পরিযায়ীদের হাতে নগদ টাকা দেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে: সরকারি সূত্র

Migrant Workers: করোনা লকডাউন পরিস্থিতিতে যাতে দেশের দরিদ্রশ্রেণির হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া যায় তাই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে

পরিযায়ীদের হাতে নগদ টাকা দেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে: সরকারি সূত্র

Coronavirus Lockdown: দেশের মানুষের হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা চলছে বলে খবর

হাইলাইটস

  • করোনা ভাইরাস ভারতে মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে
  • এর থেকে বাঁচতে লকডাউন জারি হওয়ায় দেশের অর্থনীতি ধুঁকছে
  • পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা ঘোঁচাতে নগদ টাকা দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে

করোনা (COVID- 19) সঙ্কটের সময় টানা লকডাউনের জেরে যখন সারা ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ধুঁকছে, তখন আরও খারাপ হয়েছে দেশের দিন আনি-দিন খাই মানুষের অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে (Coronavirus) দেশের দরিদ্র শ্রেণির মানুষের হাতে নগদ অর্থ প্রায় নেই বললেই চলে। বহু মানুষ লকডাউনের সময় তাঁদের চাকরি হারিয়েছেন। ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে গিয়ে লকডাউনে আটকে পড়ে অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Workers) কপর্দকশূন্য হয়েছেন। দেশের এই দরিদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ তথা পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়ার ব্যাপারে তাই এবার ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্রীয় সরকারও। অর্থমন্ত্রকের একটি সূত্র NDTV-কে জানিয়েছে যে, এই বিষয়ে নাকি জোর আলোচনা চলছে সরকারের অন্দরমহলে। দেশের বর্তমান অর্থনীতি প্রায় স্থবির পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আরও বেশি করে আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করছেন সকলেই। 

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার এখনও আর্থিক ঘাটতি মেটাতে নতুন করে টাকা ছাপানোর বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও জানিয়েছে একটি সূত্র। প্রয়োজনে পরে এবিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও খবর।

করোনার প্রভাব বাড়ছে, অমিত শাহের সঙ্গে লকডাউন নীতি নিয়ে আলোচনায় উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী

গত ৩ মাসে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি প্রায় নেই বললেই চলে। জিডিপি সম্পর্কিত সরকারি তথ্যে জানা যাচ্ছে যে, গত ত্রৈমাসিকে শেষ দুই বছরের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সবচেয়ে ধীর গতির থাকবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতিমধ্যেই ধুঁকছে দেশের শেয়ার বাজার। বেসরকারি বিনিয়োগও প্রায় নেই বললেই চলে।

১ জুন থেকে খুলছে মন্দির-মসজিদ-গির্জা, ৮ জুন থেকে খুলছে সমস্ত অফিস: মুখ্যমন্ত্রী

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থনীতিবিদদের একটি সমীক্ষায় মার্চ মাসের প্রান্তিকে দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এদিকে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রককে এই লকডাউনের সময় দেশের মানুষের চাকরি হারানো এবং বেতন কাটা সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর। 

করোনা ভাইরাস ক্রমেই জাঁকিয়ে বসেছে ভারতে। এর থেকে বাঁচতে লকডাউন জারি করায় দেশের সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো রীতিমতো ধুঁকছে। এই লকডাউনের কারণেই বেশ কয়েকটি সংস্থা গত কয়েক সপ্তাহে তাদের কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা ঘোষণা করেছে। ফলে অসহায় হয়ে পথে বসেছেন বহু মানুষ।

বেসরকারি সংস্থাগুলোতে যেভাবে ছাঁটাই হয়েছে তা দেখে মাথায় হাত সকলের। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমিক নামে একটি সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুসারে গত এপ্রিল মাসে সারা দেশে প্রায় ১২.২ কোটি শ্রমিককে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে।