ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা সেই চার চাকার গাড়ির মতো, যার তিনটে চাকাই পাংচার: চিদম্বরম

প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বললেন, এই মুহূর্তে ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা সেই চার চাকার গাড়িটির মতো, যার তিনটে চাকার টায়ারই পাংচার হয়ে গিয়েছে

ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা সেই চার চাকার গাড়ির মতো, যার তিনটে চাকাই পাংচার: চিদম্বরম

সরকারি ব্যয় কেবলমাত্র স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অন্যান্য কিছু সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রেই বহাল রয়েছে এখন, বলেন চিদম্বরম।

হাইলাইটস

  • ইন্ডাস্ট্রির 60 শতাংশের বেশি ব্যবহার করাই হচ্ছে না, বলেন চিদম্বরম।
  • ভারত রপ্তানি করেও তেমন আয় করতে পারছে না, বলেন এই কংগ্রেস নেতা।
  • মানুষের উপর কর চাপিয়ে পকেট থেকে পয়সা বের করে নিচ্ছে সরকার, বলেন তিনি।
মুম্বাই: জ্বালানি তেলের অবিশ্বাস্য মূল্যবৃদ্ধি এবং আরও বিবিধ কারণে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম বললেন, এই মুহূর্তে ভারতীয় অর্থনীতির অবস্থা সেই চার চাকার গাড়িটির মতো, যার তিনটে চাকার টায়ারই পাংচার হয়ে গিয়েছে।

"বেসরকারি বিনিয়োগ, বেসরকারি খরচ, রপ্তানি এবং সরকারি ব্যয় এই চারটি জিনিস কোনও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে চারটি প্রধান ইঞ্জিন। একটা গাড়ির চারটে টায়ারের মতোই এরা। এদের মধ্যে একটা বা দুটো টায়ার পাংচার হয়ে গেলেই গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। আমাদের অর্থনীতির ক্ষেত্রে তিনটে টায়ারই পাংচার হয়ে গিয়েছে"। মহারাষ্ট্র কংগ্রেস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আজ এই কথা বলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা।

সরকারি ব্যয় কেবলমাত্র স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অন্যান্য কিছু সুযোগসুবিধার ক্ষেত্রেই বহাল রয়েছে এখন। বলেন চিদম্বরম।

"এই ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকার পেট্রোল, ডিজেল এবং এমনকি এলপিজি গ্যাসের উপরেও ক্রমাগত কর চাপিয়ে যাচ্ছে। কর চাপিয়ে সাধারণ  মানুষের পকেট থেকে টাকা বের করে নিচ্ছে এবং সেই টাকার অল্প কিছুটা অংশই তারা লাগাচ্ছে জনসাধারণের সুযোগসুবিধার কাজে"। বলেন চিদম্বরম।

তিনি প্রশ্ন করেন, সাম্প্রতিককালে শক্তিসম্পদের সেক্টরে কোনও বিনিয়োগ দেখেছেন?

"উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, 10টি বৃহৎ দেউলিয়া সংস্থার মধ্যে পাঁচটিই হল স্টিল সংস্থা। ওই সেক্টরে কী করেই বা কোনও বিনিয়োগের প্রত্যাশা করবেন আপনি"। বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন তিনি।

গুডস অ্যান্ড সেলস ট্যাক্স বা জিএসটির উপর পাঁচটি স্ল্যাব বসানো নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন চিদম্বরম। 

"ডিমনিটাইজেশনের পর এই সরকার করের পাঁচটি স্ল্যাব নিয়ে জিএসটি চালু করে। তার ওপর বসায় সেস। অন্যান্য দেশে জিএসটি হল এক-আয়কর পদ্ধতি। কিন্তু আমাদের দেশে এই পদ্ধতি দু'ধরনের। এখনও জিএসটির উপর পাঁচটা স্ল্যাব কী করে বসানো রয়েছে, তা ভাবাই যায় না"। বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা প্রকল্পকে তীব্র শ্লেষে ভরিয়ে দেন তিনি। 

 "এই মুদ্রা লোনে গড়ে এক একজন মানুষ পাবেন 43000 টাকা করে। কোনও বড়ো ব্যবসাই এত সামান্য টাকায় শুরু করা সম্ভব নয়। তবে কেউ পকোড়ার দোকান দিতে চাইলে আলাদা কথা"। প্রধানমন্ত্রীর মোদির সাম্প্রতিক উক্তি, 'পকোড়া বিক্রি করাটাও এক ধরনের চাকরি'কে ব্যঙ্গ করেই এই কথা বলেন চিদম্বরম।

তিনি আরও বলেন, " সার্বিকভাবে যে সামাজিক অবক্ষয় ঘটেছে এই সরকারের আমলে, তার তুলনায় অর্থনীতির ক্ষেত্রের ক্ষতগুলোর উপশম করা তুলনায় অনেক সহজ"।

(এনডিটিভি এই খবর সম্পাদিত করেনি, এটি সিন্ডিকেট ফিড থেকে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে.)