দেশের কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে নতুন করে আরও ২.১ কোটি কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে

Unemployment: তবে গত মে মাসে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হলেও সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বেকারত্বও, গত মাসে দেশের বেকারত্বের হার বেড়ে ২৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে

দেশের কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে নতুন করে আরও ২.১ কোটি কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে

Coronavirus: এক মারাত্মক মন্দা দেখা গেছে ভারত সহ গোটা বিশ্বেই

হাইলাইটস

  • দেশের শিল্পসংস্থা সহ কর্মপ্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে ফের খুলছে
  • তার ফলে আবারও কাজের সুযোগ বাড়ছে ছোট ব্যবসায়ী ও দিন মজুরদের ক্ষেত্রে
  • তবে বেশি বেতনের কর্মীদের পরিস্থিতি সঙ্কটে
করোনাকে (Coronavirus) রুখতে লকডাউন সংস্কৃতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে দেশে প্রথম পর্যায়ের আনলক শুরু হয়েছে জুনের গোড়া থেকেই। তাই মঙ্গলবার দেশের শ্রম বাজারের অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। গত মাসে দেশের বেকারত্বের (Unemployment) হার ২৩.৫ শতাংশ অর্থাৎ "অত্যন্ত বেশি" থাকা সত্ত্বেও যেহেতু এখন যেহেতু দেশের বেশিরভাগ কর্মস্থলগুলো খুলে গেছে এবং প্রায় সকলেই কাজে ফিরেছেন, তাই পরিস্থিতির একটু হলেও উন্নতি হয়েছে, জানিয়েছে থিংকট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি বা সিএমআইই। সিএমআইই মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, মে মাসে মোট ২.১ কোটি চাকরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং দেশে শ্রমের অংশগ্রহণের হারেরও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি হয়েছে। তবে বেসরকারি সংস্থাগুলোয় যেভাবে একের পর এক ছাঁটাই হচ্ছে তাতে উদ্বেগে মানুষজন। ২৫ মার্চ থেকে টানা লকডাউন চালিয়ে আসায় এমনিতেই দেশের সমস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য প্রায় সব কাজের জায়গায় ধুঁকছে। এক মারাত্মক মন্দা দেখা গেছে ভারত সহ গোটা বিশ্বেই। তাই শুধু করোনাই নয়, এই সামগ্রিক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাইছেন সকলেই।

দেখে নিন এই বিষয়ে ১০ টি তথ্য:

  1. করোনাকে রুখতে একটানা লকডাউন চললেও গত মে মাস থেকেই ধীরে ধীরে দেশের কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে দেশে ২.১ কোটি কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে যাতে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন  ১.৪৪ কোটি ছোটখাটো ব্যবসায়ী ও দিন মজুর। মূলত স্বনিযুক্তি প্রকল্পগুলোতেই এই কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  2. "এপ্রিলে প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল দেশে শ্রমব্যবস্থা। তবে সেসময় ছেড়ে যাওয়া বেশিরভাগ মানুষই আবার মে মাসে কাজে ফিরে এসেছেন। বড় বড় সংস্থাগুলো সেসময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষই পরোক্ষে বেকার হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু ফের উৎপাদন কাজ শুরু হওয়ায় তাঁরাও ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন", বলেন মুম্বইয়ের কাজের বাজারের প্রধান বিশেষজ্ঞ মহেশ ব্যাস। "মে মাসে, অনেক সংস্থাই তাদের কাজ শুরু করায় ফের কিছু মানুষ নতুন করে কাজে যোগ দিতে পেরেছেন", বলেন তিনি।

  3.  ২.১ কোটি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় আশা করা যাচ্ছে যে, আগের মাসের তুলনায় এমাসে ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি হবে। সিএমআইই জানিয়েছে, মূলত ছোট ব্যবসায়ী ও দৈনিক ভিত্তিতে যাঁরা কাজ করেন সেই সব শ্রমিকদের চাকরির সম্ভাবনা ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।

  4. তবে গত মে মাসে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হলেও সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বেকারত্বও, গত মাসে দেশের বেকারত্বের হার বেড়ে ২৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে, সিএমআইই-এর হিসাব অনুসারে এখন কাজে অংশগ্রহণের হার আগের ৩৫.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮.২ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের হারও ২৭.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে।

  5. "যদিও প্রধান শ্রমবাজারের মেট্রিক্স এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কেননা সেই সময় লকডাউনে সবকিছুই বন্ধ থাকায় শ্রমবাজারের পরিস্থিতি অনেকটাই খারাপ অবস্থায় চলে যায়", বলেন ব্যাস।

  6. তিনি অবশ্য উন্নতমানের চাকরির ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। "এই অবস্থায় ভালো বেতনের চাকরি পাওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন। শুধু তাই নয়, লকডাউন চলাকালীন যেভাবে বহু মানুষের বেতনের উপর কোপ পড়েছে তা আবার আগেই অবস্থায় ফেরা আরও অনেক বেশি কঠিন", একথাও বলেন তিনি।

  7. এদিকে, অনেক অর্থনীতিবিদও করোনার কারণে দেশ যে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে তাতে চলতি অর্থবছরে জিডিপি তো মারাত্মকভাবে কমবেই, এমনকী আগামী কয়েক বছরে এই মন্দা কতটা সামলে উঠতে পারবে দেশ তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  8. গত ১১ বছরে সর্বনিম্ন অবস্থার পৌঁছেছে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার। শুক্রবার সরকারি তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.১ শতাংশ। তবে এই হার আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। তবে সরকারি তথ্য বলছে, ২০১৯-২০২০ আর্থিকবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়াল ৪.২ শতাংশ। যা গত এক দশকে সর্বনিম্ন।

  9. চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে আর্থিক বৃদ্ধি আগের বছরের থেকে নেমে দাঁড়ায় ৫.২ শতাংশে। তার পর সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া কোয়ার্টারে বৃদ্ধির হার আরও কমে হয় ৪.৪ এবং ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এই বৃদ্ধির হার নেমে দাঁড়ায় ৪.১ শতাংশে। আর শেষ ত্রৈমাসিকে সেই হার নেমে গেল ৩.১ শতাংশে।

  10. ‘ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস' বা জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় জিডিপি-র তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এবং লকডাউনের প্রভাব পড়েছে জিডিপি বৃদ্ধির হারে। যদিও এই ত্রৈমাসিকের হিসেবের মধ্যে লকডাউন ছিল মাত্র এক সপ্তাহ। ফলে পরের ত্রৈমাসিকের জিডিপিতে লকডাউনের ভাল প্রভাব থাকবেন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।