This Article is From Jun 24, 2019

মেয়াদ শেষের আগেই ইস্তফা দিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্য

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্য তাঁর মেয়াদ শেষের ছ’মাসেরও আগে ইস্তফা দিলেন। সূত্রানুসারে এমনটাই জানা যাচ্ছে।

উর্জিত প্যাটেল গভর্নর হিসেবে যোগ দেওয়ার পরে চারজন ডেপুটি গভর্নরের অন্যতম হিসেবে বিরল আচার্য ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে যোগ দিয়েছিলেন।

হাইলাইটস

  • Viral Acharya's term was scheduled to end in February next year
  • He was appointed as one of four deputy governors at RBI in December 2016
  • RBI had last year denied speculation about Viral Acharya leaving early
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্য তাঁর মেয়াদ শেষের ছ’মাসেরও আগে ইস্তফা দিলেন। সূত্রানুসারে এমনটাই জানা যাচ্ছে। ছ’মাস আগে বিরলের প্রাক্তন ‘বস’ উর্জিত প্যাটেল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতির কারণেই তিনি ওই পদক্ষেপ করেছিলেন। এবার সরে গেলেন বিরলও। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের আর দু’সপ্তাহ বাকি। এদিকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার গত পাঁচ বছরের হিসেবে সবথেকে কম অবস্থানে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে ইস্তফা দিলেন বিরল।

জেনে নিন এ বিষয়ে জরুরি ১০টি তথ্য:

  1. ৪৫ বছরের বিরল আচার্য আগস্ট থেকে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টার্ন স্কুল অফ বিজনেস অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সংবাদপত্র থেকে তেমনটাই জানা যাচ্ছে। বিরলের মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

  2. রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এগজিকিউটিভ অধিকর্তা মাইকেল পাত্র এবং অর্থ মন্ত্রকের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালের মধ্যে কেউ বিরলের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

  3. গত ডিসেম্বরে উর্জিতের পদত্যাগের পরে বিরলেরও দ্রুত পদত্যাগের জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া।

  4. সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য তৈরি হওয়ার পরে উর্জিত প্যাটেল পদত্যাগ করেন। তাঁর সঙ্গে সরকারের সঙ্গে মতানৈক্যের অন্যতম একটি বিষয় ছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বশাসন। উর্জিতের ইস্তফার পরে শক্তিকান্ত দাস নতুন গর্ভনর হিসেবে নিযুক্ত হন।

  5. অক্টোবরে সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির সূচনা হয় বিরল আচার্যের বক্তৃতার মধ্যে দিয়ে। বিরল জানিয়েছিলেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বাধীনতার বিরোধিতা করলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্বাধীনতা সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

  6. সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল শেয়ার হয়েছিল বিরলের সেই বক্তৃতা। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘সরকার যদি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্বাধীনতাকে সম্মান না করে তাহলে এখনই হোক বা পরে, অর্থনৈতিক বাজারকে ভারাক্রান্ত করবে, অর্থনীতিতে আগুন ধরে যাবে। তখন অনুতাপ হবে সেই দিনটার জন্য যেদিন এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরুত্বকে অস্বীকার করা হয়েছিল।''

  7. বিরল আচার্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তৎকালীন গভর্নর উর্জিত প্যাটেলকে ধন্যবাদ দেন এমন একটি বিষয়কে বক্তব্যে তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়ার জন্য। 

  8. ওই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার ফলে সরকারের সঙ্গে মতানৈক্য আরও স্পষ্ট হয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। সরকার চাইছিল নির্বাচনের বছরে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কেন্দ্রী। ব্যাঙ্কের অর্থভাণ্ডারে থাকা ‘রিজার্ভ ক্যাশ'কে মুক্ত করতে। 

  9. বিরোধীরা সরকারকেই দায়ী করেছিল উর্জিত প্যাটেলের পদত্যাগের জন্য। অভিযোগ এনেছিল, তারা সংস্থাটিকে ধ্বংস করছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরযেওয়ালা টুইট করে জানিয়েছেন, বিরলের পদত্যাগ সেই দীর্ঘ তালিকারই অংশ, যেখানে আগেই ৪ জন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, দু'জন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর ও নীতি আয়োগের ভাইস চ্যান্সেলরের নাম রয়েছে। এই সব পদত্যাগের ঘটনা থেকে বিজেপি আমলের ‘সত্যের আয়নার প্রতিফলন'ই ফুটে উঠছে বলে দাবি করেন তিনি।

  10. উর্জিত প্যাটেল গভর্নর হিসেবে যোগ দেওয়ার পরে চারজন ডেপুটি গভর্নরের অন্যতম হিসেবে বিরল আচার্য ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে যোগ দিয়েছিলেন।