয়াকআউট বিরোধী সাংসদদের

কমিশনের রোষে Anurag Thakur ও Parvesh Verma, ওই দুই বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে দিল্লি নির্বাচনের প্রচারে যথাক্রমে ৪৮ ও ৯৬ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে

Lok Sabha: বিজেপি সাংসদদের

সোমবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে ওঠেন Anurag Thakur

হাইলাইটস

  • অনুরাগ ঠাকুরকে লক্ষ্য করে লোকসভায় স্লোগান দিলেন বিরোধী সাংসদরা
  • "গুলি মারা বন্ধ করুন", বিজেপি সাংসদকে লক্ষ্য করে স্লোগান বিরোধীদের
  • বিরোধীদের অভিযোগের কাঠগড়ায় পরবেশ বর্মাও, প্রতিবাদে ওয়াকআউট বিরোধীদের
নয়া দিল্লি:

বিজেপি সাংসদরা নির্বাচনী প্রচারের নামে আসলে "বিদ্বেষমূলক বক্তব্য" রাখছেন, বিরোধীদের এই অভিযোগে সোমবার উত্তাল হল লোকসভার অধিবেশন। সপ্তাহের প্রথম দিনেই বিজেপি সাংসদদের প্ররোচনামূলক মন্তব্যের নিন্দা করে সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করলেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংসদরা। এদিকে সোমবার যখন সংসদে অর্থনীতি নিয়ে সাংসদদের প্রশ্নের জবাব দিতে ওঠেন অনুরাগ ঠাকুর, সেই সময়েই ওই বিজেপি সাংসদকে লক্ষ্য করে বিরোধী দলের সাংসদরা জোর স্লোগান দিতে থাকেন। রীতিমতো প্ল্যাকার্ড নিয়ে "শেম, শেম" ধ্বনি দিতে শুরু করেন বিরোধী সাংসদরা। পাশাপাশি "গুলি মারা বন্ধ করুন", অনুরাগ ঠাকুরকে লক্ষ্য করে ওই স্লোগানও ওঠে সংসদের অধিবেশনে (Lok Sabha)। দিল্লিতে এই নিয়ে ৩ বার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ লক্ষ্য করে গুলি চলার ঘটনা ঘটেছে, সেই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই ওই স্লোগান দেন বিরোধী দলের সাংসদরা। এদিকে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর (Anurag Thakur)  এবং বিজেপি সাংসদ পরবেশ বর্মার (Parvesh Verma) বিরুদ্ধে প্ররোচনা মূলক বক্তব্যের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে দিল্লি নির্বাচনের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এর আগে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির রিথালা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে প্রচার চালান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। সেই প্রচার সভা থেকেই অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করে "গুলি মারার' স্লোগান দেওয়ার উস্কানি দেন ওই বিজেপি সাংসদ। সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে শোনা যায়, দিল্লির নির্বাচনী প্রচার সভায় অনুরাগ ঠাকুর স্লোগান তুলছেন, "দেশের বিশ্বাসঘাতকদের...", এর পরেই উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের বলতে শোনা গিয়েছে "গুলি মার শা..."। অর্থাৎ দেশের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের গুলি করে মারো। 

এরপরেই দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবং শাহিনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সমবেত হওয়া বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সব মিলিয়ে ৩ বার বন্দুকবাজের হামলা হয়। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অল্পবিস্তর পদক্ষেপ করলেও বিজেপি বা সরকারের পক্ষ থেকে অনুরাগ ঠাকুরের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এখনও।

Delhi Assembly Elections: দেশদ্রোহীদের "গুলি মারো" স্লোগান উঠল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারে

তার আগে বিজেপি সাংসদ পরবেশ বর্মার বিরুদ্ধেও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। শাহিনবাগের প্রতিবাদীরাই দেশের মানুষের বোন ও মেয়েদের ধর্ষণ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে 'জঙ্গি' বলেও সম্বোধন করতে দেখা যায় তাঁকে।

অনুরাগ ঠাকুর ও পরবেশ বর্মার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, চলতি সপ্তাহে দিল্লি নির্বাচনের প্রচারে আগামী ৭২ ঘণ্টা কোনও প্রচার করতে পারবেন না অনুরাগ ঠাকুর। পাশাপাশি তাঁকে বিজেপির "তারকা প্রচারক" তালিকা থেকেও সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করে কমিশন। এদিকে ৯৬ ঘণ্টা প্রচার নিষেধাজ্ঞা জারি হয় অপর বিজেপি সাংসদ পরবেশ বর্মার বিরুদ্ধে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেই অনুরাগ ঠাকুর ও পরবেশ বর্মা ফের প্রচার করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

CAA Protest: দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের চলল গুলি, এই নিয়ে তৃতীয়বার!

এদিকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সিএএ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় পরোক্ষে বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুরকেই দোষ দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারসভা থেকে যেভাবে একজন মন্ত্রী নাগরিকদের সহিংসতার ঘটনার পক্ষে প্ররোচিত করেছেন তার থেকে "দেশ-বিরোধী" ঘটনা আর কিছু হতে পারে না বলেও মতপ্রকাশ করেন তাঁরা। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার রাতেও গুলি বর্ষণ করে অজ্ঞাতপরিচয় দুই দুষ্কৃতী।