সোমবার সরকারে কাছে বকেয়া মেটাতে চলেছে তিনটি টেলিকমসংস্থা: খবর

সুপ্রিম কোর্টের ২০১৯, ২৪ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারকে ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা দিতে হয় টেলিকম সংস্থাগুলিকে

সোমবার সরকারে কাছে বকেয়া মেটাতে চলেছে তিনটি টেলিকমসংস্থা: খবর

১ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া শোধ করতে হবে ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন এবং টাটা টেলিসার্ভিসকে

নয়াদিল্লি:

সরকারের থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতে সোমবার তাদের বকেয়া (Adjusted Gross Revenue) মেটাতে চলেছে ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel), ভোটাফোন আইডিয়া (Vodafone Idea) এবং টাটা টেলিসার্ভিস, সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নাহলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রক (Department of Telecommunications) । তিন টেলিকম সংস্থার থেকে সরকারের বকেয়া ১ লক্ষ কোটি টাকা, তবে তাদের প্রতিনিধিদের মারফৎ জানা গিয়েছে, যদিও তারা আংশিক বকেয়া মেটানোর কথা জানিয়েছে। একটি সরকারি সূত্র সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, “এয়ারটেল, ভোটাফোন আইডিয়া এবং টাটা টেলিসার্ভিস জানিয়েছে, তারা সোমবার বকেয়া মেটাবে। তাদের মেটানো টাকার মূল্যায়ণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে টেলি যোগাযোগ মন্ত্রক”।

শুক্রবার, ভারতী এয়ারটেল ২০ ফেব্রুয়ারি ১০,০০০ কোটি টাকা মেটানোর প্রস্তাব দেয়, যদিও সময় বাড়ানোর প্রস্তাবে রাজি হয়নি টেলিকমন্ত্রক।

সুপ্রিম তিরস্কার! মধ্যরাতের আগেই বকেয়া মেটাতে Telco-গুলিকে নির্দেশ টেলিকম মন্ত্রকের

শনিবার ভোডাফোন আইডিয়া জানায়, সরকারি বকেয়া খাতে দেওয়া টাকার মূল্যায়ণ করবে তারা, এমনকী, নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

সুপ্রিম কোর্টের ২০১৯, ২৪ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারকে ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা দিতে হয় টেলিকম সংস্থাগুলিকে। ২৩ জানুয়ারি সেই বকেয়া মেটানোর সময়সীমা শেষ হয়, যদিও তারপরেও, রিলায়েন্স জিও ছাড়া আর কোনও সংস্থাই সেই বকেয়া মেটায়নি।

বকেয়া মেটায়নি রাষ্ট্রয়াত্ত্ব টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল এবং এমটিএনএল।

সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, সরকারের কাছে এয়ারটেলের বকেয়া লাইসেন্স ফি এবং স্পেকট্রাম চার্জ মিলিয়ে ৩৫,৫৮৬ কোটি টাকা।

ভোডাফোন আইডিয়ার বকেয়ার পরিমাণ ৫৩,০০০ কোটি টাকা, তারমধ্যে রয়েছে স্পেকট্কাম চার্জ ২৪,৭২৯ কোটি টাকা এবং ২৮,৩০৯ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি।

টেলিকমের কর্তার চিঠিতে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত, দেশ ছাড়ার কথা বললেন বিচারপতি

টাটা টেলি সার্ভিসের বকেয়ার পরিমাণ ১৩,৮০০ কোটি টাকা এবং বিএসএনএল এর পরিমাণ ৪,৯৮৯ কোটি এবং এমটিএনএলের ৩,১২২ কোটি টাকা।

১.৪৭ কোটি টাকার মধ্যে ১.১৩ কোটি টাকা আদায় করা যেতে পারে, কারণ, অন্যান্য সংস্থা যাদের বকেয়া মেটানোর কথা, তারা ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে।

দেউলিয়া অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে রিলায়েন্স কমিউনিকেশন এবং এয়ারসেল।

বকেয়া থাকার পরে, কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় টেলিকম মন্ত্রককে একহাত নেয় সুপ্রিম কোর্ট, টেলি অপারেটর সংস্থাগুলির থেকে তাদের বকেয়ার পরিমাণ ১.৪৭ কোটি টাকা।

১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার টেলিকম সংস্থাগুলিকে শেষবার এবং চূড়ান্ত নোটিশ দেয় টেলিকম মন্ত্রক, নির্ধারিত দিনেই তাদের বকেয়া মেটাতে হয়, যদিও কোনও সংস্থাই বকেয়া মেটায়নি।

টেলি বকেয়া মেটানোর বিষয়ে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে: ১০ তথ্য

১ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া শোধ করতে হবে ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন এবং টাটা টেলিসার্ভিসকে।

অর্থের মূল্যায়ণ করার জন্য টেলিকমসংস্থাগুলির সময় চাওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে টেলিকম মন্ত্রকের আধিকারিক জানান, আদালত তাদের তিনমাসের সময় দিয়েছিল তারজন্য, এমনকী, ২৩ জানুয়ারি সময়সীমা পার করার পরেও,তাদের বকেয়া হিসেব করার জন্য টেকিলমসংস্থাগুলির কাছে যথেষ্ঠ সময় ছিল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, “বকেয়া সময়ের আগে, টেলকম অপারেটর সংস্থাগুলিকে লাইসেন্স আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি এড়াতে বকেয়া পরিশোধ করতে ৪ বার নোটিশ পাঠিয়েছে মন্ত্রক। নতুন আবেদনের আদালতের নির্দেশের পর, টেলিকমসংস্থাগুলির কাছে আর কোনও অজুহাত দেওয়ার নেই এবং আর কোনও নোটিশ না দিয়েই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে টেলিকম মন্ত্রক”।

Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com