দেউলিয়া হয়ে যাওয়াই 'একমাত্র রাস্তা' জেট এয়ারওয়েজের, জানালেন স্টেট ব্যাঙ্ক প্রধান

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের প্রধান সাফ জানালেন, জেট এয়ারওয়েজকে 'দেউলিয়া' হিসাবে ঘোষণা করাটাই এখন ঋণদাতাদের কাছে শেষতম বাছাই।

দেউলিয়া হয়ে যাওয়াই  'একমাত্র রাস্তা' জেট এয়ারওয়েজের, জানালেন স্টেট ব্যাঙ্ক প্রধান

নতুন বিনিয়োগকারীও আসতে পারে, জানান রজনীশ কুমার।

নিউ দিল্লি:

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের প্রধান সাফ জানালেন, জেট এয়ারওয়েজকে 'দেউলিয়া' হিসাবে ঘোষণা করাটাই এখন ঋণদাতাদের কাছে শেষতম বাছাই। যদিও, বিমানসংস্থাটি যাতে ফের উঠে দাঁড়াতে পারে, তার জন্য সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রজনীশ কুমার বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে, জেট এয়ারওয়েজ ফের উঠে দাঁড়াক এবং ওই সংস্থার বিমানগুলি ুড়ে চলুক, সেটা সকলেই চায়। তিনি তার সঙ্গে এই কথাটিরও উল্লেখ করতে ভোলেন না যে, জেট এয়ার ওয়েজকে 'দেউলিয়া' হিসেবে ঘোষণা করার অর্থ হল সংস্থাটির কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেওয়া। তিনি আরও জানান, আবু ধাবির বিমানসংস্থা 'ইতিহাদ'-এর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কথা চলছে। প্রসঙ্গত, ইতিহাদ হল জেট এয়ারওয়েজের সবথেকে বড় শেয়ারহোল্ডার।

এছাড়া, অন্য কোনও বিনিয়োগকারীও এগিয়ে আসতে পারেন। রজনীশ কুমার জানান, জেট এয়ারওয়েজকে বাঁচানোর সমস্ত সিদ্ধান্তই বাণিজ্যিকভাবে নেওয়া হবে। এখানে সরকারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। 

২৫ বছরের পুরনো এই বিমানসংস্থার মাথায় এখন ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের বোঝা। 

টাকা জমিয়ে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে এই ব্যাঙ্ক

দেউলিয়া যাতে না হয়ে পড়ে জেট এয়ারওয়েজ, তার দিকে লক্ষ রাখার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দেশ গতকালই দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। কোনওভাবেই যাতে এই সময় কয়েক হাজার মানুষের চাকরি যাতে চলে যায়, তা নিশ্চিত করতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । জেট এয়ারওয়েজের দুই কর্তা এই কথা জানান সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার নেতৃত্বাধীন ব্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে গত বছর পর্যন্ত জেট এয়ারওয়েজের সম্বন্ধে নিয়মিত তথ্য নিত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। শেষ কয়েকটি মাসে সংস্থাটির পুনর্জীবন পরিকল্পনার জন্য প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহেই তথ্য নিচ্ছে ব্যাঙ্কগুলি। “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পদস্থ কর্তারা এই ব্যাপারে নিয়মিত তথ্য নিয়ে চলেছেন”, জানান জেট এয়ারওয়েজের ওই কর্তা।

প্রসঙ্গত, জেট এয়ারওয়েজ আরও বেশি সংখ্যায় বিমান বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তার ফলে বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। তেলের দাম বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেট এয়ারওয়েজ। এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছেন অসামরিক পরিবহণ মন্ত্রী সুরেশ প্রভু । মন্ত্রকের সচিবকে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর আগে জেটের বিমান দেখভালের দায়িত্ব পালন করা ইঞ্জিনিয়াররা কেন্দ্রকে চিঠি লিখে জানান, তাঁদের তিন মাসের বেশি সময় বেতন হয়নি। এমতাবস্থায় যাত্রী সুরক্ষা চিন্তার বিষয় হয়ে উঠছে। জেটের সমস্যা এবং দাবি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করছেন অসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা।



(এনডিটিভি এই খবর সম্পাদনা করেনি, এটি সিন্ডিকেট ফিড থেকে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে।)
More News