ভোডাফোন-এয়ারটেলের জন্য ৪৫,০০০ কোটি টাকার ছাড় ঘোষণা করল কেন্দ্র

Telecom Industry: ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়ের পাশাপাশি সরকার গঠিত একটি কমিটি টেলিকম শিল্পকে সহায়তা করার জন্য অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চালাবে

ভোডাফোন-এয়ারটেলের জন্য ৪৫,০০০ কোটি টাকার ছাড় ঘোষণা করল কেন্দ্র

কেন্দ্রীয় সরকারের কর ছাড়ের সাম্প্রতিক ঘোষণায় অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল টেলিকম সংস্থাগুলি। টেলিকম সংস্থাগুলিকে স্বস্তি দিতে স্পেকট্রামের মূল্য দু'বছরের জন্য মকুব করার অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বলা হয়েছে, ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবর্ষের মূল্য দেরীতে শোধ করার পদক্ষেপে ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel), ভোডাফোন-আইডিয়াকে (Vodafone Idea) ৪২,০০০ কোটি টাকার ছাড় দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এক উর্ধ্বতন সরকারি আধিকারিক সাংবাদিকদের জানান যে, টেলিকম সংস্থাগুলিকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা কর ছাড়ের পাশাপাশি সরকার গঠিত একটি কমিটি টেলিকম শিল্পকে (Telecom Industry) সহায়তা করার জন্য অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চালাবে।

এমনিতেই এখন ধুঁকছে টেলিকম শিল্প। তার উপর গত মাসে আদালত সরকারকে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্যে টেলি সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেয়। এর ফলে ১৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ফি দিতে হত তাঁদের। কিন্তু দেশের টেলিকম শিল্পকে সহায়তার জন্য টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলির কাছ থেকে সরকার দুই বছরের জন্য স্পেকট্রামের পেমেন্টকে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

বুধবার নয়াদিল্লিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ধার্য এই কর আদায়ে দু'বছরের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। তিনি বলেন, তবে এয়ারওয়েভ নিলামে নির্ধারিত সুদের অর্থ প্রদান অব্যাহত থাকবে।

"কোনও সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ হোক চাই না": টেলিসংস্থার দুরবস্থায় বললেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামান বলেন, সচিবালয়ের অনুমোদন অনুযায়ী, যে অর্থ স্থগিত রাখা হল, তা সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেলিকম পরিষেবা সংস্থাগুলির দেওয়া কিস্তিতে। তিনি জানান যে, নিলামের সময়ে নির্ধারিত সুদ, নেওয়া হবে, যাতে দেওয়া অর্থের এনপিভি (NPV)  বা গড় বর্তমান মূল্য বজায় থাকে।

পরিবর্তিত দেয় অর্থের জন্য টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আসলে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে দেশের টেলিকমিউনিকেশন শিল্পে টিকে থাকা সংস্থাগুলিকে সংরক্ষণে সহায়তা করতে চান। কেননা আগে যেখানে দেশে প্রায় এক ডজন টেলিকম সংস্থা ছিল, সেখান থেকে কমে এখন তা মাত্র তিনটি বেসরকারি সংস্থায় পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালে বিলিওনিয়ার মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বে রিলায়েন্স জিও ইনফোকম লিমিটেড আসার ফলে জোর প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে এয়ারটেল এবং ভোডাফোন।

 স্পেকট্রামের মূল্যে ব্যাপক স্বস্তি টেলিকম সংস্থাগুলিকে

গত মাসেই সুপ্রিম কোর্ট রাজস্ব কমানোর বিষয়ে টেলি যোগাযোগ সংস্থাগুলির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতরকে (ডিওটি) বিভিন্ন টেলিকম সংস্থার কাছ থেকে বকেয়া ১.৪২ লক্ষ কোটি টাকা আদায়ের অনুমতি দেয়। দিন দুয়েক আগে কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে টেলি সংস্থাগুলিকে বকেয়া পরিশোধ করার কথা বলে নোটিস জারি করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের ফলে ভোডাফোন আইডিয়া এবং ভারতী এয়ারটেলের প্রায় ৭৪,০০০ কোটি টাকার সম্মিলিত লোকসান হয়েছে বলে জানা গেছে। ভোডাফোন জানিয়েছে, তাঁদের ৫০,৯২১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে, যা ভারতে ব্যবসা করা কোনও কর্পোরেট সংস্থার সর্বকালের ত্রৈমাসিক ক্ষতি, পাশাপাশি এয়ারটেলের ক্ষতি হয়েছে ২৩,০৪৫ কোটি টাকা।

More News