শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়ে আয় করতে চাইছেন? জেনে নিন কীভাবে শুরু করবেন...

Share Market: বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপনি যত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেবেন ততই আপনার আয় বেশি হবে, অনেক খারাপ পরিস্থিতিতেও কিছু টাকা উঠে আসবে আপনার হাতে

শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়ে আয় করতে চাইছেন? জেনে নিন কীভাবে শুরু করবেন...

Share Market Today: এই কৌশল আপনাকে কোন শেয়ার কখন কিনতে হবে এবং বিক্রি করতে হবে তা বলে দেয়

আপনি যদি শেয়ার বাজারে (Sensex Today) বিনিয়োগ করতে চান অথচ সিদ্ধান্তহীনতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছেন তাহলে আপনাকে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে ভাল করে বুঝতে হবে। খুব স্বাভাবিকভাবেই শেয়ার বাজারের (Share market investment) জটিলতা আপনাকে ভয় দেখাবে। এই প্রসঙ্গে কিংবদন্তি শেয়ার বিনিয়োগকারী পিটার লিঞ্চের কিছুটা আশ্বাস আপনার জন্যে দেওয়া থাকল: 'শেয়ারবাজারকে (Share Market) অনুসরণ করার জন্য প্রত্যেকেরই যথেষ্ট বুদ্ধি রয়েছে। আপনি যদি ক্লাস ফাইভের অঙ্কও জানেন তাহলেও আপনি এই বিনিয়োগ করতে পারেন'। কিন্তু এই বিনিয়োগের জন্যে যেটা প্রয়োজন সেটা হল আপনার যথেষ্ট সময় এবং প্রচেষ্টা, আর এই দুটো থাকলেই আপনি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন এবং যথেষ্ট অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। বিনিয়োগ উপদেষ্টা সন্দীপ সবরওয়ালের মতে, শেয়ার বাজার বিনিয়োগ (Stock market investment) করার সময় মনে রাখতে হবে যে এটিকে কিন্তু কোনওভাবেই কোনও মাসিক আয়ের পরিকল্পনা হিসাবে ভাববেন না এবং এটাও ধরে রাখতে হবে যে কিছু কিছু শেয়ারের ক্ষেত্রে ১০-১৫% লোকসান হতেই পারে, সেইভাবেই যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে রাখা উচিত।

কীভাবে শেয়ার বাজারের দুনিয়ায় প্রবেশ করবেন:

তাড়াতাড়ি শুরু করুন

"হাজার মাইলের যাত্রাও প্রথম পদক্ষেপের মাধ্যমেই শুরু হয়", বলে গেছেন চিনা দার্শনিক লাও-জজ । বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপনি যত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেবেন ততই আপনার আয় বেশি হবে, অনেক খারাপ পরিস্থিতিতেও কিছু টাকা উঠে আসবে আপনার হাতে। তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ করলে আপনার টাকা খাটানোর জন্যে আপনি অনেক বেশি সময় পাবেন । উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি ২৫ বছর বয়সে বিনিয়োগ শুরু করে এবং ৬০ বছর অবসর পর্যন্ত বিনিয়োগ করেন তাহলে তিনি ৩৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি ৩০ বছরে শুরু করবেন তিনি কেবল ৩০ বছরের জন্যেই বিনিয়োগ করতে পারবেন।

বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট খুলুন

শেয়ার বাজারে (Sensex Today) বিনিয়োগ করে আয় করার ইচ্ছা থাকলে আর দেরি না করে এখনই লেগে পড়ুন। এই বিনিয়োগ শুরু করতে আপনার একটি ট্রেডিং / ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট এবং একটি ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ('ডিমেটরিয়ালাইজড অ্যাকাউন্টের জন্য সংক্ষিপ্ত) প্রয়োজন। ট্রেডিং অ্যাকাউন্টটি এনএসই এবং বিএসইতে তালিকাভুক্ত শেয়ার কেনাবেচার বিষয়টি সহজ করে তোলে। পাশাপাশি জাল শেয়ার বা কাগজপত্রের ঝামেলা এড়ানোর জন্য এবং শেয়ার সংরক্ষিত করার জন্য ডিম্যাট অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হয়। বিশেষত অনলাইনে শেয়ার কেনা-বেচার জন্য ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে শেয়ার এবং সিকিউরিটিজ রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। অফলাইন-অনলাইন দুভাবেই আপনি বিনিয়োগ করতে পারবেন। তবে এখন অনলাইন অ্যাকাউন্টগুলি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কারণ আপনি নিজেই এই বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাজ (লগইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড সহ) একটি ক্লিকেই সেরে ফেলতে পারেন।

অল্প করে শুরু করুন

"যেকোনও দুর্দান্ত কাজ শুধু অনুপ্রেরণার দ্বারা নয়, বেশ কয়েকটি ছোট ছোট জিনিস এক জায়গায় করেই করা যায়," এমন কথা বলেছেন চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগ । তাই অল্প পরিমাণে টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু করুন। অল্প বিনিয়োগ করলে লোকসানের সম্ভাবনাও কম থাকবে।

নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিন

একজন নতুন বিনিয়োগকারী অবশ্যই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন: কী বিনিয়োগ করবেন এবং কখন বিনিয়োগ করবেন? বিনিয়োগের মূল সূত্র হ'ল কম কেনা এবং বেশি বিক্রি করা। একটি সুপরিকল্পিত কৌশল আপনাকে কী কিনতে হবে এবং কখন কিনতে হবে এবং বিক্রি করতে হবে তা বলে দিতে পারে। মৌলিক বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেখা এই জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আপনাকে সহায়তা করবে। প্রাথমিক ভাবে যে সংস্থার সম্বন্ধে আপনার কিছু জানা আছে সেই সংস্থাতেই বিনিয়োগ করুন।

সমস্ত বিষয় ভেবে সিদ্ধান্ত নিন

হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না, সবদিক বিবেচনা করে শেয়ার কেনা-বেচা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিন। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করলে তার সুবিধা হ'ল আপনি যুক্তিসঙ্গত মূল্যে একটি ভাল সংস্থার শেয়ার বেছে নিতে পারবেন এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শেয়ারের দামও বাড়তে থাকবে।

More News