"ব্যাঙ্ক-বিরোধী কোনও পোস্ট করা যাবে না", কর্মীদের কড়া বার্তা পাঠাল এসবিআই

ব্যাঙ্ক-বিরোধী কোনও মন্তব্য সোশাল মাধ্যমে করা যাবে না। শুক্রবার কর্মীদের প্রতি এই বার্তা দিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই।

ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনের সংস্থা ইউএফবিইউ সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছে, "একমাত্র এসবিআই এই ধরনের কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে কর্মীদের।" (ফাইল ছবি)

হাইলাইটস

  • সোশাল মাধ্যমে পোস্টের ক্ষেত্রে সংযত থাকতে হবে
  • কর্মীদের বার্তা পাঠাল এসবিআই। "ব্যাঙ্ক-বিরোধী পোস্ট করা যাবে না'
  • এই মর্মে জিএম-দের নির্দেশিকা পাঠিয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাঙ্ক
কলকাতা:

ব্যাঙ্ক-বিরোধী কোনও মন্তব্য সোশাল মাধ্যমে করা যাবে না। শুক্রবার কর্মীদের প্রতি এই বার্তা দিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই (SBI)। আর্থিক নীতি, পরিচালন পদ্ধতি ও ব্যাঙ্কের ভাবমূর্তির পরিপন্থী কোনও পোস্টই করতে পারবেন না কর্মীরা।  ব্যাঙ্কের প্রতিটা সার্কেলের মুখ্য জেনারেল ম্যানেজারকে (GM) এই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর ব্যাঙ্ক এসবিআই। এই ধরনের কোনও পোস্ট চোখে পড়লেই অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া আছে সেই চিঠিতে। সেই চিঠির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ব্যাঙ্কের এক সূত্র বলেছে, "আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি কিছু সোশাল মাধ্যমের পোস্টে (Social Media Post) বিভ্রান্তি ছড়ান হয়েছে। ব্যাঙ্কের শাখা ও লেনদেন আদৌ কাজ করবে কিনা, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমন অনেক পোস্ট নজরে এসেছে, যেখানে উল্লেখ করোনা সংক্রমণের জেরে বন্ধ ব্যাঙ্কের কাজ। খুব কম পোস্টেই এই বিপর্যয়ের সময়ে ব্যাঙ্ককর্মীদের অবদানকে কুর্নিশ জানানো হয়েছ।" 

হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার তাবলিগি সদস্যদের, কড়া আইনে শাস্তির সুপারিশ

জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের দু'জন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক-বিরোধী পোস্টের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে অনেক কর্মী এই পদক্ষেপের সমালোচনায় সরব বলে সূত্রের খবর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মীর দাবি, "একটা গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে সংবিধান আমাদের নানা অধিকার দিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম বাক-স্বাধীনতা। সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারায় এই প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে। ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা সেই ধারার পরিপন্থী। সংস্থার প্রতি মানহানিকর কোনও মন্তব্য কিংবা সংস্থা-বিরোধী অবস্থান না নিয়ে, কর্মীদের দুর্দশার কথা সোশাল মাধ্যমে লেখাই যায়।"

করোনা সংক্রান্ত ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ!

ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনের সংস্থা ইউএফবিইউ সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছে, "একমাত্র এসবিআই এই ধরনের কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে কর্মীদের।"এ বিষয়ে কলকাতা সার্কেলের জিএম রঞ্জন মিশ্র বলেছেন, "আমাদের নির্দিষ্ট সোশাল মিডিয়া বিধি আছে। কর্মীদের সেটা মেনে চলতেই হবে। অন্যথায় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ আছে।" কয়েকজন কর্মীকে সোশাল মিডিয়াতে মুখ খোলার জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। পিটিআইয়ের তরফে এই প্রশ্ন করা হলে ওই ব্যাঙ্ককর্তা বলেন, " এটা ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত।" তাঁর দাবি, "বিপর্যয়ের সময়ে গ্রাহক স্বার্থ নিশ্চিত করতে সফল এসবিআই। আধিকারিক ও কর্মীদের মধ্যকার সমন্বয় ও সহযোগিতা এই সাফল্যে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।"