This Article is From Aug 17, 2018

"চলুন, চা খাও যাক", বাজপেয়ীর এই কথাতেই বদলে গিয়েছিল মহল, স্মৃতিচারণ শৌরির

অরুণ শৌরি এনডিটিভিকে বলেছিলেন, “প্রত্যেকেই নিজেদের প্রতিবেশির দিকে আঙুল তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা বলছিলেন। তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনছিলেন বাজপেয়ীজি। তাঁর মুখে হাসি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সমস্ত মন্ত্রীদের কথা বলার সুযোগ দিতেন বাজপেয়ী।

নিউ দিল্লি:

মহারাষ্ট্রের একটি নির্বাচনে একবার হেরে গিয়েছিল বিজেপি। সেটি ছিল এমন এক নির্বাচন, দলীয় নেতাদের মতে, সেখানে তাঁদের জেতা উচিত ছিল। দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী ওই পরাজয়কে ছানবিন করার জন্য তাঁর মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকে ডাকলেন। তারপর তিনি তাঁদের বললেন, এই হার নিয়ে আপনাদের বিশ্লেষণটি আমি শুনতে চাই। ওই বৈঠকে একজন অভিযোগের তীর ছুঁড়লেন জোটশরিক শিবসেনার দিকে। তিনি বললেন, শিবসেনা সাবোতাজ করেছে বলেই বিজেপির এই হাল। দ্বিতীয়জন বললেন, মুসলমান ভোটারদের দলের বিরুদ্ধে একজোট করার ফলেই এই দুর্দশা। তৃতীয়জন দলের দুর্বল সংগঠনকে দায়ী করলেন। বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অরুণ শৌরি এনডিটিভিকে বলেছিলেন, “প্রত্যেকেই নিজেদের প্রতিবেশির দিকে আঙুল তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা বলছিলেন। তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনছিলেন বাজপেয়ীজি। তাঁর মুখে হাসি। যদিও, ঘরের পরিবেশ অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল সেই সময়”।

সবার বলা হয়ে যাওয়ার পর মুখ খুললেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। তিনি বললেন, “তাহলে দেখা যাচ্ছে, এই পরাজয়ের নেপথ্যে নতুন বা অজানা কোনও কারণ লুকিয়ে নেই। আসুন, চা খাওয়া যাক”। যাকে বলে ‘খেলা ঘুরিয়ে দেওয়া’, তা সম্পন্ন হয়ে গেল এই তিনটিমাত্র শব্দেই। স্পষ্ট বার্তাও পৌঁছে দেওয়া গেল দলের সদস্যদের উদ্দেশে।

অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে তাঁর সঙ্গে কাজ করা এবং তাঁকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখা অরুণ শৌরি উল্লেখ করছিলেন, একজন প্রকৃত অধিনায়কের মতোই তিনি নিজের দলের সদস্যদের কাছ থেকে তাঁদের সেরাটা বের করে আনতে পারতেন।

“একজন প্রকৃত নেতার মতোই সকলের থেকে তাঁদের সেরাটা বের করে আনার ব্যাপারে বাজপেয়ীজির ব্যুৎপত্তি ছিল দেখার মতো। এমন বহু নেতা আচেন, যাঁরা ঠিক এর বিপরীত কাজটা করেন। আপনার সবথেকে খারাপটা বের করে আনবেন তাঁরা। বাজপেয়ীজির মধ্যে এই ব্যাপারটাই ছিল না”, বলেন অরুণ শৌরি। তিনি এই কথাও বলেন যে, অটলবিহারী বাজপেয়ী হলেন দেশের সেই বিরলতর নেতাদের মধ্যে একজন, যাঁর মধ্যে কোনও হীনম্মন্যতা ছিল না। কারও দক্ষতা দেখলে অত্যন্ত খুশি হয়েই নির্দ্বিধায় প্রশংসা করতেন তিনি। অভিনন্দন জানাতেন সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে।