দ্বিতীয় বারের মোদি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ নির্মলা সীতারামনের

Union Budget 2019: নির্মলা সীতারামণের কাছে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও কর ছাড়ের ব্যাপারে বিরাট প্রত্যাশা

Union Budget 2019: সংসদে দ্বিতীয় পর্যায়ের মোদি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করছেন নির্মলা সীতারামন

সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন(Nirmala Sitaraman)।বর্তমানে দেশের ধীরগতির অর্থনীতি গতি পাবে তাঁর বাজেট পেশের পর,এমনটাই আশা করা হচ্ছে।বরাদ্দ বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কর ছাড়ের ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর(Finance Minister) বাজেট থেকে।দেশের প্রথম পূর্ণ সময়ের মহিলা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রথমেই ছক ভাঙার পথে হাঁটেন। ব্রিটিশ যুগ থেকে চলে আসা লাল রঙের ব্রিফকেস নিয়ে অর্থমন্ত্রীদের বাজেট পেশের গতানুগতিক চিত্র ভেঙে দেন নির্মলা। ব্রিফকেসের বদলে শুক্রবার নির্মলা সীতারামণ সংসদে জাতীয় প্রতীক দেওয়া একটি লাল ফাইল নিয়ে সংসদে আসেন যাকে আধিকারিকরা “বাহি খাতা” বলে উল্লেখ করেন।বিশ্লেষকদের ধারণা, দ্বিতীয়বার পুনর্নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির(PM Narendra Modi) চাইবেন ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্যে অর্থনীতিতে মন্দা থেকে দুর্বল খরচ এবং কর সংগ্রহে সংকোচনের মতো বেশ কিছু সংস্কারের পথে হাঁটতে।অর্থনীতিবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর উচিত ব্যয়বৃদ্ধি না করে কিভাবে দেশের অর্থনীতিতে গতি আনার পথে হাঁটতে।বৃহস্পতিবারের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় প্রকাশ হয়েছে যে কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং চলতি বছরে বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে।পাশাপাশি কিভাবে দেশীয় অর্থনীতিতে দ্বিগুন গতি দিয়ে ২০২৪-২৫এর মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রাকে ছোঁবে তাঁর পথ খোঁজারও চেষ্টা করা হবে এই বাজেটে।

নির্মলা সীতারামন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্যে কর্পোরেট ট্যাক্স হ্রাসের পথে হাঁটতে পারেন।পাশাপাশি কিছু করছাড় প্রত্যাহার করে মধ্যবিত্তের ব্যয়বৃদ্ধি করতে পারেন তিনি।

এমন একটি সময়ে এই বাজেট(Union Budget 2019)  পেশ হতে চলেছে যখন বিশ্ব অর্থনীতিতে সেরা ৫ উন্নয়নশীল দেশের তালিকার বাইরে চলে যেতে হয়েছে ভারতকে।দেশের জিডিপি(GDP) বৃদ্ধির হার গত ২০ ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫.৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।তাই এই বাজেটের প্রাথমিক লক্ষ্যই হবে দেশের অর্থনীতিকে গতি দেওয়া।

মনে করা হচ্ছে আসন্ন বাজেটে(Budget)  নির্মলা সীতারামণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কর্পোরেট ট্যাক্স কমাতে পারেন পাশাপাশি ব্যক্তিগত করের ক্ষেত্রে কিছু কর ছাড় প্রত্যাহার করে মধ্যবিত্তের খরচ বাড়াতে পারেন।

এমন একটি সময়ে এই বাজেট(Budget)  পেশ হতে চলেছে যখন বিশ্ব অর্থনীতিতে সেরা ৫ উন্নয়নশীল দেশের তালিকার বাইরে চলে যেতে হয়েছে ভারতকে।দেশের জিডিপি(GDP) বৃদ্ধির হার গত ২০ ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫.৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।তাই এই বাজেটের প্রাথমিক লক্ষ্যই হবে দেশের অর্থনীতিকে গতি দেওয়া।

অনেক বিশ্লেষকই আশা করছেন যে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রের আয়কর(Income Tax) কাঠামোটি টিকবে না, কারণ এটি করদাতাদের ভিত্তি প্রসারিত করার সরকারের লক্ষ্যের বিপরীতে যাচ্ছে।আবার কেউ কেউ মনে করছেন অতি ধনীদের ক্ষেত্রে বিলুপ্ত উত্তরাধিকার করের পুনঃপ্রবর্তন সহ কিছু কর চাপানো হতে পারে।

নির্মলা সীতারামণকে বর্তমান ধীরগতির অর্থনীতিতে কঠিন বিলগ্নীর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে।সরকার চাইছে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে গত বছরের ৮৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০ হাজার কোটি টাকা তুলে আনতে বিলগ্নীকরণ থেকে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রককে(Finance Ministry) দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও রফতানির দিকেও নজর রাখতে হবে।একদিকে যেমন রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে করদানের মাত্রা কমিয়ে যাতে তাঁদের ভাল লাভ হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৃষ্ণমূর্তি সুব্রহ্মনিয়ানের তৈরি ২০১৯ এর অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, সরকার চাইছে দেশের সামগ্রিক বৃদ্ধি হার অর্থাৎ জিডিপি বাড়িয়ে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশে নিয়ে যেতে।

সংবাদসংস্থা রয়টারের খবর অনুযায়ী, সামগ্রিক ভাবে ধীরগতির অর্থনীতির কারণে এবারে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে আসন্ন বাজেটে(Budget) ।এর ফলে দেশের সামরিক ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের কাজ কিছুটা হলেও বিলম্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপির অর্থনৈতিক বিষয়ক মুখপাত্র গোপাল কৃষ্ণ আগরওয়াল রয়টার্সকে বলেন, "এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে কেন্দ্রীয় খরচ বাড়ানো, গ্রামীণ সংকট মোকাবেলা এবং ছোটখাটো নির্মাতাদের সমর্থন করা"।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে, অ-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থাগুলির (এনবিএফসি)সঙ্কট মোকাবিলার লক্ষ্যে যে কোন ঘোষণা হতে পারে যা মূলত শ্যাডো ব্যাংকিং সেক্টর নামেও পরিচিত।

গত মে মাসে সরকারের(Modi Govt) অন্তর্বর্তী বাজেটে বেশ কয়েকটি বড় ঘোষণা করা হয়। তার মধ্যে যেমন আছে ক্ষুদ্র কৃষকদের ক্ষেত্রে ৭৫হাজার টাকা পর্যন্ত আসের নিশ্চয়তা তেমনি একটি আর্থিক বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জনকারীদের সম্পূর্ণ করছাড়ের ঘোষণাও।