শুক্রবার প্রথম বাজেট পেশ করবেন নির্মলা সীতারামণ,বাজেট ঘিরে প্রত্যাশা

দেশের প্রথম পূর্ণসময়ের মহিলা অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের বাজেট ঘিরে চড়ছে প্রত্যাশার পারদ

শুক্রবার প্রথম বাজেট পেশ করবেন নির্মলা সীতারামণ,বাজেট ঘিরে প্রত্যাশা

শুক্রবার সংসদে বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ

শুক্রবার দেশের সাধারণ বাজেট(Budget) পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ( Nirmala Sitharaman) । লোকসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রকের সঁপে দেন তাঁর হাতেই।তাই নির্মলা সীতারামণের কাঁধে এখন গুরুদায়িত্ব। দেশের প্রথম পূর্ণ সময়ের মহিলা অর্থমন্ত্রী (Finance Minister) নির্মলার কাছে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রত্যাশার পাশাপাশি রয়েছে করছাড়ের ঘোষণার প্রত্যাশাও। পুনর্বার নির্বাচিত এনডিএ সরকারের এই বাজেটের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দেশের অর্থনৈতিক মন্দাকে সরিয়ে অর্থনীতিকে গতি দেওয়া। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে এমন একটি পথ বেছে নিতে হবে যাতে ব্যয়বৃদ্ধি না করে দেশের অর্থনীতিতে গতিবৃদ্ধি করা যায়।

মনে করা হচ্ছে আসন্ন বাজেটে(Budget)  নির্মলা সীতারামণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কর্পোরেট ট্যাক্স কমাতে পারেন পাশাপাশি ব্যক্তিগত করের ক্ষেত্রে কিছু কর ছাড় প্রত্যাহার করে মধ্যবিত্তের খরচ বাড়াতে পারেন।

এমন একটি সময়ে এই বাজেট(Budget)  পেশ হতে চলেছে যখন বিশ্ব অর্থনীতিতে সেরা ৫ উন্নয়নশীল দেশের তালিকার বাইরে চলে যেতে হয়েছে ভারতকে। দেশের জিডিপি(GDP) বৃদ্ধির হার গত ২০ ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫.৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। তাই এই বাজেটের প্রাথমিক লক্ষ্যই হবে দেশের অর্থনীতিকে গতি দেওয়া।

অনেক বিশ্লেষকই আশা করছেন যে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রের আয়কর(Income Tax) কাঠামোটি টিকবে না, কারণ এটি করদাতাদের ভিত্তি প্রসারিত করার সরকারের লক্ষ্যের বিপরীতে যাচ্ছে।আবার কেউ কেউ মনে করছেন অতি ধনীদের ক্ষেত্রে বিলুপ্ত উত্তরাধিকার করের পুনঃপ্রবর্তন সহ কিছু কর চাপানো হতে পারে।

নির্মলা সীতারামণকে বর্তমান ধীরগতির অর্থনীতিতে কঠিন বিলগ্নীর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে।সরকার চাইছে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে গত বছরের ৮৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০ হাজার কোটি টাকা তুলে আনতে বিলগ্নীকরণ থেকে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রককে(Finance Ministry) দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও রফতানির দিকেও নজর রাখতে হবে। একদিকে যেমন রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে করদানের মাত্রা কমিয়ে যাতে তাঁদের ভাল লাভ হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৃষ্ণমূর্তি সুব্রহ্মনিয়ানের তৈরি ২০১৯ এর অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, সরকার চাইছে দেশের সামগ্রিক বৃদ্ধি হার অর্থাৎ জিডিপি বাড়িয়ে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশে নিয়ে যেতে।

সংবাদসংস্থা রয়টারের খবর অনুযায়ী, সামগ্রিক ভাবে ধীরগতির অর্থনীতির কারণে এবারে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে আসন্ন বাজেটে(Budget) । এর ফলে দেশের সামরিক ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের কাজ কিছুটা হলেও বিলম্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপির অর্থনৈতিক বিষয়ক মুখপাত্র গোপাল কৃষ্ণ আগরওয়াল রয়টার্সকে বলেন, "এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে কেন্দ্রীয় খরচ বাড়ানো, গ্রামীণ সংকট মোকাবেলা এবং ছোটখাটো নির্মাতাদের সমর্থন করা"।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে, অ-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থাগুলির (এনবিএফসি)সঙ্কট মোকাবিলার লক্ষ্যে যে কোন ঘোষণা হতে পারে যা মূলত শ্যাডো ব্যাংকিং সেক্টর নামেও পরিচিত।

গত মে মাসে সরকারের(Modi Govt) অন্তর্বর্তী বাজেটে বেশ কয়েকটি বড় ঘোষণা করা হয়। তার মধ্যে যেমন আছে ক্ষুদ্র কৃষকদের ক্ষেত্রে ৭৫হাজার টাকা পর্যন্ত আসের নিশ্চয়তা তেমনি একটি আর্থিক বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জনকারীদের সম্পূর্ণ করছাড়ের ঘোষণাও।