করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ত্রাণ ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

Coronavirus: এই ত্রাণ প্যাকেজের ঘোষণা করা হয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সরাসরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের স্বস্তি দেওয়ার জন্যে, বলেন নির্মলা সীতারামন।

করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ত্রাণ ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

Coronavirus Lockdown: ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে গোটা দেশে, সেই আর্থিক ক্ষতি রুখতেই সাহায্য ঘোষণা

হাইলাইটস

  • করোনার জেরে আর্থিক ক্ষতি সামলাতে ত্রাণ প্য়াকেজ ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
  • নির্মলা সীতারামন মোট ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেন
  • লকডাউনের জেরে দেশের অর্থনীতি বেসামাল, পাশে দাঁড়াল সরকার

করোনা পরিস্থিতির জেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির (Coronavirus) সঙ্গে যুঝতে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ত্রাণ ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর (Nirmala Sitharaman)। দেশের দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জন্যে এই সময় নগদ ও খাদ্যে ভর্তুকি দেবে মোদি সরকার, জানালেন নির্মলা সীতারামন। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগেই বেশ কিছুটা শ্লথ ছিল ভারতীয় অর্থনীতি। তারই মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা এই করোনা ভাইরাস। ফলে এই মারণ ভাইরাস ঘা দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ডে, তাই গোটা পৃথিবীর মতো ধুঁকছে ভারতের অর্থব্যবস্থাও। এর আগেও ভারতীয় বাজারে টাকার জোগান অক্ষুন্ন রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এবং আরবিআই। সেই মতোই এবারও এগিয়ে এলেন মোদি সরকারে অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন যে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতেই লকডাউন করা হয়েছে, আর এর জেরে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থ রক্ষায় পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্রীয় সরকার।

করোনা রুখতে প্রধানমন্ত্রীর লকডাউন পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেন সনিয়া গান্ধি

টানা ৩ সপ্তাহের এই লকডাউন দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে খেলে দেবে, বলছিলেন অনেকেই। অনেক অর্থনীতিবিদই করোনার জেরে হওয়া তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কট সম্পর্কে সতর্ক করেছেন দেশের সরকারকে। মনে করা হচ্ছে এর বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে বার্ষিক জিডিপি ক্ষেত্রেও।

দিল্লির করোনা পজিটিভ চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা ৯০০ জন কোয়ারান্টাইনড, বাড়ছে আতঙ্ক!

ঠিক কী কী ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী আসুন দেখে নিই:

দেশের দরিদ্রদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশেষ একটি আর্থিক প্যাকেজ

এই সাহায্যপ্রাপ্তদের মধ্যে শহর ও গ্রামের দরিদ্র মানুষজন ছাড়াও রয়েছেন অভিবাসী শ্রমিকও

কেউ খালি পেটে থাকবেন না, মিলবে সরকারি সাহায্য

যে আর্থিক ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তার পরিমাণ হল ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা

যাঁরা নিজের জীবন ঝুঁকি নিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে কাজ করছেন তাঁদের জন্যে জন প্রতি ৫০ লক্ষ টাকার মেডিকেল বিমা কভারেজ

এর মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, প্যারামেডিক / স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ে কাজ করা আশা কর্মীরা

এতে ২০ লক্ষ শ্রমিক লাভবান হবেন

প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ প্রকল্পের আওতায় এই ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের ফলে উপকৃত হবেন ৮০ কোটি মানুষ

দেশের দরিদ্র শ্রেণির মানুষেরা রেশনে যে বরাদ্দ পাচ্ছিলেন তা তো পাবেনই পাশাপাশি আগামী তিন মাস ৫ কেজি করে চাল অথবা ৫ কেজি করে গম পাবেন

কোনও গরিব মানুষকেই খাবার ছাড়া থাকতে হবে না

সরাসরি বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) প্রকল্পের আওতায় দরিদ্রদের জন্যে নগদ স্থানান্তর করা হবে

মনরেগায় মজুরি বৃদ্ধি; ১৮২ টাকা থেকে বেড়ে ২০২ টাকা

এতে পাঁচ কোটি লোক উপকৃত হবেন, আয়ের পরিমাণ ২ হাজার টাকা করে বাড়বে

দেশের দরিদ্র প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও বিধবাদের জন্যে ডিবিটি-র মাধ্যমে দুটি কিস্তিতে আরও এক হাজার করে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হবে

এর ফলে লাভবান হবেন আরও তিন কোটি মানুষ

এছাড়া ২০.৫ কোটি জন ধন অ্যাকাউন্ট, যা মহিলাদের নামে আছে সেগুলিতে ডিবিটি-র মাধ্যমে মাসে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে জমা পড়বে

১০০ জন কর্মচারী নিয়ে গঠিত কোনও  প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরবর্তী তিন মাসের জন্য ইপিএফের টাকা (নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীদের ১২%) ভর্তুকি দেবে সরকারই, তবে এই সুবিধা পাবেন তাঁরাই যাঁদের আয় মাসিক ১৫ হাজার টাকার কম। এর ফলে উপকৃত হবেন ৮০ লক্ষ শ্রমিক ও ৪ লক্ষ সংগঠন।