করোনা ভাইরাসের প্রকোপে গত মার্চে কর্মসংস্থানের হার সর্বাপেক্ষা কম, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

CMIE জানিয়েছে, দেশের কর্মসংস্থান বিপুল হারে হ্রাস পেয়েছে, জানুয়ারিতে যেখানে ছিল ৪২.৯৬ শতাংশ, সেখানে মার্চে তা কমে ৪১.৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে

করোনা ভাইরাসের প্রকোপে গত মার্চে কর্মসংস্থানের হার সর্বাপেক্ষা কম, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

এই মাসের শুরুতে, ফিচ রেটিং অনুযায়ী, ২০২১ সালের আর্থিক বছরে ভারতের জিডিপির হার ২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে

CMIE জানিয়েছে, দেশের কর্মসংস্থান বিপুল হারে হ্রাস পেয়েছে, জানুয়ারিতে যেখানে ছিল ৪২.৯৬ শতাংশ, সেখানে মার্চে তা কমে ৪১.৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে 2nd Excerpt- মঙ্গলবার মুম্বইয়ে অবস্থিত দেশের অর্থনৈতিক থিংক-ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি (CMIE) জানিয়েছে, ভারতের কর্মসংস্থানের (Employment) হার মার্চ মাসে সর্বকালের সর্বনিম্ন অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে। ওই সংস্থা তার সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানিয়েছে, সক্রিয় কর্মীদের শ্রমে অংশগ্রহণের হার বা এলপিআর এই প্রথম ৪২ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। মার্চ মাসে দেশের শ্রমিকদের কাজে অংশগ্রহণের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪১.৯০ শতাংশ। এই সময় দেশে কাজ হারিয়েছেন (Joblessness) বহু মানুষ। ফলে দেশে এই সময় কর্মসংস্থানে হার এসে দাঁড়িয়েছে সর্বকালের সর্বনিম্ন ৩৮.২০ শতাংশে। দেশে করোনা (Coronavirus) সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তে রোধে টানা ২১ দিনের লকডাউন চলছে। ফলে বন্ধ সমস্ত অফিস এবং কলকারখানা সহ যাবতীয় কর্মসংস্থা। মনে করা হচ্ছে এই লকডাউনের ফল সর্বকালের সর্বনিম্ন এই কর্মসংস্থানের হার।

Here are 10 things to know:

  1.  মুম্বইয়ে অবস্থিত দেশের অর্থনৈতিক থিংক-ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির প্রধান মহেশ ব্যাস লিখেছেন, "গত দু'বছর ধরে স্থিতিশীল থাকার জন্যে একটানা লড়াইয়ের পরে মার্চ মাসে এটি (এলপিআর) ফের খারাপ অবস্থার সম্মুখিন হয়েছে বলে মনে হয়। এর অবস্থার অবনতি হয়েছে"।

  2.  CMIE জানিয়েছে, দেশের কর্মসংস্থান বিপুল হারে হ্রাস পেয়েছে, জানুয়ারিতে যেখানে ছিল ৪২.৯৬ শতাংশ, সেখানে মার্চে তা কমে ৪১.৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কর্মসংস্থানের সংখ্যা ৪১১ মিলিয়ন থেকে নেমে ৩৯৬ মিলিয়ন হয়েছে, দেশে বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সিএমআইইয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেকারত্বের সংখ্যা একলাফে ৩২ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৩৮ মিলিয়নে পৌঁছেছে।

  3.  "২০২০ সালের মার্চে দেশে শ্রমের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক এবং গত দুই সপ্তাহে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে", বলেন সিএমআইইয়ের প্রধান মহেশ ব্যাস।

  4.  "করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে দেশ জুড়ে টানা লকডাউন চলছে, ফলে বন্ধ রয়েছে সমস্ত কলকারখানা-অফিস-আদালত। এর ফলে শ্রমজীবী মানুষদের কাজে অংশগ্রহণের হার হ্রাসের আশঙ্কা করছি। তবে, এই নিম্নমুখী অবস্থা লকডাউনের আগে থেকেই হয়েছিল বলে মনে হয়" , একথাও বলেন সিএমআইই কর্তা। "এরপর আবার এই লকডাউন হওয়ায় এই পরিসংখ্যানের আরও অবনতি হয়"।

  5.  দেশের এই শ্রমশক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন কর্মসংস্থানযুক্ত সমস্ত ব্যক্তি এবং সেই ব্যক্তিরাও রয়েছেন যাঁরা এখনও বেকার, বা যাঁরা চাকরির সন্ধান করছেন।

  6.  "একটা বিরাট বড় সংখ্যক মানুষকে নিয়ে এই পরিসংখ্যান এবং এতে কিছু কম-বেশি হতে পারে", একথাও অবশ্য লেখেন ব্যাস।

  7.  তিনি একথাও বলেন যে স্পষ্টতই এই "কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস হয়েছে এবং ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে দেশের বেকারত্বের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে"।

  8. এমনিতেই ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউনের আগেও দেশের অর্থনীতি দীর্ঘকাল ধরেই ধীরগতিতে চলছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্যে সরকারি অনুমান, জিডিপির বার্ষিক হার ৫ শতাংশ ছুঁতে পারে - যা কিনা ২০০৮-০৯ সালে গোটা বিশ্বে যে বিরাট মাপের আর্থিক সঙ্কট হয়েছিল তারপর থেকে সবচেয়ে কম।

  9.  অনেকেই বলছেন, এমনিতেই দেশের অর্থনীতি ধুঁকছিল। তার উপর আবার এই করোনা ভাইরাসের উপদ্রব। সব মিলিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতি।

  10. এই মাসের শুরুতে, ফিচ রেটিং অনুযায়ী, ২০২১ সালের আর্থিক বছরে ভারতের জিডিপির হার ২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে - যা গত ৩০ বছরের মধ্যে অর্থনীতির সবচেয়ে ধীর গতি। এর আগে, মুডি'স ইনভেস্টরস সার্ভিস ২০২০ সালে দেশের গড় বৃদ্ধির হার ৫.৩ শতাংশের তুলনায় কমিয়ে ২.৫ শতাংশে করে দিয়েছিল। শুধু আমাদের দেশই নয়, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনা ভাইরাস মহামারী রূপে দেখা দেওয়ায় গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব পড়েছে।